# সিটি নির্বাচনের পারফরমেন্স বিবেচনায় নেবে কেন্দ্র
# দলের ব্যানারে বিদ্রোহীদের ছেঁটে ফেলা হতে পারে
নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামীলীগের সুতিকাগার বলা হয়। ক্ষমতাসীন দলের জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সভায় তাদের বক্তব্যে বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের প্রথম সভা নারায়ণগঞ্জের পাইক পাড়া মিউচ্যুয়াল ক্লাবে করেন, পরে ঢাকার রোজা গার্ডেনে গিয়ে তা ঘোষণা করেন। তাই এই জেলাকে আওয়ামীলীগের সুতিকাগার হিসেবে বলা হয়ে থাকে।
কিন্তু তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ রয়েছে এই জেলায় আওয়ামীলীগের সুথিকাগার হলেও দুই মেরুর দলাদলিতে তৃণমূলের কর্মীরা কোনঠাসা হয়ে থাকেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তর দক্ষিণ বলয় বলে একটি প্রভাব থাকে। জেলার প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারীদের উত্তর মেরু হিসেবে বলা হয়।
অপরদিকে তাদের বিপরীতে মেয়র আইভী অনুসারিদের উত্তর বলয় হিসেবে জানেন রাজনৈতিক মহল। তাই এই জেলায় দুই মেরুর প্রভাবের কারণে অনেক ত্যাগীনেতারা পর্যন্ত চুপসে থাকেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে ব্যক্তিগত ব্যক্তি লীগ থেকে বেরিয়ে এসে দলকে শক্তিশালি করতে হবে। তাহলে ক্ষমতাসীন দল আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করতে পারবে।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছেন প্রায় ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার পরেও জেলার তৃনমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালি কমিটি নেই। আর এজন্য দায়ী দলীয় নেতারা উত্তর দক্ষিন মেরুর প্রভাবকে দায়ী করেন। জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে আছে প্রায় ৩ বছরের বেশি।
কয়েক দিন আগে দলকে গতিশিল করার লক্ষে জেলা পর্যাায়ের সমে¥লন করার নির্দেশনা দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে আসারা জন্য এক ঝাক নেতৃবৃন্দ তৎপর হয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিজেদের মত করে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। সেই সাথে প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে পর্যন্ত যোগাযোগ করে যাচ্ছে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ পেতে আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দিপুর
নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সবচাইতে জোরেসোরে, এছাড়াও সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, মিজানুর রহমান বাচ্চু। অন্যদিকে গুঞ্জন উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কিংবা সেক্রেটারি পদে আসতে চান বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
তার বিপরীতে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য দাবিদার জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। তৃণমূল থেকেও এবার জেলা আওয়ামীলীগে নতুন নেতৃত্বে চান। অপর দিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন আবদুল হাই এবং সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।
বাদলের নামে অভিযোগের শেষ নেই। ইউনিয়ন নির্বাচনের সময় মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে শুরু কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তাই এবারের সম্মেলনে তার কপাল পুড়তে পারে। তাই এবারের সম্মেলনে তারা আলোচনায় রয়েছেন। তবে সর্বশেষ কে সভাপতি সেক্রেটারি হতে তা সময় বলে দিবে।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনামতে রমজানের পরেই জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হবে। আর এজন্য এখন থেকেই জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আসার জন্য দলীয় নেতা কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে পর্যন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। কিন্তু কে হবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারি পদে তা নিয়ে চলছে বিষেøশণ । এছাড়াও জেলার উত্তর দক্ষিণ মেরুর প্রভাবতো আছেই। তবে সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত কে আসছেন নেতৃত্বে তা বলা যাচ্ছে না।
আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানাযায়, সারাদেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূলের মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল সাংগঠনিক শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে যে সকল শাখার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি সেখানে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। গত ৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এই চিঠি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া হচ্ছে। চিঠির অনুলিপি থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও যাবে। এখন অপেক্ষা শুধু নারায়ণগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, এখনো আমরা কোন অনুলিপি পাইনি, পেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবো। এর আগে তো আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কমিটি গুলোর তৈরি করতে হবে। আর অনুলিপি পাওয়ার পর বলতে পারবো যে কবে কি হবে।
উল্লেখ্য,২০১৬ সালের অক্টোবরে আব্দুল হাইকে সভাপতি, ভিপি বাদলকে সাধারণ সম্পাদক ও নাসিক মেয়র আইভীকে সিনিয়র সহ সভাপতি করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তিতে তা ২০১৭ সালে ৭৪ সদস্যের জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।


