Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

এক টেবিলে শামীম-আইভী

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৫৫ পিএম

এক টেবিলে শামীম-আইভী
Swapno

# এক সাথে ইফতার তবুও কথা হয়নি
# আইভীর ভূয়সী প্রশংসা এসপি’র

 

তেল আ জলে মিল খায় না, তেমনি শামীম ওসমান আর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও একত্রিত হয়েছেন এমন দৃশ্য সহজে চোখে পড়েনা। তাদের মধ্যকার বৈরিতা আর তিক্ততার সম্পর্ক এতোটাই গাঢ় যে সেটি দেশ ছাপিয়ে বিদেশে চাউর রয়েছে। সকালে রোদ তো দুপুরে বৃষ্টি, তেমনি শামীম ওসমানের আর আইভীর সম্পর্কে ভাটা নিতে সময় খুব বেশি গড়ায়না।

 

তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো এমপি শামীম ওসমান ও  নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এক সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। এবং একটেবিলে বসে ইফতার করেছেন। এমন বিরল দৃশ্য জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের কল্যাণেই সম্ভবপর হয়েছে। তবে একসাথে একটেবিলে বসে ইফতার করলেও তাদের পরস্পরকে কুশল বিনিময় কিংবা কথা বলতে দেখা যায়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শামীম ওসমান ও আইভীর যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা তা কারো অজানা নয়।  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও আইভী কাছে একলাখ ভোটের বেশি ব্যবধানে হারেন শামীম ওসমান। এরপর থেকে শামীম ওসমানের সাথে আইভীর সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে।

 

ত্বকী হত্যাকাণ্ডে এবং সাত খুনের ঘটনার পর এই সম্পর্কে আরো তিক্ততা আসে। তবে শামীম ওসমানের মা নাগিনা জোহার মৃত্যুর পর শামীম ওসমানের বাড়িতে যান আইভী। সেখানে তিনি তাকে ও তার পরিবারকে শান্তনা দেন। কিন্তু এরপর আবার নানা বিষয়ে শামীম ওসমানের সাথে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয় আইভীর। গতবছর আইভীর মায়ের মৃত্যুর পর শামীম ওসমান তাকে শান্তনা দিতে তাদের বাড়িতে যান।

 

কিন্তু এরপরই কবর ইস্যুতে আবারো আইভীর দিকে পরোক্ষভাবে আঙ্গুল তোলেন শামীম ওসমান। এবং সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে আইভী যাতে মনোনয়ন  না পান সেটিরও প্রানান্তর চেষ্টা চালান শামীম ওসমান এমন কথা চাউর রয়েছে।

 

এবং আইভী মনোনয়ন পাওয়ার পর শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা আইভীর পক্ষে মাঠে নামতে নিরুৎসাহী ছিল এবং অভিযোগ আছে কিছু ক্ষেত্রে তারা বিপক্ষে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রী আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্দেশনার পরও মাঠে নামেননি শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা। এমনকি নির্বাচনে আইভী জয়ী হলেও তাকে ধন্যবাদ কিংবা কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখাননি তারা। এরপরে ত্বকী ইস্যুতেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন তারা দুইজন।


সূত্র  জানিয়েছে, গতকাল  জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম আয়োজিত ইফতার মাহফিলে শামীম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী একটেবিলে বসে ইফতার করছেন এমন খবর মুহুর্ত্বেই পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সবার মধ্যে নানা উৎসাহ  ও আগ্রহের তৈরি হয়। দীর্ঘদিন পর এমন দৃশ্যকে সবাই ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।

 

সবার মনে একটাই প্রশ্ন উকি দিয়েছে, তাহলে কী তাদের মধ্যে বৈরিতার বরফ গলতে শুরু করেছে। এমনটি হলে এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য সুখবর। তবে তাদের কাউকে একে অন্যের সাথে কথা বলতে দেখা যায়নি। এমনকি ইফতার শেষে তারা দুজনই আলাদা পথ দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেছেন।  এরআগে ইফতার অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান ও আইভী একই টেবিলে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী,

 

নারায়ণগঞ্জ -২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু,  মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিনাল কান্তি দাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সোনারগাঁ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ,

 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর পরিচালক ও মিডিয়া সেল এর চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়েসার হাসনাত ইফতার করেন।


এদিকে অনুষ্ঠানে আইভীর উপস্থিতিতে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম তার ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে জানিয়েছে সূত্র। তিনি অভ্যর্থনা বক্তব্যে মেয়র আইভীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। সূত্র জানিয়েছে, এসপি অভ্যর্থনা বক্তব্যে আইভীকে নারায়ণগঞ্জের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর যাকে সারাদেশের মানুষ চেনেন বলে মন্তব্য করেন।


এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে শামীম ওসমান আইভীসহ নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীবিদরা অংশ গ্রহণ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলের মাঝে শহরের উত্তর-দক্ষিণ বলয়ের এই দুই শীর্ষ রাজনীতিবিদকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

 

কেউ কেউ বলছে এই দুই ব্যক্তিকে এক টেবিলে বসানোর জন্য নারায়ণঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান একাধিকবার আহবান জানিয়েছেন। তবে তার বসানোর উদ্দেশ্য ছিল তাদের মাঝে যে রেশারেশি আছে তা দূর করার। কিন্তু এতে তিনি অনেকটা ব্যর্থ হয়েছেন।


রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, এই বছরের জানুয়ারি সিটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরাসরি এই দুই রাজনীতিবিদ একের অপরকে দোষারপ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। মেয়র আইভী তার নির্বাচনী গণসংযোগে গিয়ে বলেছেন নারায়ণগঞ্জের গড ফাদার শামীম ওসমান নৌকা ডুবানোর জন্য তার অনুসারিদের তার বিপক্ষে নামিয়েছেন। বাস্তাবেও তা দেখা গেছে। উত্তর বলয়ের অনেক অনুসারি নৌকার বিপক্ষের প্রার্থী সাবেক জেলা বিএনপি নেতা তৈমূর আলমের পক্ষে প্রচারণা করেন।


অন্যদিকে নাসিক নির্বাচনের এক বছর আগে থেকে মেয়র আইভী যেন নৌকা না পায় তা ঠেকানোর জন্য শামীম ওসমান অনুসারিরা আইভীকে নিয়ে ভূমিদস্যু থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। শহরের দেওভোগ জিউস পুকুর নিয়ে হিন্দু নেতাদের দিয়ে প্রতিবাদ সভা করান বলে অভিযোগ দক্ষিণ বলয় আইভী অনুসারিদের। প্রত্যেক সিটি নির্বাচনে তাদের এই চিরদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

 

এবার নির্বাচনেও নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে শহরের উত্তর দক্ষিন বলয়ের এই দ্বন্দ্ব নিরসন হয় নাই। গতকালের ইফতারে তাদের এক টেবিলে বসা নিয়ে অনেকে হয়ত চিন্তা করেছেন তারা একে অপরের প্রতি হ্যায়-হ্যালো নিবেদন করবেন। কিন্তু তা আর হয়নি। তাই আলোচনা হচ্ছে তারা এক টেবিলে বসলেও কথা হলো না। তবে একটেবিলে যে বসেছেন এতেই অনেকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। এখন দেখার বিষয়, এই স্বস্তি কতদিন নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে বিরাজ করে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন