Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কথা ছাড়া একটেবিলের ইফতার

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২২, ০৭:২৫ পিএম

কথা ছাড়া একটেবিলের ইফতার
Swapno

# নাসিক নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকেও সাড়া দেননি তিনি
# এসপি ও ডিসি’র এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী

 

‘সেই তো নথ খসালি তবে কেন লোক হাসালি’ প্রবাদের দিকে ঝুঁকতে চায় না নারায়ণগঞ্জবাসী। সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজ দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কোনক্রমেই মেনে নিতে পারছিলেননা সাংসদ শামীম ওসমান ও তার সমর্থকরা। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বারবার আহবানে কোনক্রমেই সাড়া দিচ্ছিলেননা তিনি।

 

কিন্তু একবারে শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তোপের মুখে সংবাদ সম্মেলন করলেও তীর্যকভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন সিটি নির্বাচন ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আইভীকে নুন্যতম ধন্যবাদ তো দূরের কথা উল্টো নানা তীর্যক মন্তব্যে বিভোর ছিলেন শামীম ওসমান। ছেড়ে কথা বলেননি আইভীও। তিনিও একহাত নিয়েছেন শামীম ওসমানকে।

 

কিন্তু সব যেন একনিমিষেই বসন্তের শেষ বাতাসে ঠাণ্ডা করে দিলেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ও জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। রাজনীতির একই দলের দুই মেরুর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দুই নেতাকে এক টেবিলে বসিয়েছেন তারা দুজন। এজন্য অবশ্যই তারা প্রশংসার দাবিদার। তবে একটেবিলে বসলেও তাদের মধ্যে কোন কথা হয়নি। মাত্র কয়েক ফুট দুরুত্বে দুজন ইফতার করলেও চোখের ইশারায় কোন টু শব্দটিও হয়নি। পিনপন নীরবতায় দুজন দুজনের মতো করে ইফতার সেরেছেন।

 

তবে একটেবিলে এই দুজনকে দেখতে পেয়ে আনন্দিত নারায়ণগঞ্জবাসী।  রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা তাদের দুই জনকে এক টেবিলে বসাতে পারলে নারায়ণগঞ্জবাসীর অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাদের আশা কবে নাগাদ পূরণ হবে কিংবা আদৌ পূরণ হবে কি না, একমাত্র সময়ই বলতে পারবে। কেননা তাদের এই বৈরী সম্পর্কটা নতুন কিছু নয়, বংশগত। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জবাসী সবাই জানে চুনকার পরিবার এবং ওসমান পরিবারের সাপে নেউলে

 

সম্পর্কের কথা সেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই এখানকার রাজনীতিবিদসহ প্রায় সকলেই জানে। তবে নারায়ণগঞ্জের এই হাই প্রোফাইলের এই দুই নেতাকে শুধুমাত্র এক টেবিলে বসাতেই কেউ যদি সন্তুষ্ট হতে চান তাহলে হয়তো তাদের চোখ জুড়ানোর সুযোগ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, যে ঘটনা বছরে একবারও ঘটার সম্ভাবনার কথা ভক্তগণ কল্পনা করতে পারেন না আমাদের জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ও জেলা প্রশাসক মুঞ্জুরুল হাফিজ এর

 

বদন্যতায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পর পর দুইবার এই দৃশ্য দেখে চোখ জুড়ালো ভক্তরা। তবে তাদের মধ্যে একটাই আফসোস ‘এই দৃশ্যটা যদি স্থায়ী হতো।’ গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের বাস ভবনে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এক টেবিলে বসে ইফতার করেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান।

 

এর দুই দিন আগে ১৮ এপ্রিল সোমবার জেলা পুলিশের আয়োজনে ফতুল্লার পুলিশ লাইনসে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলেও এক টেবিলে বসে ইফতার করেছেন এই দুই হেভিওয়েট নেতা। যা খুবই বিরল ঘটনা বলে মনে করেন এখানকার জনগণ। কথা না হলেও এরমধ্যেই শান্তি খুঁজেছেন অনেকে। এর আগে গত বছর যখন মেয়র আইভীর মা মারা যান তখন অবশ্য মেয়রের দেওভোগ টুনকা কুটিরে গিয়ে তাকে সান্তনা দিয়েছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান।

 

সেই ঘটনাটি মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারও হয়েছে এবং সাংসদ শামীম ওসমান অনেকের কাছ থেকে বাহবাও পেয়েছেন। এবারের তাদের দু’জনের একসাথে বসার ঘটনাও সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছে এবং হচ্ছে। আর হবে না-ই-বা কেন! এধরণের ঘটনাতো আর অহরহ হয় না। তাই সবার মধ্যেই এই বিষয় নিয়ে বেশ একটা কৌতুহল থাকে। আর পত্রিকা হাতে নিয়ে বিভিন্ন আড্ডায় আলোচনা হয়, আহা যদি আমাদের এই দুই বিশেষ ব্যক্তি যদি একসাথে মিলে মিশে কাজ করতে পারতো তাহলে হয়তো নারায়ণগঞ্জ আরও দ্রুত ও বেশি উন্নত হতে পারতো।

 

অনেকেই আবার মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেহেতু তাদের একসাথে বসানোর ব্যবস্থা করতে পারেনি। সেহেতু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের একসাথে বসার একটা অভ্যাস চালু হচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়তো এই অভ্যাসটাই একদিন কার্যকর ও ফলপ্রসু কোন ফলাফল পাবে নারায়ণগঞ্জের জনগণ।

 

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী আছে যারা এই দুইজনকে এক টেবিলে বসাতে চান। তাদের ধারণা এই উত্তর ও দক্ষিণ বলয় একসাথে হলে শুধু নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নই বেগবান হবে না, একই সাথে শক্তিশালী হবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি। তবে শামীম ওসমান আইভীর তুলনায় উন্নয়নে একেবারেই পিছিয়ে।

 

শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার একাংশ সিদ্ধিরগঞ্জকে আইভী হাতিরঝিলের আদলে রূপ দিয়েছেন। অন্যদিকে ফতুল্লার দিকে তাকালে শামীম ওসমানের উন্নয়ন বিমূখ মানসিকতার যেন ছাপ মেলে। তবে শহরের যানজট নিরসন, ফুটপাত হকার মুক্ত থাকা,

 

ওভারব্রীজ নির্মাণ, হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি, উন্নয়ন কাজে সমন্বয় ও গতি তৈরিতে স্থানীয় সাংসদ ও মেয়রের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। কথা না হলেও এক টেবিলে বসার যেই নজির তৈরি হলো তা যেন নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অব্যাহত থাকে সেই আশার সঞ্চার হয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন