সেন্টু এ্যাকশন কুতুবপুর আওয়ামী লীগে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৫০ পিএম
# এক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ২৫ খণ্ডে বিভক্ত
# শাহনিজামের হস্তক্ষেপে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে এমন অভিযোগ
প্রতিষ্ঠিত বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল আলম সেন্টু যখন আওয়ামী লীগের টিকেটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুতুবপুরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের তৃনমূল কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ধ্বংস অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। এবার সেই ধারণাই সত্য হতে শুরু করেছে। মহানগর আওয়ামী লীগের য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক শাহনিজামের বন্ধু বহিঃষ্কৃত বিএনপি নেতা সেন্টুর কারণেই এখন কুতুবপুর আওয়ামী লীগ নানা খন্ডে বিভক্ত।
এনিয়ে কুতুবপুররে ত্যাগী তৃণমূল কর্মীরা নিজেদের অবস্থান থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেছিলেন, শাহ নিজামের আশকারাতেই এখন কুতুবপুরের প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয় নম পার্কে। যেখানে বিএনপি নেতা এবং হাইব্রিডদের সরব উপস্থিতি থাকে।
এরমধ্যে গত ১৫ ই এপ্রিল শুক্রবার নম পার্কে আয়োজিত কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী নিয়ে আলোচনা ও ইফতার পার্টি নিয়ে নানা সমোলচনা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে।
তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নিয়ে আয়োজন করা হলেও বেশিরভাগই নেতাকর্মী এ ইফতার আয়োজনে অংশগ্রহণ করেনি। নারায়ণগঞ্জের মধ্যে এক সময় এই কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও যা অনেকটাই এখন শূন্যের কোঠায়। প্রায় ২ যুগের বেশি সময় যাবত আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক ভাবে অনেকটাই দূর্বল হয়ে পড়েছে।
নমপার্কে আলোচনা ও ইফতার পার্টি অনুষ্ঠানে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম। এসময় শাহ নিজাম বলেন, এই ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী অনুপুস্থিত থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেউ হয়তো অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতে পারে অথবা এমনও হতে পারে ঠিক ভাবে দাওয়াত দেওয়া হয় নাই। তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি কুতুবপুর আওয়ামী নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন রকম দ্বন্দ্ব নেই সবাই একত্রিত।
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন ১,২ও ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন ভূইয়া জানান, গত ১৫ এপ্রিল নম পার্কে আয়োজিত কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার পার্টি অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে তৃনমূল আওয়ামী নিয়ে ইফতার পার্টি বিষয়টা একেবারেই ভূল। আমার সাথে কথা হয়নি দাওয়াতও পাই নাই।
কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন নিজের ইচ্ছা মতোই সব কিছু করে। আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টি হবে বৃহত্তর ৩ টি ওয়ার্ডের সভাপতি - সাধারণ সম্পাদক সহ যুবলীগ ও অংগসংগঠনের সবাইকে নিয়ে আগে আলোচনা করতে হয় তা তিনি কিছুই করে নাই। আমরা এ সকল বিষয় গুলো থানা নেতৃবৃন্দ কে জানাবো।
এ বিষয়য়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জসিম ভাই কি ভাবে দাওয়াত দিল বুঝতাছিনা। আমিই জানতাম না আমাকে পরে বলছে। শুনেছি সবাইকে দাওয়াত দিছে তবে এই ইফতার নিয়ে কারো সাথে আগে কোন আলাপ আলোচনা করা হয়।যা সত্যিই দুঃখজনক।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ইফতার পার্টিতে কেনো যান'নি এমন প্রশ্ন করলে ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন ভূইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নব পার্কে অনুষ্ঠিত হওয়া ইফতার পার্টিতে সাংগঠনিকভাবে কোনো দাওয়াত পাইনি। ইফতার পার্টি'র একদিন আগে ইউনিয়ন সভাপতি জসিমউদদীনকে আমি অন্য একটা কাজে ফোন দেয় পরে কথা বলার একফাঁকে আমাকে বলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ইফতার পার্টি আছে যাওয়া জন্য বলে।
এটা কোনো সাংগঠনিকভাবে দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম হলো? তাই যাইনি। তিনি বলেন, ২০০৩ সাল থেকে জসিম উদ্দিন সভাপতি হওয়ার পর থেকে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সে। তাছাড়া ইফতার পার্টি করবে আমরা অনেকে জানি না হঠাৎ করে বললেই হবে নাকি। তাদের মনগড়া ইফতার পার্টিতে তৃণমূলের তেমন কোনো নেতা-কর্মী যাইনি।
আমি ছাড়া কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মিয়া যায়নি, ৪,৫ ও ৬নং আওয়ামীলীগের সভাপতি- সেক্রেটারি যায়নি, ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যায়নি, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি যায়নি, ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি যায়নি, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি যায়নি।তাহলে তারা কাদের নিয়ে ইফতার পার্টি করেছে এটা আমার বোধগম্য নয়।
একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ৪, ৫ ও ৬নং আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার যুগের চিন্তাকে বলেন, নম পার্কে হয়ে যাওয়া ইফতার পার্টি এটা আওয়ামীলীগের কোনো ইফতার পার্টি নয়। এটা তাদের ব্যক্তিগত ইফতার পার্টি হয়েছে, যদি আওয়ামীলীগের ইফতার পার্টি হতো তাহলে আমরা দাওয়াত পেতাম। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিমউদদীন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে না, সে বিএনপির পক্ষে রাজনীতি করে। সে যতদিন দায়িত্বে থাকবে ততদিন কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত হবে না কোনো দিন।
ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রাহাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কে বা কাহারা ইফতার পার্টি করেছে আমি জানি না। আমি পরে পত্র-পত্রিকায় দেখেছি কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ইফতার পার্টি হয়েছে। আসলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিমউদ্দীন আমাদের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সেক্রেটারিকে কোনো মূল্যায়ন করে না। সে তার মনগড়া মতো কাজ করে কাউকে কিছু জানাই না আলাপ আলোচনা করে না। আমরা অনেক অবহেলিতভাবে আছি এর একটি বিহিত হওয়া দরকার।
কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক মুন্সি যুগের চিন্তাকে বলেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এখন বহু খন্ডে বিভক্ত। অনেক কিছুই বলা যায়না। আমি দাওয়াত পেয়েছি কিন্তু যেতে পারিনি।
তবে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, সকলকেই দাওয়াত দেয়া হয়েছে। দুই একজন আসতে পারেনি, এমনটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।


