# ফাঁকা শহরে সন্তোষ জনগণের
যানজট নারায়ণগঞ্জবাসীর নিত্য যন্ত্রণার সঙ্গী। আর এর সাথে মরার উপর খারার ঘা হিসেবে শহরবাসীর এই যন্ত্রনার সাথে যোগ হয়েছে হকার সমস্যা। হকাররা ফুটপাত দখল করে রাখার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ পথচারীদের পথ চলায় সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে হকাররা শুধু ফুটপাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, দখল করে নিয়েছে যানবাহন চলাচলের প্রধান সড়কের বিভিন্ন জায়গাও।
এর ফলে সড়কের যেসব জায়গা দিয়ে যানবাহন চলাচলের কথা সেখান দিয়ে বাধ্যই হয়ে এখন হাটছে মানুষ। যা যানজটের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলেছে। একই সাথে সিএনজি, অটো ইজিবাইকসহ একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণসহ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার ট্রেন চলাচলের সিগ্যনাল যানজটের অন্যতম কারণ।
এর মধ্যে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কিছু করার না থাকলেও হকার এবং অবৈধ স্ট্যান্ড বন্ধে এবং শহরে অবৈধ রিকশা প্রবেশ করতে না দেয়ার বিষয়ে পুলিশের কানামাছি খেলার দৃশ্য কম দেখেনি নারায়ণগঞ্জবাসী। হকার এবং অবৈধ যানবাহন চলাচলের বিষয়ে প্রশাসনের অসহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তবে যানজট এবং হকার এই দুটি সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করা, রাজনীতির মাঠ ঘোলা করাও কম হয়নি। এবার রোজাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের কারিশমায় প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ চাইলে সবই পারে। কেননা সাংসদ সেলিম ওসমান পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা দিয়েছেন।
আর এরপর থেকেই শহরে পুলিশের ভূমিকা ও যানজটের দৃশ্য পাল্টে যেতে শুরু করে। এতে একদিকে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ছে শহরবাসী, অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসাও করে সাধুবাদ জানাচ্ছেন তারা। এ সময় পরিবহন শ্রমিকসহ সবার মুখে একই কথা ‘পুলিশ চাইলে সবই পারে’।
স্বাভাবিকভাবে যানজট নারায়ণগঞ্জবাসির নিত্যদিনের সমস্যা। আর রমজানের সময় এই যানজটের ভোগান্তি আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এ সময় রোজা উপলক্ষে ইফতার সামগ্রীসহ ঈদকেন্দ্রীক বাজার গুলো করার জন্য সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও চলাচল বৃদ্ধি পায়।
যানজটের মূল কারণগুলো অর্থাৎ হকার বসা, অবৈধ স্ট্যান্ডে সড়ক দখল করা এবং মূল শহরে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও রিকশা প্রবেশ নিষেধ থাকলেও অভিযোগ আছে পুলিশ টাকার বিনিময়ে তাদের শহরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে।
কিন্তু এবার এমপি সাহেবের দশ লাখ টাকা প্রদানসহ যানজট নিরসনের কাজ করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধা জানানোর পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সর্বোচ্চ মহল থেকে শুরু করে সকল স্তরের ভূমিকা কঠোর থাকায় শহরের ফুটপাত যেমন সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত হচ্ছে তেমনি মূল শহরে অবৈধ পরিবহনগুলো প্রবেশ করতে না দেয়ায় রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা অর্থাৎ যানজটমুক্ত হয়েছে। ফলে যাত্রী সাধারণসহ শহরবাসী দ্রুত সময়ে এবং নির্ঝঞ্ঝাট চলাফেরা করতে পারছে।
এ বিষয়ে বুধবার বিকেলে এক ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিবছর রোজার সময় যাটজটের কারণে ব্যাংকের কাজ সেরে বের হয়ে বাসায় যেতে যেতে ইফতারের সময় হয়ে যেত। আবার কখনও কখনও বাড়িতে প্রবেশের আগেই ইফতারের সময় হয়ে যেত। কিন্তু এবছর সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এখন বাসায় ফিরে ফ্রেশ হওয়ার পরও ইফতারের আগে কিছুটা সময় পাই।
গার্মেন্টস সুপারভাইজার আলমগীর জানান, তিনি কাশিপুর ভোলাইল এলাকার একটি গার্মেন্টস কোম্পানীর সুইং সুপারভাইজার। রোজার সময় কারখানা থেকে তিনি বিকাল ৪টায় বের হন। প্রতিবছর একই সময় বের হয়ে তার গোদনাইল আরামবাগ এলাকায় বাসার ফেরার সময় যানজট নিয়ে চিন্তা করতে হতো।
ঠিক সময় বাসায় পৌছাতে পারবেন কি না? কিন্তু এবার তাকে সে বিষয়টি ভাবাচ্ছে না। কারণ কাশিপুর থেকে দুই নাম্বার রেল গেট আসতে সময় লাগে। এরপর থেকে যানজট না থাকায় তিনি স্বল্প সময়েই বাসায় পৌছাতে পারছেন।
উল্লেখ্য, রোজার আগে গত ৩০ মার্চ বুধবার দুপুরে এমপি সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ৩টি চেকের মাধ্যমে ১০লাখ টাকা তুলে দেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ সময় এমপি রমজান মাসে যেন নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে না হয় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের প্রতি সে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন।
একই সাথে ফুটপাতে যেন কোন দোকানপাট বসতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এমপি বলেন, মাত্র দুই তিনশ মানুষের জন্য হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ কাম্য নয়। এ সময় তিনি সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডের নেতৃবৃন্দ, বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট পরিচালনাকারী কমিটির প্রতিও সাধারণ মানুষসহ যাত্রীদের যেন কোন প্রকার দুর্ভোগ না পোহাতে হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানান।


