মহাসড়কে সিএনজি সেক্টরের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক মিঠু
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে সিএনজিতে ষ্টিকার লাগিয়ে মিঠু চৌধুরি নামে এক ব্যক্তি চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তাকে চাঁদা দিয়ে দাপটের সাথে মহাসড়কে চলাচল করছে এসব নিষিদ্ধ সিএনজি। হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজের দেওয়া ষ্টিকার লাগিয়ে অবাধে চলছে সিএনজি।
সিএনজি চলাচলের রোড পারমিট চাঁদাবাজদের ষ্টিকার। সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্তত ৪ শতাধিক সিএনজি চলছে মিঠু চৌধুরীর দেয়া ষ্টিকারে। বিনিময়ে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে মাসিক প্রতি গাড়ি থেকে ১৫০০ টাকা করে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে এই মিঠু চৌধুরী। রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না স্থানীয় প্রশাসন। জানা যায়, মিঠু চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা এলাকায়। বর্তমানে সে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি তেরা মার্কেট এলাকায় ভাড়া থাকে।
এক সময় সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডে কাসসাফ মার্কেটে গেঞ্জির দোকানে চাকুরি করলেও সিএনজি পরিবহন নিয়ন্ত্রন করে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে বর্তমানে বিত্তশালী হয়ে উঠেছে। তার নিয়ন্ত্রনে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা, গাউছিয়া, কাঞ্চন, রাজধানীর ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর, চাষাঢ়া ও শিমরাইল মোড় চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর অভ্যন্তরে চলছে ৪ শতাধিক অবৈধ ও নিষিদ্ধ যানবাহন সিএনজি।
এসব অবৈধ ও নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়মিত রাখতে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা ট্রাফিক পুলিশ ও বিভিন্ন থানা পুলিশের নামে মিঠু গাড়ি প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা মাসোহারা নিয়ে থাকে। শনিবার (৯ এপ্রিল) সকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি ড্রাইভারের সাথে কথা বলে জানা যায়,
সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো রোডের বটতলা এলাকায় সরকারী জায়গা দখল করে প্রায় ৩০০টা সিএনজি রাখা যায় এমন পজিশনে গ্যারেজ তৈরি করে মিঠু চৌধুরি গড়ে তোলে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ ও নিষিদ্ধ সিএনজি অবাধ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে রাজধানী ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, গাজিপুর ও নারায়ণগঞ্জের আইনশৃংখলা বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ ও বিশেষ পেশার মানুষকে ম্যানেজ করে থাকে।
আরেকটি সূত্র জানায়, সিএনজি চোরাই চক্রের একটি চক্রও মিঠুর শেল্টারে কাজ করে যাচ্ছে। চোরাইকৃত সিএনজি উদ্ধাররের নামে দরকষাকষি করে সিএনজি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করাই হচ্ছে এ চক্রের মূল কাজ।
সরকারী জায়গা দখল করে মিঠুর গড়ে তোলা সেই অটো গ্যারেজ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে আইনশৃংখলা বাহিনী কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ভয়ে কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলতে অথবা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো গেইট এলাকার কয়েকজন সিএনজি মালিককে নিয়ে অনিবন্ধিত,
ভুইফোড় সংগঠন নারায়ণগঞ্জ ফোরস্টোক সিএনজি মালিক সমিতি গঠন করে এই মিঠু চৌধুরী। যার কোনো অস্তিত্বও নেই। পরে হাইওয়ে ও জেলা ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন টিআই ও সার্জেন্টদের ম্যানেজ করে অবাধে চলাচলের জন্য সমিতির নামে একটি ষ্টিকার বানিয়ে সিএনজিতে লাগিয়ে মাসিক চাঁদা আদায় করতো।
এভাবে অন্তত ৪ শতাধিক সিএনজিতে ষ্টিকার লাগিয়ে মাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে মিঠু। হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে শিমরাইল মোড় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বানিয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড। একপর্যায়ে ষ্টিকারের বিষয়টি জানাজানি হলে মিঠু ষ্টিকার তুলে নেয়। বর্তমানে সে নিজেই সব জায়গায় অবাধে বিচরণ করছে।
ফলে ওইসব রুটে কোথায়ও সিএনজি আটক হলে মিঠুর নাম বললে তা ছেড়ে দেয়া হয়। অথবা ফোনে ফোনে মিঠু কথা বলে এটা তার নিষন্ত্রনে রয়েছে নিশ্চিত করে অপরপ্রান্তে।
এ বিষয়ে মিঠু চৌধুরীর বলেন, ভাই আমি এই চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত নই। আমার নিজের ৭টি সিএনজি রয়েছে। সেই সিএনজিগুলো ৪০০০ টাকা করে মান্তি দিয়ে চালাই।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদুল করিম খান বলেন, সারাদিন যানজটের ডিউটি করে ক্লান্ত রয়েছি পরে ফোন দিয়েন ।


