# আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দিকে তাকিয়ে সবাই
# স্বল্প মেয়াদ দীর্ঘ মেয়াদে পরিণত হবে কী না এনিয়েও সংশয়
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বর্তমান পর্ষদের মেয়াদোত্তীর্ণ। ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাহীর কাছে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রশাসক হিসেবে যিনি জেলা পরিষদের দায়িত্ব নেবেন তিনি মাত্র ৬ মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এরপর আবার নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পর্ষদ গঠিত হবে।
এই স্বল্প মেয়াদে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অনীহা রয়েছে খোদ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে। তবে প্রশাসকের মেয়াদ বাড়তে পারে কী না এনিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। একটি অসমর্থিত সূত্রের ধারণা, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও সেটির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
কেননা, বর্তমান নির্বাচন কমিশন মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে এবং সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজন করা তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এরমধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করবেন কি না তা নিয়েও নানা সংশয় প্রকাশ করছে একটি মহল।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসক হওয়া অত্যন্ত সম্মানের একটি বিষয়। প্রশাসক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন অত্যন্ত সফলতার সাথে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার সময়ে জেলা পরিষদের নানা কার্যক্রম অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় এবং শহরেও জেলা পরিষদের নানা কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে। জেলা পরিষদের বর্তমান পর্ষদ বিলুপ্ত হলেও জেলা পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রশাসকের ভূমিকাও কম নয়।
সূত্র জানিয়েছে, সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও সাবেক প্রশাসক আবদুল হাইও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে রাজি রয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদে সাধারণত আওয়ামী লীগের ত্যাগী এবং সজ্জন ব্যক্তিদের দলীয়ভাবে নির্বাচিত করা হয়। এক্ষেত্রে তারা দুই জনই এই পদে সফলভাবে যোগ্যতা রাখেন।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য ত্যাগী নেতারাও যাতে মূল্যায়িত হন এবার সেই প্রচেষ্টার দিকে হাঁটতে পারে দল। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা যুবলীগের আবদুল কাদির,
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়াকে পছন্দ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার। তবে শামীম ওসমানের অনুসারী নেতা হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা এবং সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীলও রয়েছেন তালিকায়।
তবে সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় এবার জেলা পরিষদে প্রশাসক কিংবা চেয়ারম্যান হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সিটি নির্বাচনে তাল মিলিয়ে দলের এবং দলের প্রার্থীর জন্য যারা কাজ করেছেন তারাই থাকবেন পছন্দের শীর্ষে এমনটাই জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সূত্র।
সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদে এমন ব্যক্তিই প্রশাসক কিংবা চেয়ারম্যান হবেন যার ব্যক্তিগত এবং দলীয় ইমেজ ক্লিন। এবং দলের প্রয়োজনে যারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন এমন ডাটা বিভিন্ন অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। কোনক্রমেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করবেনা আওয়ামী লীগ।
তবে যেসসব নেতার নাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই স্বল্প মেয়াদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি নন।
তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কাউকে এই পদে বিবেচনা করেন তবে সেক্ষেত্রে কারো দ্বিমত নেই। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের কর্মকান্ড জেলা পরিষদে নব উদ্যোম তৈরি করেছে। এটির ধারবাহিকতা রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান এমন ব্যক্তিরা জেলার এমপিগণ এবং মেয়র এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও যোগাযোগ করছেন। তাছাড়া কেন্দ্র থেকেও জেলার ত্যাগী নেতাদের ব্যাপারে সর্বশেষ খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্র। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া অবশ্যই সম্মানের বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা।
তারা বলছেন, এমপিগণ এবং মেয়রের ক্লিয়ারেন্স পেলে দলও অবশ্যই তাদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণভাবে নজর দেবেন। এক্ষেত্রে আনোয়ার হোসেনকে যেভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকে নির্বাচিত করেছিলেন এবারও দলীয় প্রতিযোগিতা এড়াতে এমন পদ্ধতিও অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য কোন দল জেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না এমন আভাস মেলেনি।


