বাংলা নববর্ষ নবান্নের উৎসব আমেজ ছড়িয়ে, বৈশাখের রুদ্ররূপ ছাপিয়ে, জন-জীবনের সর্ববৃহৎ, অন্যতম গণমুখী আয়োজন। বাঙালীর ঐতিহ্যের শিকড়ে প্রোথিত ও গ্রথিত বাংলা নববর্ষের গুরুত্ব এক কথায় অনন্য ও মৃন্ময় চেতনায় ভাস্বর।
বর্তমানে কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রভৃতির আধুনিক প্রয়োগও ব্যাপক উপযোগিতা সত্বেও দেশের ব্যবসায়ী সমাজে বিশেষভাবে বৈশাখের শুভ হালখাতা অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত সাড়ম্বরে। ব্যর্থ,জীর্ন,পুরাতনের পরিবর্তে প্রতিশ্রুতিশীল নতুনের আবাহন,আকাঙক্ষার প্রতিফলন ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় এইদিনে।
ডিসেম্বরের থার্টি ফার্স্টের মধ্যরাতের উচ্ছলতা উন্মাদনার চেয়ে অনেক বেশী শ্রী সমৃদ্ধ রমনার সবুজ বটমূলের প্রকৃতি-সান্নিধ্যে গীত পহেলা বৈশাখের আবাহন গান। অনেক বেশী হৃদয় আকুতি ধারন করে চারুকলার ছাত্রশিক্ষকের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়াও গ্রামে গঞ্জে, শহর ও শহরতলীতে নানা লৌকিক মেলার বিচিত্র আয়োজনও ঐতিহ্যের ধারা বিনির্মাণে অপরিসীম গুরুত্বের দাবীদার।
বিশিষ্ট সভাসদ ও জোতিষ শাস্ত্রবিদ আমীর ফতেউলাহ সিরাজী সম্রাট আকবরের নির্দেশে বিজ্ঞাননির্ভর একটি সৌর-সন বৎসর উদ্ভাবন করেন। হিজরী চান্দ্রসন ছিল তখনকার সরকারি কার্যে ব্যবহার্য। তাই বাংলার মৌসুমি পালা-পার্বণ, উৎসব-আচার পালনে ছিল অসামঞ্জস্য।”আকবর নামা”য় উলিখিত সিরাজী প্রবর্তিত এবং বর্তমানে প্রচলিত ”বাংলা সন” ই এ সমস্যা সার্থকভাবে নিরসন করে। বাঙালীর আবহমান ঐতিহ্য ও উৎসবের সমন্বয় সাধিত হয় এই ঐতিহাসিক ”বাংলা সন” প্রচলনের দ্বারা।
১৫৮৪ খৃষ্টাব্দ মোতাবেক ৯৯৩ হিজরী সনের (১০ বা ১১ মার্চ) আকবর বাংলা সনের হিসাব প্রয়োগ ও চালু করেন। কিন্তু সিংহাসনে আরোহণ বৎসর স্মরণীয় রাখতে কার্যকর করার আদেশ করেন ৯৬৩ হিজরী বা ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দ হতে।
বাংলাদেশের মতই শ্রীলঙ্কায়ও খুবই মর্যাদা,গুরুত্ব ও আচার-নিষ্ঠতার মাধ্যমে উদযাপিত হয় বৈশাখের প্রথম দিনটি। সেখানে সর্বসাধারণের অবশ্য পালনীয় দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সমুদ্রের টিপ সিংহল বা বর্তমান শ্রীলঙ্কা প্রাচীন শরনদ্বীপ বা সরনদ্বীপ। ভারতীয় ভূ খন্ডের সন্নিহিতে দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান। ভারতের সাথে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক,সামাজিক,ভৌগলিক,ধর্মীয় যোগযোগ ও প্রভাব প্রবল বটে।
৫৪৩-৫০৫ খৃস্ট পূর্বাব্দ পর্যনÍ রাজা বিজয় সেন সিংহল শাসন করেন। কিংবদন্তী এবং প্রাচীন গ্রন্থ মহাবংশ, দ্বীপবংশ পুরান, পালি, বৌদ্ধ গ্রন্থ সূত্র হতে জানা যায় যে, বঙ্গের যুবরাজ পিতা কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে ৭০০ অনুসারী, স্ত্রী-শিশু সহ মোট তিনটি জাহাজে করে সমুদ্রপথে অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত হয়ে তৎকালীন লঙ্কাদ্বীপের বিভিন্ন অংশে জাহাজ তিনটি নোঙ্গর করতে সমর্থ হয়।
অন্যদুটি সূত্রে একই ঘটনার বিবরণ থাকলেও দেখা যায় রাজার নামে ভিন্নতা । বালহাস্য জাতক সংস্করণ ও চীনের পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ- এর বর্ননায় বিজয় সেনের নামোল্লেখ নেই। তবে বিজয় সেন বঙ্গের সিংহবাহু রাজার বংশধররূপে সিংহল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, ঐতিহাসিক তথ্যে পন্ডিতগণ প্রায় একমত।
রাজপুত্র বিজয় সেন দূরাচারী ছিলেন। অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজা তাকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেন প্রজার মঙ্গলার্থে। স্থানীয় যক্ষদের পরাস্ত করে স্বরাজ কায়েম করেন বিজয়। বিজয় সম্পর্কে সিনহালা ভাষায় নানারূপ গল্প, কিংবদন্তীর জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি ভাষা সংস্কৃতিতে বঙ্গীয় প্রভাব সিনহালা সভ্যতার মূলে প্রোথিত।
বিজয় সেন এর কাহিনী নিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য রচনার অভীপ্সা করলেও তা সম্পূর্ন করতে পারেন নি অকাল প্রয়াণের কারণে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবিতায় বিজয় সেনের বিবরণ দিয়েছেন। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বিজয় সেনের ঘটনা উপজীব্য করে ”সিংহল বিজয় ” নামে একটি নাটক রচনা করেছেন। বক্ষ্যমান নিবন্ধে বিজয় সেনের কাহিনীর দীর্ঘ বয়ানের অবকাশ নেই।
বিজয় সেন আদিবাসী যক্ষদের বিতাড়িত করে যক্ষরানীকে বিয়ে করেন। এক পর্যায়ে যক্ষিনী রানী পরিত্যাগ করে এক রাজকুমারীর পাণি গ্রহণ করেন। নিঃসন্তান বিজয় সেন রাজ্য রক্ষার জন্য যমজ ভ্রাতা বঙ্গরাজের নিকট অনুরোধ পত্র প্রেরণ করেন। ভ্রাতা বয়সের ভারে অসমর্থ, তাই তদীয় এক রাজকুমারকে লঙ্কাদ্বীপের রাজ্য শাসনের জন্য পাঠান।
মোদ্দা কথা বঙ্গের সঙ্গে সিংহল দ্বীপবাসীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন ছিল। ফলতঃ জীবন যাপনের যাবতীয় উপাদান আয়োজনে নিয়ম-রীতিতে বঙ্গ সংস্কৃতির অবিকল বা রূপান্তরিত, অভিযোজিত অনুষঙ্গ প্রভাব বিস্তার করে। বংশ পরম্পরায় সেসব সমাজ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আজও তারা প্রথাগত ঐতিহ্যরূপে তা মানে, জানে, পালন করে গভীর ভক্তি ও আন্তরিকতার সঙ্গে।
ইতিহাসে আরও একটি তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় যে, যে বৎসর বিজয় সেন লঙ্কাদ্বীপে পদার্পণ করেন, ঠিক সেই বৎসরেই বুদ্ধ দেহ রক্ষা করেন। বুদ্ধের জীবনাবসানের সঙ্গে বিজয় সেনের আগমন এভাবেই সম্পর্কিতরূপে শাস্ত্রকারগণ উল্লেখ করেন।
রামায়ণ অনুসারে বিষ্ণুর সপ্তম অবতার ‘রাম’ লঙ্কায় গিয়েছেন সীতাদেবীকে উদ্ধারের জন্য। রাক্ষস ইত্যাদির আবাসভূমি লঙ্কায়ই সীতা বন্দিনী ছিলেন।
প্রাপ্ত বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন সূত্রই ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যেকার ঘনিষ্ট যোগাযোগের প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠা করে। ‘প্রিন্স বিজয়’ - নামটি বাংলা বলেই সাধারণভাবে অনুমিত হয়। তাছাড়া শ্রীলঙ্কার প্রাচীন ইতিহাসে বিজয় বাংলার কোনও দেশীয় রাজ্যের যুবরাজ বলেই বর্ণিত হয়েছেন।
তদুপরি প্রচুর বাংলা শব্দ সিনহালা ভাষায় সামান্য উচ্চারণ বিভেদে সুপ্রাপ্য। যদিও কৃতঋণ শব্দের মূল উৎস বাংলা ও সিনহালা ভাষার একই - সংস্কৃত। সব মিলিয়ে প্রাচীন বাংলার সাথে সিংহল বা শ্রীলঙ্কার গভীর সম্পর্কসূত্র নির্ণয় সহজ।
আমরা জানি, ভারতীয় জীবন প্রবাহের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূলধারা প্রবাহ প্রধানত বাংলা কেন্দ্রিক ছিল। প্রাতঃস্মরণীয় একটি প্রবাদসম বাক্য এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য ঃ ‘‘যিধঃ ইবহমধষ ঃযরহশং ঃড়ফধু, ওহফরধ ঃযরহশং ঃড়সড়ৎৎড়”ি- যদিও এ বাক্যটির প্রয়োগ ও প্রচার আধুনিক এবং প্রিন্স বিজয়ের লঙ্কা গমনের পরবর্তীকালের, তবু এ থেকে প্রাচীনত্বের একটি সার্থক ভাব সহজে অনুমেয়। মনে রাখা দরকার যে, স্বল্প সময় পরিসরে কখনই কোনও প্রবাদ প্রতিষ্ঠা হয় না এবং হওয়া অসম্ভব কল্পনা।
নতুন বছরের আবাহনে ক্রিয়াকর্ম, আচারনিষ্ঠ নিয়ম রীতির ঘটা রয়েছে সিংহলী জাতির সংস্কৃতিতে। বঙ্গীয় সন্তান বিজয় সেনের বংশধারার ঐতিহ্য ধারণ করেই সিংহলী জাতির বিকাশ। বিশেষত ভাষা ও দৈনন্দিন জীবনাচরনের দিকে লক্ষ্য করলে সিনহালা ও বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যও সহজে দৃষ্টিগোচর হয়।
শ্রীলঙ্কার ‘সিনহালি’ জনগোষ্ঠির মাঝে প্রচলিত ভারতীয় তথা বাংলাভাষী জনসমাজের ও সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। প্রাত্যহিক জীবনাচরণে ব্যবহৃত সাধারণ শব্দাবলী,আচার-উৎসব ইত্যাদি আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্মে সহজেই তা পাওয়া যায়।
যেমন শ্রীলঙ্কার নববর্ষ ১৩ বা ১৪ এপ্রিল-এর অনুষ্ঠানে অবশ্য গীত একটি গানের প্রথম অংশ নিম্নরূপ ঃ
‘‘ অলিন্দে তিবেন্নে কোই কোই দেসে?
অলিন্দে তিবেন্নে বাঙালি দেসে।” *
বাংলা অর্থ ঃ
অলিন্দে তিবেন্নে কোথায় পাওয়া যায় ? প্রথম চরণের এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় চরণে যে, অলিন্দে তিবেন্নে ‘‘বাঙালি দেসে”বা বাঙালি (বাংলা) দেশে পাওয়া যায়। উক্ত বাঙালি দেসে অখন্ড প্রাচীন বাংলাকেই নির্দেশ করে বলে নিঃসন্দেহে ধারনা করা যায়।
‘‘ অলিন্দে তিবেন্নে”- এক ধরনের ঘন-রক্ত বর্ণের গোলাকার বীজ বিশেষ; বোঁটার দিকে ছোট্ট কালো একটি বিন্দু রয়েছে। বাংলাদেশের অঞ্চল বিশেষে এটি কুচ,কীচ,কেইজ বা রত্তি নামে পরিচিত। স্বর্ণকারের দোকানে এ লাল দানা রত্তি, নিক্তিতে রেখে স্বর্ণের ওজন করতে দেখা গেছে নিকট অতীতে। হয়তো এখনও গ্রামাঞ্চলে ব্যবহৃত হয় বা হচ্ছে।
উক্ত গীতেরই অন্য আরেকটি অংশঃ
‘‘ গেনাথ সাদান্নে কোই কোই দেসে ?
গেনাথ সাদান্নে সিনহলা দেসে ” *
অর্থাৎ ওই বীজ কোথায় রোপিত হয় ? তা সিনহলা দেশে চাষ বা বপন করা হয়।
নারী-পুরুষ বয়স নির্বিশেষে নৃত্যের তালে তালে এই ছড়াগানটি সুর-তাল সহযোগে সমবেতভাবে গেয়ে থাকে সবাই বৈসাখের অবশ্য পালনীয় অনুষ্ঠানে। এটা তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামজিক বিধান, প্রাচীনকাল থেকে পুরুষানুক্রমে পালন করা হচ্ছে। ছোট্ট, সামান্য,ক্ষুদ্রকায় একটি বীজের প্রসঙ্গ নিয়ে যদি নববর্ষের অমন নির্দিষ্ট আচরণ অবশ্য পালনযোগ্য হয় তা থেকে সহজেই সিংহল বা শ্রীলঙ্কাবাসীদের দৈনন্দিন ও সামাজিক জীবনে বাংলা ও বাঙালী সংস্কৃতির প্রভাব কত গভীর ও ব্যাপক তা সম্যক ধারণা করা যায়।
শুভ ও অশুভকালের কর্মচেতনা সিনহালি সমাজে বিশেষ করে নববর্ষ উপলক্ষে খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করা হয়। কাল তিথি মেনে সকল রকম দৈনন্দিন অবশ্যকরণীয় কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় অথবা পালিত হয়। বাংলা সনের পঞ্জিকার নির্দিষ্ট শুভকর্মের সময় অনুযায়ী কাজের সুচনা হয় সমগ্র শ্রীলঙ্কা জুড়ে।
খাবার রান্না ও গ্রহণ,আর্থিক লেনদেন- নতুন বছরের সব কাজই খুব নিয়ম ও নিষ্ঠার সাথে পালিত হতে দেখা যায় । কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রা পানপাতার উপর সযত্নে স্থাপন করে লেনদেনের শুভ আরম্ভ করা হয়। কাবাডি, কানামাছি প্রভৃতি খেলার নাম-সাদৃশ্য যেমন আছে,তেমনি খেলার নিয়ম-রীতিও প্রায় একই রকম *। ব্যাপক ও দীর্ঘ গবেষণার দ্বারা বাংলা ও সিনহালি সম্প্রদায়ের যোগাযোগের মূলসূত্র উদ্ধার করা সম্ভব। প্রচলিত ইতিহাসে কেবল ‘রাজা বিজয়’ কেন্দ্রিক তথ্যই ভারতীয় তথা বাংলার যোগসূত্রের নির্দেশরূপে উক্ত। বাংলার প্রকৃত সম্পর্ক সূত্র ঐতিহাসিক বা গবেষকদের দৃষ্টির আড়ালে অনালোচিত রয়ে গেছে।
সিনহালি ভাষায় ‘ওয়েসাক’ হলো বাংলায় বৈশাখের রূপান্তর *। ‘আসালা’- আষাঢ়ের, ‘বিনাড়ো’- ভাদ্রের এবং ‘উন্দুওয়াপ’- অগ্রহায়ণ *। সিনহালি ভাষার বহূ শব্দ ও বাক্য-গঠণ-রীতির সাথে বাংলার অভিন্ন সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশে মূলত ফসল ঘরে তোলার মাস অঘ্রাণ বা অগ্রহায়ণই ছিল বছরের প্রথম মাস। হায়ণ বা বছরের অগ্র বা প্রথম মাস। সম্রাট আকবর কর্তৃক সংস্কারের পর বৈশাখ বছরের প্রথম মাসরূপে প্রচলিত হয়।
ফসল বোনা,ফসল কাটার দিনক্ষণ নির্ণয়, শুভ হালখাতা, প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, উৎসব অনুষ্ঠান, পালা-পার্বণ, বিবাহ, খাজনা প্রদান প্রভৃতি কাজকর্ম এখনও বাংলা সনের দিনতারিখ, তিথি-নক্ষত্র দ্বারাই নির্বিঘ্নে শাসিত ও পরিচালিত।
আসমুদ্র হিমাচলের অদ্বিতীয় সম্রাটের প্রভাবে ও আদেশে সারা ভারত জুড়ে‘বাংলা সন’ প্রচলিত ও আচরিত হয়েছে।
বর্তমানেও সুদূর শ্রীলঙ্কা, তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবের বাংলা-সনের হিসাবানুসারে নববর্ষ পালন বিষয়টি বাংলার ব্যাপক প্রভাব-প্রমাণের অবশেষরূপে দৃষ্ট।
ইতিহাস ও প্রামাণিক গ্রন্থে উক্ত নব-উদ্ভাবিত সন ‘বাংলা সন’ নামেই লিপিবদ্ধ, প্রচলিত ও প্রচারিত হয়েছে এবং আজও হচ্ছে। বাংলাদেশ, বাঙালী হিসেবে
অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিক প্রচলন স্বতন্ত্র গৌরবের এবং এ গৌরব একান্তই বাঙালীর, বাংলাদেশীর।
* নিবন্ধকার কর্তৃক সংগৃহীত। কবি ও শিক্ষাবিদ, শধৎরসৎবুধ৯@মসধরষ.পড়স


