# এদের হাত অনেক উপরে: এলাকাবাসী
# সময় বেধে দিয়ে নোটিশ প্রদান করব : ইউএনও বন্দর
# তাদের নোটিশ এবং তাগিদ দেওয়া হয়েছে : উপপরিচালক বিআইডব্লিউটিএ
খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি নৌ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাতো ঘটেছেই, একই সাথে বড় অংকের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। তারপরও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। আর এই দুর্ঘটনাগুলোর অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো নদী দখল।
বিভিন্ন সংস্থার জরিপসহ পত্র-পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী নির্মাণাধীন ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর উত্তরাংশ থেকে শুরু করে নবীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা পর্যন্ত নদীটি খুবই ব্যস্ততম এলাকা। নারায়ণগঞ্জের প্রধান এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বন্দরটি এর কেন্দ্রে অবস্থিত। এখানে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় খেয়া ঘাট, যা বন্দর উপজেলার সাথে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
নারায়ণগঞ্জ-বন্দরের যোগাযোগের একমাত্র ফেরিঘাটটি এই সীমানার মধ্যেই অবস্থিত। এই এলাকার মধ্যে দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মেরিন টেকনোলজীসহ সরকারী-বেসরকারী জাহাজ তৈরি ও মেরামত কারখানার অবস্থান। তাছাড়াও এখানে নারায়ণগঞ্জের ডাল, চাল, লবন, গম, আটা, ময়দাসহ বিভিন্ন পাইকারী ব্যাবসার আড়ৎ। এই সব আড়ৎগুলোর নদী কেন্দ্রীক হওয়ায় এখানে নৌ-যানের সংখ্যা অনেক বেশি।
মোট কথা শীতলক্ষ্যার নদীর এই অংশটুকু খুবই সরু হওয়া সত্ত্বেও নদীর সকল ব্যস্ততা এখানেই। অন্যদিকে শীতলক্ষ্যাকে কেন্দ্র করে যেসব কারখানা, তেলের ডিপো গড়ে উঠেছে সেসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনের জন্যও ব্যবহার করা হয় এই অংশটুকুই। তারপর নিয়ন্ত্রণহীন বাল্কহেড চলাচলতো আছেই। এরই মধ্যে গত বছরের ৪ এপ্রিল এই এলাকার মধ্যেই কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের প্রাণ হানি ঘটে।
গত ২০ মার্চ প্রায় একই স্থানে লাইটার জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় প্রাণ যায় ১১ জনের। এর মধ্যে তারও প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বন্দর খেয়া ঘাটে প্রায় একই ভাবে বাল্ক হেডের ধাক্কায় একই সাথে দুটি নৌকা ডুবির ঘটনায় নিহত হয় এক কলেজ ছাত্রী। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরিটি পর পর কয়েকবার বাল্ক হেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবারই লঞ্চ ডুবির ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্দেশনা দেওয়া হলেও কখনও আকিজ গ্রুপের এই নদী দখলের বিষয়ে কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি কাউকে। এমনও সময় দেখা যায় আকিজের জেটিতে একসাথে বেশ কয়েকটি জাহাজ থাকার পর নদীর মাঝখানে বিভিন্ন জায়গায় ৪/৫টি জাহাজের গ্রুপ করে নবীগঞ্জ ফেরি ঘাটের উত্তর পাশসহ দক্ষিণপাশে কয়েকটি ভাগে নোঙর করে রাখে।
বরফকল খেয়াঘাট এলাকায় এক যাত্রি বলেন, এদের হাত অনেকে উপরের লেভেলে। তাদের বিরুদ্ধে কিছু লিখে কোন লাভ হবে না। দেখেন না, এই একবছরের মধ্যে এতগুলো দুর্ঘটনা ঘটলো, এত মানুষ মারা গেল, তবুও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন ভূমিকা রেখেছে। তারাও কি কখনও এসব বিষয়ে কখনও মাথা ঘামিয়েছে, ঘামাবে না।
কারণ কে মারা গেল, কার কি ক্ষতি হলো তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। বছর জুড়ে এভাবে নদীর এই এলাকাটিতে তারা জাহাজ নোঙর করে রাখার পরও প্রশাসনের লোকেদের চোখে পড়ে না। কতটুকু ক্ষমতাবান হলে এরকম খোলামেলা জায়গা তারা সবর্ক্ষণ দখল করে রাখতে পারে তা আপনাদের বুঝতে হবে।
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে আকিজ সিমেন্ট কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসানুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম কুদরত ই খোদা জানান, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা তাদেরকে প্রথমে একটি সময় বেধে দিয়ে নোটিশ প্রদান করব। সেই সময়ের মধ্যে যদি তারা এগুলো সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা না করে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, ‘শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজ নোঙরের মাধ্যমে একটি বিরাট অংশ দখলে নেওয়া বিষয়ে তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।’


