# প্রশাসন টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে কাজ করছে : ধর্ষিতার পরিবার
# রাজাকারদের কাছ থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীই শেষ ভরসা- ধর্ষিতার মা
# ইউপি মেম্বারকে কেন জড়ানো হলো জানি না : ওসি বন্দর
# বাদী নাম দিয়েছে আমরা কি করব : ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ
বন্দরের চিহ্নিত রাজাকার রফিকপুত্র মাকসুদ হোসেন বর্তমানে মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। বাপ-চাচা, ভাই ও বংশীয় রাজাকারদের সাথে থেকে হাত পাকিয়ে এখন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর সেই বর্বোরোচিত স্টাইলে নারকীয় তান্ডব চালাচ্ছে এই রাজাকারের বংশধর।
ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের বই ‘শান্তি কমিটি ১৯৭১’ এর রাজাকারের তালিকায় মাকসুদের বাবা রফিক, দাদা মাইনুদ্দীন, চাচা আব্দুল মালেক ও সামাদ এর নাম উল্লেখ করা আছে। তাছাড়া স্থানীয়দের বিশেষ করে বন্দরের ধামগড়, মদনপুর এবং মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাকসুদ তার বাপ-দাদা, চাচা, ভাই ও আত্মীয়দের বিভিন্ন রোমহর্ষক ঘটনা।
সেসব ঘটনার চর্চা করতেই যেন ২০১৬ সালের ৪ মে ঢাকা বনানী এলাকায় অবস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাস ভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির একজন অংশীদার হয়ে নিজেদের কুকর্মের রাস্তাটা আরও পোক্ত করে তুলেন। এরপর তাদের আর পেছনে ফিরে চাইতে হয়নি।
পুনরায় সেই বাপ-দাদার অপকর্মকে শাণিত করতেই যেন উঠেপড়ে লেগেছেন রাজাকারপুত্র মাকসুদ ও তার পরিবার। সেই সূত্র ধরেই ১২/১৩ বছরের এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও শুধুমাত্র রাজাকার পুত্রের হস্তক্ষেপের কারণে আজ তারা বাড়ি ছাড়া। লুটপাট করে নিয়েছে তাদের বাড়ি ঘরে থাকা সহায় সম্বল।
পুলিশ যদিও তাদের মালামাল বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছে কিন্তু ঘরে থাকা নগদ টাকা পয়সা ভাগ করে নিয়েছে লুটেরাগণ। অন্যদিকে একই ঘটনার আসামীকে অর্থাৎ ধর্ষককে ধরার সময় পালানোর উদ্দেশ্যে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পড়ে আহত হয়।
সেই অবস্থায়ই পালাতে চাইলে ধর্ষিতার দুই ভাইয়ের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তাকে আটক করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠালে সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর আবারও অবস্থার অবনতি ঘটলে পুনরায় হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় মাকসুদের টাকার প্রভাবে সফুরউদ্দিন নামের এক ইউপি সদস্যকে ফাঁসানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বলেন, আমার কিশোরী মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিচারতো পাই-ই না, তার উপর আমাদের বাড়ি ঘরে লুটপাট চালিয়ে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে এই ঘটনাটি নিয়ে মামলা না করার জন্য বলেছিলেন মুসাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ।
ধর্ষকদের পরিবার ভাল উল্লেখ করে তিনি বিষয়টা পরে দেখবেন বলে বলেছিলেন। কিন্তু আমরা মামলা করায় আমাদের উপর চড়াও হয়েছে মাকসুদ চেয়ারম্যান। তার লোকজন দিয়ে আমাদের বাড়ি ঘরে লুটপাট চালিয়েছে। আমরা তাদের ভয়ে বাড়িতে উঠতে পারছি না। উল্টো প্রশাসন তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলছে।
ধামগড় ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার সফুরউদ্দিন জানান, কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুব আলমের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ধর্ষক বন্দর থানার চিড়াইপাড়া নন্দন কলোনীর শাহাজউদ্দিনের ছেলে মো. রকি (২০) কে যখন কাঁচপুর ব্রিজের সামনে আটক
করতে যায় তখন সে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পড়ে আহত হয়েও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন ধর্ষিতার ভাইদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয় এবং আটক করার পর তাকে হাপপাতালে নেওয়া হয়। এখানে তার মৃত্যুর সাথে আমার সম্পর্ক কি। আমাকে কেন এখানে হত্যার আসামী করা হয়েছে।
এই বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, ধর্ষক রকির নিহত হওয়ার বিষয়ে আমাদের থানায় কোন মামলা হয়নি। তাই যারা মামলা করেছে তারা কাকে আসামী করেছে বিষয়টা আমাদের জানা নাই। ধর্ষিতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আমাদের থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ করা হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।
এই বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, বাদী যদি আসামী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করে তাহলে আমাদের কি করার আছে। আমরা বাদীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী তাকে আসামী করেছি। টাকা খেয়ে তাকে আসামী করা হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে রাজি না। এখন তদন্ত করার পর বুঝা যাবে সে আসলে হত্যার আসামী কি না।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে জানান, থানা কিংবা প্রশাসনের কেউ সহযোগিতা না করায় তারা বাধ্য হয়ে আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেছেন।


