Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সদর থানা আ.লীগে প্রবীণে বিমুখ তৃণমূল

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০২ পিএম

সদর থানা আ.লীগে প্রবীণে বিমুখ তৃণমূল
Swapno

# তরুণদের নেতৃত্বে যেতে চায় কর্মীরা

 

এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার পরেও এই দলের তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালি কমিটি অভিযোগ তৃণমূল নেতৃবৃন্দের। নারায়ণগঞ্জ হলো আওয়ামীলীগের সুতিকাগার। জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তাদের বক্তব্যেও এ কথা বলে থাকেন। কিন্তু এই জেলার সদর থানায় আওয়ামীলীগের কমিটি নেই। সেই সাথে দলীয় কার্যক্রমও নেই।

 

তৃনমূল থেকে অভিযোগ রয়েছে প্রায় দের যুগের বেশি সময় ধরে এখানে প্রবীন ব্যক্তিরা নেতৃত্ব দেয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। এছাড়াও যুবকদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার জন্য তারা তেমন একটা ভূমিকাও রাখতে পারে নাই।

 

অথচ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলো সদর থানা। কিন্তু সরকারি দল এখানে সবচেয়ে দূর্বল হয়ে আছে। সদর থানাধীন গোগনগর আলীরটেক ইউনিয়নেও প্রায় ২০ বছর যাবৎ কমিটি হয় না। এই দুই ইউনিয়নের মাঝে অনেক এলাকায় সভাপতি সেক্রেটারি পর্যন্ত মারা গেছে। এখানে কবে নাগাত কমিটি হবে তাও কেউ জানে না। অভিযোগ রয়েছে প্রবীনদের ব্যর্থতায় তাই সদরে শক্তিশালি কমিটি নেই। তাই এবার তৃনমূল নেতা কর্মীরা প্রবীন ব্যক্তিদের নেতৃত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিছে।


দলীয় একাধিক নেতাদের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, ১৬ বছর পর ২০১৯ সনের ডিসেম্বর মাসে সদর থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নাজির মাদবর সভাপতি এবং আল মামুন সেক্রেটারি  হন। পরে গত বছরের নভেম্বর মাসে গোগনগর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে কাজ করায় দল থেকে বহিস্কার হন সেক্রেটারি আল মামুন।

 

একই সাথে তখন এক সভায় আল মামুন বলেছেন নৌকার দরকার নেই। প্রয়োজন আমপাতা মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ফজর আলীকে চেয়ারম্যান বানামু। এই কথা বলায় তাকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানান গোগনগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। তাই তাকে দল থেকে বহিস্কার হতে হয়। তার আগে ২০০৩ সালের ডিস্বেম্বর মাসে সাহাবউদ্দিন আহমেদ মন্ডলকে সভাপতি ও মো. হায়দার আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর থানা আওয়ামীলীগের ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যার অনেকেই মারা গেছেন।

 

পরবর্তীতে মো. হায়দার আলী দলীয় কর্মকান্ডে নিস্ক্রীয় হয়ে যাওয়ার অভিযোগে আল মামুনকে ২০০৬ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে ২০১৪ সালে তাকে ভারমুক্ত করে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০২১ সনের গোগনগর ইউপি নির্বাচনে আল মামুন পদ হারান। বর্তমানে নাজির মাদবর একা সদর থানা আওয়ামীলীগে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এত বড় দলে গুরুত্বপূর্ণ থানা হওয়া সত্বেও এখানে কমিটি না থাকায় কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে।


এদিকে আলীরটেক এবং গোগনগরের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগ এখনিট ঢেলে সাজানো উচিৎ বলে মনে করেন নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্র থেকে যে সকল জেলা উপজেলা থানার কমিটি বা কাউন্সিল হয় নাই তা এক মাসের মাঝে করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি প্রদান করেছেন।

 

তৃনমূল থেকে দাবী উঠেছে ইয়ংদের মিলিয়ে যেন সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটি তৈরী করা হয়। যাতে করে দলীয় কর্মীরা পূর্বের ন্যায় নেতৃত্বহীন না হয়ে পরে। পূর্বে এখানে সভাপতি এবং সেক্রেটারি পদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রবীন হওয়ায় কর্মীরাও তাদের সাথে মন খুলে কথা বলতে পারেন নাই। তাই এবার যাতে যুবকদের অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরী করা হয়।


অন্য দিকে খোজ নিয়ে জানাযায়, সদর থানা আওয়ামীলীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য গোগনগর এবং আলীরটেক ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের খোজ খবর রাখছেন গোগনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। এমনকি এই করোনার সময়ে দলীয় কর্মীদের মাঝে যারা অসহায় ছিলেন তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সাহায্য করেছেন।

 

সেই সাথে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে যোগোযোগ করে দলকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তার জন্য আলোচনা করছেন। জেলার দলীয় শীর্ষ নেতাদের মাঝেও তা তুলে ধরছেন।

 

তাই রাজনৈতিক মহল মনে করেন সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে তার মত ব্যক্তি দায়িত্বে আসা উচিৎ। অপর দিকে সদর থানা আওয়ামীলীগ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার জন্য আওয়ামীলীগ নেতা বিতর্কিত জসিম উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু স্কুলের টাকা আত্মসাত সহং ভূদিস্যতার অভিযোগ রয়েছে। তার পিছনে তেমন কোন নেতা কর্মীও নেই। তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হলে তৃনমূল কর্মীরা মেনে নিবে না।


কয়েকজন নেতা জানান, ইব্রাহীম মোল্লা সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কেননা তিনি দলের জন্য নিবেদিত একজন কর্মী। তার মত ব্যক্তি এগিয়ে আসলে এখানকার কমিটি আরও সক্রিয় হবে। কর্মীরা উজ্জীবিত হবে। ২০১৯ সনের কাউন্সিলে তিনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তাই তৃনমূল নেতা কর্মীদের দাবী তাকে যেন এবার সভাপতি পদ থেকে বঞ্চিত করা না হয়। তিনি যুবকদের নিয়ে গোগনগর আলীরটেক ইউনিয়নকে শক্তিশালি কমিটি গঠন করতে পারবে।


সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজির মাদবরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা যুবলীগের সদস্য ও গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লা জানান, আমাদের একটাই দাবী আগামীতে সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটি যেন কাউন্সিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে ভোটাররা ভোট দিতে পারে। তাহলে আমাদের মত যুবকরা এগিয়ে এসে কর্মীদের পাশে থাকতে পারবো।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন