# আমলা নাকি রাজনীতিবিদ সিদ্ধান্ত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী
# ঈদের পর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে বর্তমান পর্ষদের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এখন প্রধান নির্বাহীর কাছে পরিষদ ভেঙে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পরিষদ ভেঙে দেয়ার পর এখন প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সংম্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এইকই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের ভোটার তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে সরকারি কর্মকর্তা অথবা রাজনীতিবিদ উভয়কেই প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ থাকলেও সরকারি কর্মকর্তাদেরই প্রশাসক হিসেবে নিয়োগে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
স্থানীয় সরকার বিভাগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রীর তেজগাও কার্যালয়ে ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি শপথ নেন। জেলা পরিষদগুলোর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।
তাই ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হযেছে জেলা পরিষদের। মেয়াদ শেষ হলে গত ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২২ পাস হয়। বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে, কোন জেলা পরিষদের মেয়াত্তোর্ন হলে এবং পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তঅকে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে।
তবে প্রশাসকের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হবেনা। একই সঙ্গে একাধিকবার কেউ প্রশাসক থাকতে পারবেনা। এই আইনের আলোকে গত রোববার ৬১টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সরকারি কর্মকর্তা নাকি রাজনীতিবিদদের প্রশাসক পদে বসানো হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি যেহুতু রাজনৈতিক তাই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সরকারি কর্মকর্তারা চাইছেন প্রশাসক হিসেবে যেন তাদেরই দায়িব্ব দেয়া হয়। সেভাবেই প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী জেলার অন্তর্গতা সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলরা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যা জেলা পরিষদের ভোটার। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকদের জেলা পরিষদের ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকেও নির্বাচন ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন আইনের আলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। করোনার কারণে নির্বাচন কমিশন এতদিন নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি। জেলা পরিষদের ভোটার হলেওন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর।
ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় জেলা পরিষদের নির্বাচনও আটকে ছিল। আমলারা নাকি রাজনীতিবিদরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাবেন এব্যাপারে মন্ত্রী জানিয়েছেন, এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন সেভাবেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও সাবেক প্রশাসক আবদুল হাইও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে রাজি রয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদে সাধারণত আওয়ামী লীগের ত্যাগী এবং সজ্জন ব্যক্তিদের দলীয়ভাবে নির্বাচিত করা হয়। এক্ষেত্রে তারা দুই জনই এই পদে সফলভাবে যোগ্যতা রাখেন।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য ত্যাগী নেতারাও যাতে মূল্যায়িত হন এবার সেই প্রচেষ্টার দিকে হাঁটতে পারে দল। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা যুবলীগের আবদুল কাদির, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়াকে পছন্দ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার।
তবে শামীম ওসমানের অনুসারী নেতা হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা এবং সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীলও রয়েছেন তালিকায়। তবে সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় এবার জেলা পরিষদে প্রশাসক কিংবা চেয়ারম্যান হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সিটি নির্বাচনে তাল মিলিয়ে দলের এবং দলের প্রার্থীর জন্য যারা কাজ করেছেন তারাই থাকবেন পছন্দের শীর্ষে এমনটাই জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সূত্র।
সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদে এমন ব্যক্তিই প্রশাসক কিংবা চেয়ারম্যান হবেন যার ব্যক্তিগত এবং দলীয় ইমেজ ক্লিন। এবং দলের প্রয়োজনে যারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন এমন ডাটা বিভিন্ন অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
কোনক্রমেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করবেনা আওয়ামী লীগ। তবে যেসসব নেতার নাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই স্বল্প মেয়াদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি নন। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কাউকে এই পদে বিবেচনা করেন তবে সেক্ষেত্রে কারো দ্বিমত নেই।


