Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শেষ নেই চাঁদাবাজির

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৫৪ পিএম

শেষ নেই চাঁদাবাজির
Swapno

# বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
# ঈদকে ঘিরে চাঁদাবাজি তুঙ্গে

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রায় সভা সমাবেশে বলে থাকেন এই শহরে একটি চক্র দিনের বেলায় চাদাঁবাজি করে রাতের তা ভাগাভাগি করে ঢাকায় ফিরে যায়। এই চক্রটির শেল্টার হিসেবে তিনি আখ্যায়িত করেছে এই শহরের প্রভাবশালী পরিবারকে। নগরবাসি থেকে অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরে অটো ইজিবাইক থেকে শুরু করে পরিবহন সেক্টর এবং বিভিন্ন ফ্যাক্টরীতে পর্যন্ত চাদাঁবাজি চলে।

 

এখানে যেন চাঁদাবাজির শেষ নেই। পরিবহন, ফুটপাথ, মার্কেট, ক্ষুদ্র কিংবা ভাসমান ব্যবসায়ী কারোরই যেন রেহাই নেই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থেকে। অসহায় ভুক্তভোগীরা নীরবে পূরণ করে যাচ্ছেন চাঁদাবাজদের চাহিদা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাকলড়ি কভার্ডভ্যান শ্রমিক সংগঠনসহ আরও শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েক কোটি টাকার চাদাঁবাজি চলে।


নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির পুরো বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বক্তব্য, অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়াই তাঁদের বড় শঙ্কার কারণ।

 

অভিযোগ উঠেছে, ঈদ মৌসুমে অতীতের মতোই বেড়েছে চাঁদার হার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর শিল্পপতি বা বড় ব্যবসায়ীদের মাঝে এরই মধ্যে ঈদ বখরা নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। তাদের দাবি পূরণ না করলে অনেক সময় ভুক্তভোগিদের হুমিকর মুখে পরতে হয়। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বলছেন, নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অতীতের মতো এবারও তাঁরা নীরব রয়েছেন।


একাধিক সূত্র বলছেন, শহরে কয়েক হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা। প্রতিটি ট্রাক যদি ট্রিপপ্রতি ১ হাজার টাকা করেও চাঁদা দেয় তাহলে মাসে কয়েক কোটি চাঁদা আদায় হয়। আর এসব কারণেই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে আরও অনেক খাতে চাঁদা আদায় হয়। প্রভাবশালি পরিবারের লোকজন চাদাঁ দাবী করলে তা কেউ না দিতে অস্বীকৃতি করতে পারে না।  বেশির ভাগ সময়ই ভয়ে তাঁরা দাবিকৃত চাঁদা দিয়ে থাকেন।


অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চাইলে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন নয়। তবে তাদের আন্তরিকভাবে চাইতে হবে। অবশ্য যারা বাস্তবায়নে থাকবেন তাদের ওপরও বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের ১২টি স্পটে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

 

যা মাসে দাঁড়ায় ৩ কোটি টাকা। প্রশাসেনর পুলিশ, ক্ষমতাসিন দলের নেতা কর্মীসহ পেশাদার চাঁদাবাজদের আসকারায় এই অর্থ তোলা হয়। শহরের সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় চাষাঢ়া গোল চত্বর থেকে। এই মোড়েই রয়েছে ৬ টি অবৈধ স্ট্যান্ড। চাষাঢ়া মোড় সোনালী ব্যাংক শাখা, সুগন্ধ্যা বেকারি, শান্তনা মাকের্ট, রাইফেল ক্লাবের মোড়,

 

সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এবং কলেজ রোডের সামনে থেকে চাঁদা তোলেন নুরু মিয়া ও তার ছেলে সুজন হোসেন। প্রভাবশালী এমপির অনুগত ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আশ্রয়ে তারা এখান থেকে চাঁদা তোলে। জানা যায় এই চাঁদার সিংহভাগই চলে যায় প্রভাবশালী পরিবারের অনুগত নেতাদের হাতে। এমনকি প্রভাবশালি পরিবারের সদস্যরা তার ভাগ পায় বলে জানান কয়েকটি সূত্র।


খোজ নিয়ে জানাযায়, চাষাঢ়া মোড়ের প্রায় হাজার খানেক যানবাহন থেকে দৈনিক কমপক্ষে ২ লাখ টাকা চাদাঁ উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই একটি স্পট থেকেই মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আসে। জেলার শহরে প্রবেশ করতে হলে চাষাঢ়ার এই কয়েকটি স্ট্যান্ড হয়ে চলাচল করতে হয়। প্রভাবশালী নেতাদের শেল্টারে এখানে ১০ জনের একটি চক্র চাঁদা তোলেন।

 

যা নিয়ে পরিবহন চালকরাও বিপাকে আছেন। এজন্য যাত্রীদেরকেও ভাড়া গুণতে হচ্ছে বেশী। পঞ্চবটি স্ট্যান্ড থেকে হুমায়নসহ ৫ জনের একটি চক্র দৈনিক প্রায় লাখ খানেক টাকা তুলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই স্ট্যান্ড শহরের বিসিকের সাথে একটি জনবহুল স্ট্যান্ড। এখানে প্রায় ৫শ্থেকে ৭ শ যানচলাচল করে। এই স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন হুমায়ুন নামের এক ব্যক্তি ১ লাখ টাকার উপরে চাঁদা তোলেন।

 

যার ভাগ বিভিন্ন নেতা ও জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে থানা পুলিশরাও পান বলে চালকরা জানান। এই স্ট্যান্ড থেকে মাসে ৩০ লাখ টাকা চাদা আদায় করে ক্ষমতাসিন দলের জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায়।


শহরের ব্যস্ততম খানপুর মোড়ে পুলিশের নামে চাঁদা তুলে অটো ইজিবাইক চালকদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় বলে জানা যায়। এই টাকা তুলে ওই খানপুর বা মেট্রো হল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ পরিবহন চালকদের ডেকে নিয়ে ড্রাইভারদের থেকে টাকা নিয়ে তাদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়। এখানেও প্রতিদিন প্রায় ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

 

যা গড়ে হাজার খানেক চালকদের থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাদাঁ তোলেন। এছাড়াও নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ড এবং জেলা চাদঁমারি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে বড় অঙ্কের চাদাঁবাজি চলে। এর শেল্টার দিতে হিসেবে রয়েছেন শহরের প্রভাবশালি পরিবার।


নগরীর জিমখানা সিএনজি স্ট্যান্ড বিএনপির হাসান নামের এক নেতা নাসিক থেকে টেন্ডার নিলেও এখানে ৫ জনের একটি চক্র অবৈধভাবে অটো রিকশা, অটো ইজিবাইক চালকদের থেকে লাবলু, আকাশ নামের ব্যক্তি দৈনিক পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলেন। এখানে প্রায় ৫শ অবৈধ ইজিবাইক চলাচল করে। তাদের থেকে প্রতিদিন ১শ থেকে ১৫০ টাকা নেয় একটি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ গোষ্ঠি। যার ভাগ বিএনপি নেতা হাসান পান বলে জানান কয়েক চালক। এখানে মাসে চাঁদা উঠে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।


শহরের নগর ভবনের পাশেই নিতাইগঞ্জ স্ট্যান্ড প্রায় ২০০ অটো চালকদের থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়াও গাড়ি প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে শরীফ নামের এক চাদাঁবাজকে দিতে হয়। তিনি নাসিক ১৮ নম্বরের সাবেক কাউন্সিলর মুন্না ম্যানেজ করে এই স্ট্যান্ড পরিচালনা করেন। মাসে এখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা চাদাঁ তুলেন বলেন জানান একাধিক ব্যক্তি।

 

এছাড়া নগরীর গলাচিপা থেকে টিটু নামের লাইনম্যান অটো স্ট্যান্ড থেকে টাকা নেন। তিনিও এক জনপ্রতিনিধির শেল্টারে টাকা তুলেন বলে জানান চালকরা। জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কল কেটে দেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন