# কোটি কোটি টাকার সম্পদ পানিতে নষ্ট হচ্ছে
# এর একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে
# টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে : চীফ মেরিন
দীর্ঘদিন যাবত নদীর পারে পড়ে আছে বিআইডব্লিউটিসি’র বেশ কয়েকটি জাহাজ। এগুলোর বেশির ভাগই অর্ধেক পানিতে অর্ধেক শুকনোয়। এর মধ্যে একটি জাহাজের পুরোটাই পানির নীচে ভরা মৌসুমের সময় যার অস্তিত্বই বুঝা সম্ভব হয় না। তাই দুর্ঘটনা ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারে না। অন্যান্য জাহাজগুলো পানিতে ভাসে শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে।
আর শুষ্ক মৌসুমে থাকে ডাঙ্গার উপর। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় ৪০ বছর যাবত এগুলো এখানে বিকল হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। একদিকে বছরের পর বছর পানিতে পড়ে থেকে জাহাজের লোহাগুলো ঝং ধরে নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট এখানকার জাহাজের মালামালসহ বিভিন্ন পার্টস খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে একদিকে সরকার কোটি কোটি টাকা গচ্ছা খাচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজগুলো নদীর একটি অংশ দখল করে নেওয়ায় নদী পথে চলাচল করার নৌযান গুলো যে কোন সময় দুর্ঘটনার হুমকিতে পড়ছে। অথচ কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথাই নেই।
সরেজমিনে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ গিয়ে দেখা যায় নদীর দুই পাশেই বেশ কিছু পুরানো জাহাজ পড়ে আছে। নাসিক ১১নং ওয়ার্ড এলাকার এম সার্কাস এলাকা সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পারে পড়ে আছে বেশ কিছু জাহাজ। এই জাহাজগুলো কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ বছর যাবত এখানে পড়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এখানকার এক বাসিন্দা আহসান উদ্দিন জানান, ওনার বয়স ৬০ বছর।
ওনার যতটুকু মনে পড়ে ছোট থাকা অবস্থায়ই ওনি এগুলো এখানে দেখছেন। আগে এখানে কয়েকজন স্টাফ থাকতো বলে জানান তিনি। কিন্তু বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির একজন গার্ড এখানে থাকেন বলে জানান তিনি।
তবে একজন গার্ডের পক্ষে এগুলো দেখাশুনা করে রাখা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, এই জাহাজগুলো ভিতর গেলে আপনি কিছুই দেখতে পাবেন না। এর সবই হাওয়া গেছে। তাছাড়া এতবছর পানির নিচে পড়ে থাকলে লোহার জিনিস ঠিক থাকে নাকি।
তৈরি পোশাক কারখানার বাতিল কাপড় বা জুটের ব্যবসা করেন এবং এখান দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন এমন এক যাত্রী তৌফিক জানান, তারা এখান দিয়ে নৌকায় করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় একবার খুবই বিপদে পড়েছিলেন।
তখন বর্ষা মৌসুম থাকায় এখানকার ডুবন্ত জাহাজটির অবস্থান বুঝা সম্ভব হয়নি। সামনের দিক থেকে বলগেট (বাল্ক হেড) আসায় আমাদের নৌকাটি কিনারায় চাপিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই এখানে ফেঁসে যায়।
নৌকার সামনের দিকের এক জায়গায় ফুটো হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। পরে আরেকটি নৌকা ডেকে মাল কমিয়ে বিপদ হতে রক্ষা পাই। তখন কাছাকাছি খেয়া ঘাট থাকায় এবং খালি নৌকা পাওয়ায় সেই যাত্রায় রক্ষা পাই। এখনতো ডুবে যাওয়া জাহাজের একটি অংশ দেখা যায়।
এধরণের একাধিক জাহাজ পড়ে আছে শীতলক্ষ্যার তীর ঘেষে। প্রথম অবস্থায় যখন এগুলো মোটামুটি মেরামতের যোগ্য ছিল তখন বিক্রি করতে পারলে একদিকে ভাল দাম পাওয়া যেত অন্যদিকে নৌযান চলাচল করতে পারতো নির্বিঘ্নে। অথচ কালের বিবর্তনে এগুলোর কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে পানিতে আর যন্ত্রপাতিসহ লোহার বড় একটি অংশ গেছে স্থানীয় সিন্ডিকেটের পকেটে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি’র চীফ মেরিন (কন্সট্রাকশন) মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, আমরা এগুলো বিক্রির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এরই মধ্যে ৮টি জাহাজের জন্য একটি টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। বাকিগুলোও ধীরে ধীরে ঈদের পর থেকে শুরু করা হবে।


