Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ভারপ্রাপ্তে চলছে তিন ইউপি আ.লীগ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১২ পিএম

ভারপ্রাপ্তে চলছে তিন ইউপি আ.লীগ
Swapno

# ১৮ বছর আগে সম্মেলন হয়েছে
# কমিটি না হওয়ায় হতাশ তৃণমূল কর্মীরা

 

আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে এক যুগের বেশি সময় ধরে। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন সভায় বক্তৃতায় বলে থাকেন তৃনমূল পর্যায়ে শক্তিশালি কমিটি থাকলে দলও শক্ত অবস্থানে থাকবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে এই তৃনমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগ সবচেয়ে বেশি নরবরে অবস্থা আছে।

 

নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ এলাকা গুলোর মাঝে ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি নেই। তার মাঝে সদর উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ সম্মেলন নেই। আর এতে করে অনেক এলাকার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে কোনরকম নামকাওয়াস্তে দলীয় কর্মসূচি পালন হয়। আবার কোন জায়গায় দলীয় কর্মসূচি পালনও হয়না।  


দলীয় সূত্রে জানাযায় , নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে ভারপ্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে ৩ ব্যক্তি। এর মাঝে সদর থানাধীন গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আছেন শাহাব উদ্দিন মাদবর, অপর দিকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে আছেন আবুল হোসেন মাস্টার।


গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ জানান, ২০০৩ সনে গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নাজির মাদবর সভাপতি এবং আজহারুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জর সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে নাজির মাদবর আসার পর গোগনগর ইউপি আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন


আজিজ মাষ্টার। ৩ বছর যাবৎ তিনি গোগনগরের আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসছেন।  ২০০৩ সনে গোগনগরের পার্শবর্তি ইউনিয়ন আলীরটেক ইউপি আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন আলী আকবর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন নুরুজ্জামান সরকার।

 

পরে আলী আকবর সরকার মারা গেলে ওই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে প্রায় ১০ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন শাহাব উদ্দিন মাদবর। তিনি বয়সের ভারে দলীয় কার্যক্রম এবং কর্মসূচি পালনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। প্রায় ৬ মাস আগে আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান সরকার মারা যাওয়া পর এই ইউনিয়নে এখন দলীয় ভাবে নেতৃত্ব শুন্যতায় আছেন তৃনমূল কর্মীরা। সেই সাথে এখন নুরুজ্জামান সরকারের অভাব অনুভব করছে বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।


অপরদিকে  ২০০৩ সনে ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন আফাজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান কামরুল ইসলাম। গত বছর আফাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান আবুল হোসেন মাস্টার।


ক্ষমতাসীন দলে স্থানীয় নেতারা জানান, এই তিন ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন যাবৎ এখানে কমিটি না হওয়ায় নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে আছে। সেই সাথে পূর্বের কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দ মারা যাওয়ার পর সেই পদ গুলো শূন্য অবস্থায় আছে। আর এজন্য এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। এখানে কবে নাগাত নতুন কমিটি হবে তাও জানেন না নেতৃবৃন্দ।

 

তবে ফতুল্লা বক্তাবলীর ইউনিয়নের নেতারা আশার আলো দেখছেন। কেননা রমজানের পর পরই বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি হবে। কিন্তু সদর থানার বাকি দুই ইউনিয়নের কমিটির বিষয়ে কোন খোজ নেই। কেননা ওই খানে সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটি নেই। যার জন্য ইউনিয়নের  নেতারা সবচেয়ে বেশি হতাশায় আছেন।

 

আর এজন্য এই ইউনিয়ন গুলোতে ক্ষমতাসীন দলের কমিটি না থাকায় যে যার মত করে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। এতে করে দল শক্তিশালি হচ্ছে  না। তাই তৃনমূল নেতারা দাবী তুলেন থানা এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা যেন অতি দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি সম্পন্ন করেন। অন্যথায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে এর জন্য পস্তাতে হতে পারে।


ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, আমাদের ফতুল্লা থানার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ইতিমধ্যে সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত ১ এপ্রিল কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়। বাকি গুলো রমজানের পরে হবে। সেই হিসেবে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন রমজানের পর পর অনুষ্ঠিত হবে।


বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম জানান, রমজানের পরেই আমাদের বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আর এজন্য আমরা ওয়ার্ড কমিটি গুলো নতুন ভাবে তৈরী করছি। সেই সাথে আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।


সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজির মাদবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ্য আছেন বলে জানান। গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার বলেন, আমরা রমজানের পরে বর্ধিত সভা করে কমিটি করার বিষয়ে আলোচনা করবো। সেই সাথে জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করবো। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমাদের সদর থানায় কমিটি নেই। আর এজন্য আমরা কমিটি করতে পারছি না। আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাব উদ্দিন মাদবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নাই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন