Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গার্মেন্টস পণ্যের চোরাইচক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২৮ পিএম

গার্মেন্টস পণ্যের চোরাইচক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার
Swapno

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস পণ্য চোরাই চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। রোববার (১০ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন- রায়হান, মোঃ বিল্লাল, ফারুক,মোতালেব, কাউসার,পারভেজ এবং সোহেল।

 

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৫ মে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক এলাকার ফেইম এ্যাপারেলস লিঃ তাদের তৈরী পোষাক শিপমেন্টের জন্য বিবি খাদিজা ট্রান্সপোর্ট ও ইম্পেরিয়াল ট্রান্সপোর্টের চারটি কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করে। ওই কাভার্ডভ্যানে ফেইম এ্যাপারেলস লিঃ ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩২৯ পিস তৈরী পোষাক চট্টগ্রাম পোর্টে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ট্রান্সপোর্টের নিয়োজিত চালক ও হেলপারদের মাধ্যমে রাতে প্রেরণ করে।

 

চট্টগ্রাম পোর্টের সিএন্ডএফ কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৯ জুলাই ফেইম এ্যাপারেলস লিঃ কর্তৃপক্ষ জানতে পারে প্রেরিত কাভার্ড ভ্যানে শিপমেন্টকৃত তৈরী পোষাকের মধ্যে ৩০ হাজার ৫৪৩ পিস পোষাক কম আছে। পরবর্তীতে ফেইম এ্যাপারেলস লিঃ এর পক্ষে মোঃ জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত বছরের ১৩ জুলাই ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটির দায়িত্ব পায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ।

 

পিবিআই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকার মিরপুর, সাভারের বিরুলিয়া চট্টগ্রামের সিতাকুণ্ডু ও ফটিক ছড়ি এলাকায় গত ৩১ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল একাধিক অভিযান পরিচালনা করে চোরাই চক্রের মূলহোতা সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, গ্রেফতাররা রায়হান চক্রের সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছিল।

 

গার্মেন্টের ভাড়াকৃত কাভার্ডভ্যানের ড্রাইভারদের সুকৌশলে আসামী রায়হান বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসত। আসামী রায়হান প্রতিটি চোরাই কাজের জন্য একজন ড্রাইভারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করতো। তিনি আরও জানান, গার্মেন্টস হতে কাভার্ড ভ্যানে শিপমেন্টের মালামাল উঠলে আসামি রায়হান পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব নির্ধারিত ভাড়া করা গোডাউনে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে আসে।

 

এরপর তারা অতি অল্প সময়ে দ্রুততার সাথে পূর্ব থেকে ঠিক করে রাখা লেবার দ্বারা কাভার্ড ভ্যানের সীল ট্যাগ অক্ষত রেখে কাভার্ড ভ্যানের দরজার সিটকানির নাট খুলে গার্মেন্টেস পণ্যের এক তৃতীয়াংশ মালামাল নামিয়ে রাখে। প্রতিটি ট্রাক গোডাউনে প্রবেশ করিয়ে মালামাল সরানো বাবদ আসামি বিল্লাল ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চোরাই কাজে সহযোগিতা করার জন্য রাজি হয়।

 

আসামি বিল্লাল গ্রেফতারের পূর্বে তার ভাড়াকৃত গোডাউনে গড়ে প্রতি মাসে এমন ৫-৬ টি চোরাই কাজ সম্পন্ন করত।  তিনি বলেন, আসামিরা কার্টুনে রাখা মালামালের ওজন ঠিক রাখতে আসামীরা কার্টুনের ভিতরে সম পরিমান গার্মেন্টেস ঝুট ঢুকিয়ে পূনরায় তা প্যাকেজিং করে কাভার্ড ভ্যানে উঠিয়ে দিত।

 

সোনারগাঁয়ে আসামি বিল্লালের ভাড়াকৃত গোডাউনে কাভার্ডভ্যান থেকে নামিয়ে রাখা মালামাল পরবর্তীতে আসামি রায়হানের মাধ্যমে চক্রের মধ্যস্ততাকারী আসামি কাউসারের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হতো। মামলাটি তদন্তকালে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার ও মাতুয়াইল এলাকায় কাভার্ড ভ্যান থেকে মালামাল সরানোর কাজে ব্যবহৃত এমন একাধিক গোপন গোডাউনের সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

উক্ত রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস পণ্য সমূহ চক্রের মূলহোতা আসামি সোহেল পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিমান যোগে মালেশিয়ার পেনাং, হাংকুয়া ও কুয়ালালামপুর পাঠিয়ে দিতো। পিবিআই মামলাটি তদন্তকালে আসামি সোহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ এপ্রিল তার মিরপুরে অবস্থিত গোপন গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস পণ্য জব্দ করা হয়।

 

ওই বিষয়ে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ বাদী হয়ে চক্রের মূল হোতা সোহেলকে আসামি করে গত ৯ এপ্রিল পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ঘটনার সাথে জড়িত চোরাই চক্রের অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার কাজে জড়িত কাভার্ডভ্যান উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন