# কেউ পারেনি আ’লীগে উত্তর-দক্ষিণ দ্বন্দ্ব মেটাতে
নগরীর পাশে বহতা শীতলক্ষ্যার মতোই যুগ যুগ ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরে উত্তর-দক্ষিণ দ্বন্দ্ব বয়ে চলেছে। বৃটিশ আমলে এ শহরের প্রভাবশালী তিন আলী এ দুই মেরুর দ্বন্দ্বে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরা হলেন, ওসমান আলী, আলমাস আলী ও মুজাফফর আলী।
একাত্তরে আলমাস আলীকে পাকিস্তানের দালাল উপাধি দিয়ে হত্যার পর এ দ্বন্দ্ব কিছুকাল সাময়িক বন্ধ থাকলেও স্বাধীনতার পর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিভূঁ হয়ে যথাক্রমে শামসুজ্জোহা ও আলী আহাম্মদ চুনকা দুই মেরুর নেতৃত্ব দেন। এ সময় উত্তরের দোহার হয়ে দুই বাম নেতা সফিউদ্দি খান ও জামিল আহমেদও কিছুকাল ধুয়া টেনেছেন। এদিকে জোহা ও চুনকা এ দু’নেতার মৃত’্যর পর আবারও কিছু কালের জন্য শহরে এ দ্বন্দ্ব বন্ধ ছিল।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে তা জোহা ও চুনকার উত্তরাধিকার শামীম ওসমান ও ড. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাধ্যমে আবার বিস্তার লাভ করে।
সে সময় এ দুই নেতা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে পরষ্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এ দুজনের মাঝে এ দ্বন্দ্ব এমন তিক্ততার সৃষ্টি করেছে যে তাদের মধ্যে পরষ্পরের মুখদর্শন এমন কি একস্েঙ্গ বসাও অকল্পনীয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্দ আলী মনে করেন, এ দুজনের বৈরীতা মেটানো গেলে নারায়ণগঞ্জের আরও অনেক বেশী উন্নয়ন হতো। তিনি একাধিক বার এ চেষ্টাও করেছেন, কিন্তু ফলপ্রসূ হতে পারেননি।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাই বলেছেন, উত্তর-দক্ষিণ মেরুর এ দ্বন্দ্ব এ জেলায় আওয়ামী লীগের জন্য একটি জটিল সমস্যা। আমরা এ দ্বন্দ্ব নিরসনের একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু শামীম ও আইভীর পরষ্পরের প্রতি যে মারমুখী আচরণ তার জন্য কোন উদ্যোগই সফল হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও দুজনের এহেন অবস্থানের কথা বিলক্ষণ জানেন।
গত মঙ্গলবার গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জনাব আঃ হাই তার এ আক্ষেপের কথা বলেছেন। তবে তিনি আশাবাদী, একমাত্র দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাই পারবেন এ দুজনের দ্বন্দ্ব মেটাতে। এ দুজনের দ্বন্দ্ব মিটে গেলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও বিএনপি এ জেলায় আওয়ামী লীগের কাছে কোন পাত্তাই পাবে না।
জনাব আঃ হাই আরও বলেন, এতদিন করোনার কারণে আমরা নেত্রীর সঙ্গে দেখাই করতে পারিনি। আশা করছি অচিরেই তার সঙ্গে দেখাকরতে পারবো। তখন আমরা এ বিষয়টি নেত্রীর নজরে আনবো।
শামীম-আইভী দ্বন্দ্বে তৃতীয় কোন পক্ষ লাভবান হচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ৩য় কোন পক্ষের কোন স্বার্থ আছে বলে আমি দেখি না। তবে, অনেকেই হয়তো মনে করে দুজনের এ বৈরীতা বজায় থাকলে আমার দাম একটু বাড়বে। ২০১১ সালের নাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সে নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল।
হলে, আমরা বুঝতে পারতাম শামীম, তৈমূর, আইভী তাদের কার জনপ্রিয়তা এ শহরে কতটুকু। বিএনপির একটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে তৈমূরকে শেষ মূহুর্তে বসে পড়তে হয়েছে এবং আমরাও বঞ্চিত হয়েছি এ তিন নেতার মধ্যে কার জনপ্রিয়তা কতটুকু তা জানতে।


