ঈদকে ঘিরে মার্কেটগুলোতে ক্রেতা দর্শনার্থীর ভিড়ে জমজমাট
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৫৭ পিএম
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম বিপণিবিতান কালীবাজারের ফ্রেন্ডস মার্কেট, চাষাঢ়ার সায়েম প্লাজা ও এর আশপাশের মার্কেটগুলো ক্রেতা-দর্শণার্থীর ভিড়ে জমজমাট। মহামারির কারণে দুই বছর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা করছেন ‘ভালো ব্যবসা’ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন। রোজার ১৪তম দিনে শনিবার কালীবাজারে ফ্রেন্ডস মার্কেট ছিল ক্রেতাদের জমজমাট ভিড়।
পোশাকের দোকানের পাশাপাশি তৈজসপত্রসহ গৃহস্থালি নানা সমাগ্রির দোকানেও ক্রেতার আনাগোনা দেখা গেছে। অন্যদিকে শহরের ডিআইটি, চাষাঢ়াসহ বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতে দোকান গুলোতে কিশোরী-তরুণীদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। এই মার্কেটগুলোতে বিক্রি হয় মেয়েদের নানা পোশাক। ঈদের কেনাকাটার উপলক্ষ্যেও ক্রেতা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য।
এদিকে গত দুই বছরে মহামারিতে নানান বিধিনিষেধে ঈদ কেটেছে করোনা সংক্রমণ ভীতির মধ্যে। কিন্তু এবার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় মানুষের মধ্যে সেই ভীতি কেটেছে। তাই সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা শুরু করেছেন। শহরের কালীরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সুমাইয়া শিমু বলেন, গেল রোজা ও কুরবানির চারটা ঈদে অনেকটাই ঘরবন্দি ছিলাম।
এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভালো হয়েছে, তাই সশরীরে কেনাকাটা করতে এলাম। শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিপণিবিতান ও মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীসহ প্রায় সব বয়সী ক্রেতারাই কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহরের কালীরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটে সব বয়সী নারীই ভিড় জমিয়েছেন।
তবে এর মধ্যে থান কাপড়, শাড়ি আর অলঙ্কারের দোকানেই ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। বিক্রেতারা জানান, এখানে প্রতিদিন ক্রেতা বাড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতিতে তারা সন্তুষ্ট। কথা হয় সোনালী ট্রেডার্স এর প্রোঃ ত্রিনাথ চন্দ্র পোদ্দার সাথে। তিনি বলেন, এবারে শাড়ি, থ্রি-পিস এবং ওয়ান-পিসের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি কাপড়ও কিনছেন নারী ক্রেতারা।
তবে এবার দাম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। বন্দর থেকে আসা ফিমা আক্তার বলেন, করোনা শুরুর আগে কাপড়ের যে দাম ছিল তা এখন অনেক বেড়েছে। সব জিনিসের দাম বাড়লেও আয় না বাড়ায় কেনাকাটার সমন্বয় কঠিন হয়ে গেছে।
দামের বিষয়ে বিক্রেতাদের ভাষ্য, মূলত ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি পণ্যগুলো আনতে গিয়ে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। থান কাপড় বেশিরভাগই আসে ইন্ডিয়া থেকে। তবে দেশীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে বলেই তাদের ভাষ্য।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হাজী হাসান ইমাম বলেন, এবার ঈদ সামনে রেখে আগেভাগে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। মার্কেট ও শোরুমগুলোতে নতুন সব বাহারি পোশাক-আশাকে ভরে উঠেছে। ইতোমধ্যে নগরীর সাধারণ মানুষ কেনাকাটার জন্য ভিড় করছেন শোরুমগুলোতে। বেচাবিক্রি ভালো হচ্ছে।


