Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

প্রশংসিত হচ্ছেন মুজিবুর-ইয়াছিন

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২২, ০২:৫৮ পিএম

প্রশংসিত হচ্ছেন মুজিবুর-ইয়াছিন
Swapno

# তাদের থামাতে নানা ষড়যন্ত্রে মেতেছে একটি মহল
# উন্নয়ন আর অহিংস রাজনীতিতে ঝুঁকছে তৃণমূল

 

একসময়ের সিদ্ধিরগঞ্জ যেখানে সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল সেইদিন যে এখন আর নেই সেটি প্রমাণ দিয়ে বলেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উন্নয়নের হাত ধরে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী এখন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদের পক্ষে।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, কিছুদিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জে আইভীর উপস্থিতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া সত্য কথাই বলেছেন, তারা দুজনেই প্রকাশ্যে বলেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জে মাটি, আইভীর ঘাঁটি। সিদ্ধিরগঞ্জের মাটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি।

 

স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, একসময় সিদ্ধিরগঞ্জকে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে মানুষ ভয় করতো। এখানকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মানুষের জীবনমানের তেমন কোন উন্নতি হয়নি। অথচ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়সহ নানা শিল্পকারখানা আর ব্যবসা প্রতিষ্টানে ঠাসা ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ। কেউই এর হাল ধরেনি।

 

১৯৯৬ সালে এখানে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন এমপি শামীম ওসমান। কিন্তু আদতে এখানকার মানুষের এবং জনপদের তেমন কোন উন্নতি হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নানা কারণে এবং আত্মীয়করণের কারণে সেসময় কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এরপরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সিদ্ধিরগঞ্জকে জুড়ে দেয়া হয় সোনারগাঁয়ের সাথে।

 

তখনো সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর আদতে কোন উনয়ন হয়নি। ২০১১ সালে আইভী সিটি করপোরেশনের মেয়র হলে বদলে যেতে থাকে সিদ্ধিগঞ্জ। কিন্তু প্রথম মেয়াদে তেমন উন্নয়ন করতে না পারলেও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন সিদ্ধিরগঞ্জে।

 

এখনকার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নারায়ণগঞ্জের যে কোন এলাকার থেকে উন্নত এলাকায় বদলে যেতে শুরু করেছে। এখানকার মানুষের জীবনমান থেকে শুরু করে পরিবেশগত উন্নয়নেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাছাড়া গোটা এলাকায় অতীতে যে কোন সময়ের চেয়ে সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে। আর তা কেবল আইভীর শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করেই।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন,  একসময় নানা কারণে গ্রুপিং তৈরি করে সিদ্ধিরগঞ্জকে উত্তপ্ত করতো একটি মহল। কিন্তু এসব একেবারেই নেই সিদ্ধিরগঞ্জে। আর গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতারা যেভাবে স্থানীয় তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেছেন তাতে এখানকার তৃণমূল কর্মীদের দীর্ঘদিনের দুরুত্ব ঘুচে গেছে।

 

পরিবারকেন্দ্রিক এবং আত্মীয়করণের যে রাজনীতিতে কোনঠাসা ছিল এখানকার তৃণমূল আওয়ামী লীগ সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পেরেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা। তারা দিনশেষে দলের নীতিতেই বিশ্বাস করেন। আইভীর অহিংস রাজনীতিতে তারা দলের ও নেতাকর্মীদের ভালো বিবেচনা করেই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। কিন্তু একটি মহল তাদের এই রাজনীতিকে ভালো চোখে দেখছেননা।

 

সূত্র জানিয়েছে, আইভীকে সাথে নিয়ে মুজিবুর রহমান ও ইয়াছিন মিয়ার স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল হয়। এছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালে এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সেটি লাইভ দেখেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ তৃণমূল আওয়ামী লীগের এই জোয়ারকে তিনি মোটেও ভালো চোখে দেখেননি। এখন তিনি ওই দুইনেতার বিরুদ্ধেও নানা ব্যক্তিকে বাজে মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

তাছাড়া আত্মীয়করণের যেই মোড়কে ঢাকা ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ, সেটিও এখন তাসের ঘরের মতো উবে যেতে শুরু করেছে।  সূত্র জানায়, খুব শীঘ্রই আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হবে। এতে নারায়ণগঞ্জে যে নবজাগরণ তৈরির আভাস মিলেছে সিদ্ধিরগঞ্জে সেটি প্রথমেই যাত্রা শুরু করবে বলে মনে করছে তৃণমূল। কোন অশুভ শক্তিই এখানে জয়ী হতে পারবেনা বলে মনে করছে সূত্র।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, যে দুর্গে আবদ্ধ হয়ে ছিল এখানকার তৃণমূল কর্মীরা, তা আওয়ামী লীগের স্বচ্ছ ও অহিংস রাজনীতিকের হাত ধরে বদলে যেতে শুরু করেছে। একটি মহল এই জয়যাত্রাকে থামাতে নানা বাধা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে বলে জানিয়েছে সূত্র। তবে সিটি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে গেছে কেন্দ্র আর তাই স্থানীয় কোন নেতার কারসাজিতে এবার আর কোন ষড়যন্ত্র পাত্তা পাবেনা বলে দৃঢ় বিশ্বাস এখানকার তৃণমূলের।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন