Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ভাবনা করার লোক নেই

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৫:২১ পিএম

ভাবনা করার লোক নেই
Swapno

# সরকারী মাল, তাই পানিতে খায়, আর সিন্ডিকেটের পকেট ভারি হয়
# তাদেরকে অনেক চিঠি লিখেছি : নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক
# সিন্ডিকেটকে ঢুকতে না দিতে বারবার টেন্ডার করছি : ড্রেজারের প্রধান প্রকৌশলী

 

বিষয়গুলো নিয়ে এর আগে অনেক কথা হয়েছে লেখালেখি হয়েছে কিন্তু তারপরও দেখেও কেউ দেখছে না। যেন এগুলো নিয়ে ভাবনার মতো কোন লোকই নেই। কিন্তু কেন নেই, সেই বিষয়টা রহস্যজনক হলেও উত্তরটা এখন একেবারেই উন্মুক্ত। কারণ, নারায়ণগঞ্জ নদীপথে যারাই নবীগঞ্জ, বরফকল কিংবা ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হন তাদের সবার চোখের সামনেই ড্রেজার অদিধপ্তরের জ্রেজারিংয়ের জাহাজগুলো পানিতে ভেসে ভেসে কাটিয়ে দিচ্ছে বছরের পর বছর।

 

এখানে পড়ে থেকে থেকে যে কয়েকটি ভাল ড্রেজার মেশিন সমৃদ্ধ জাহাজ ছিল সেগুলোও এখন চলবে কি না বা তার ভিতরের যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে নারায়ণগঞ্জবাসির। একদিকে পানিতে দীর্ঘদিন থাকার কারণে নষ্ট ও বাতিল ড্রেজারের সাথে থাকা ভাল ড্রেজারগুলোও নষ্ট হয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে, অন্যদিকে এখানকার একটি সিন্ডিকেট চক্র ড্রেজারের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে চোরাই মার্কেটে বিক্রি করে লুফিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা।

 

বনে গেছেন কোটিপতি। অথচ প্রশাসন চোখে চোখে এমনই কালো চশমা পড়ে আছেন যে, অন্য সব কিছু দেখলেও এগুলো তাদের চোখে পড়ছেই না। তার উপর নদীর একটি বিশাল অংশ দখল করে সরু শীতলক্ষ্যা নদীকে আরও সরু করে ফেলায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। সাধারণ নিরীহ মানুষের প্রাণহানিসহ কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

 

নৌযানগুলো এখান দিয়ে চলাচল করার সময় একদিকে আকিজ সিমেন্ট কারখানার আনলোড হওয়া নোঙর করা জাহাজের এবং নদীর পশ্চিম পাশে ড্রেজার অদিধপ্তরের এসব সারিবদ্ধ জাহাজের কারণে বিভিন্ন সমস্যাসহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এখানে অনেককেই দুঃখ করে বলতে শোনা যায় ‘সরকারী মাল, তাই পানিতে খায়, আর সিন্ডিকেটের পকেট ভারি হয়, অথচ এই বিষয় নিয়ে প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের কারও মাথা ঘামানো কিংবা ভাবনা করার মতো কেউ নেই’।

 

এই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাঝি জানান, আমরা যখন নদীতে বিনোদনে জন্য রিজার্ভ যাত্রী নিয়ে এদিক দিয়ে ঘুরাঘুরি করি তখন প্রায়ই দেখি এসব জাহাজের মধ্যে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভিড়িয়ে ভিতর থেকে কিছু খুলে সরিয়ে নিচ্ছে। তাকে যখন প্রশ্ন করি আপনারা কিছু বলতে পারেন না। তিনি বলেন, সরকারী জিনিস, ড্রেজারের কোন চাকরিজীবী যতি এখানে না থাকে তাহলে এগুলো সরানো এত সহজ না।

 

আমরা বলতে গিয়ে উল্টো সরকারি কেইস (মামলা) খেয়ে যাব। তাই কিছু বলার মতো সাহস আমাদের নাই। এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে ড্রেজারের জাহাজগুলো কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০বছর যাবত পানিতে অবস্থান করছে। এখানে হয়তো একটি দুটি নষ্ট ড্রেজার ছিল বাকিগুলো সব সচল ছিল। কিন্তু বর্তমানে মনে হয় একটি ড্রেজারও সচল নেই সবগুলোই অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

 

এবং এগুলোর বোশিরভাগ জাহাজের মধ্যেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া এখানকার জাহাজগুলো নদী দখল করার কারণে নদী পথের এই অংশ দিয়ে যখন একাধিক জাহাজ একসাথে চলাচল করে তখন নৌযানকে বিপদের মুখে পড়তে হয়। যার কারণে বেশ কয়েক বার এখানকার হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরিটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বেশ কয়েকবার।

 

এসব বিষয়ে কথা বললে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, এখানে অনেকগুলো ড্রেজার আছে, এগুলোর মধ্যে যদি কোন সময় কোন জাহাজ এখানে লেগে গিয়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে তা বড় রকমের সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

 

যদিও এই বিষয়টা সম্পুর্ণ আমাদের না, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের এবং বিআইডব্লিউটিসি’র। তাদেরকে আমরা অনেক রকমভাবে জানিয়েছি, অনেক চিঠি লিখেছি। এই বিষয়টি নিয়ে আপনারারও একটু কথাবার্তা বলে দেখেন। এগুলো এক্ষুণি সরানোর প্রয়োজন। এখানে নদীটি এমনিতেই খুব সরু।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আজিজুল হক জানান, এগুলোর জন্য টেন্ডার চলছে, বারবার টেন্ডার হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছয়বার টেন্ডার হয়েছে, বর্তমানে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে সপ্তমবারের মতো টেন্ডার চলমান আছে। কোন সিন্ডিকেট যেন এখানে কোন ভূমিকা রাখতে না পারে সেজন্য এগুলোর টেন্ডারটা আমাদের বারবার করতে হচ্ছে।

 

আমরা যদি সিন্ডিকেটের ভিতর দিয়ে যাইতাম তাহলে একবার টেন্ডার করেই সিন্ডিকেটকে দিয়ে দিতাম। যার জন্য আমাদের সাতবার টেন্ডারে যেতে হচ্ছে। এগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে এর দরদাম কমে যাচ্ছে কিনা এই বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে এগুলো জরিপ করার মাধ্যমে একটি দর (মূল্য) নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সেই লক্ষ্যমাত্রায় না যেতে পারলে আমরা এগুলো বিক্রি করতে পারবো না। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতে কতদিন লাগতে পারে এই বিষয় নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে যেভাবে করার কথা আমরা সেভাবে করছি। এই কাজটা করার ক্ষেত্রে আমাদের কোন গাফিলতি নেই। এখানে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সেগুলো চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে যতদিন পর্যন্ত আমাদের টার্গেটে পৌছাতে না পারবো।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন