গিয়াসউদ্দিনকে নিয়ে আজাদ গংদের ষড়যন্ত্র
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৩৩ পিএম
# আজাদের নকশায় মামুন মাহমুদের চাল
# নাখোশ হলেও কেন্দ্র কাউকে হারাতে চায়না
বিএনপি নির্বাহী কমিটি সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও তার দুই কর্মী সিদ্ধিরগঞ্জ দুইনং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন ও এমএ হালিমকে দল থেকে বহিষকারের লিখিত আবেদন নিয়ে গত ১৯ এপ্রিল (মঙ্গলবার) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫ জন নেতানেত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কুদ্দুস রিজভীর কাছে ধর্না দিতে গিয়েছিলেন।
কিন্তু জেলার সবচেয়ে তুখোড় ও চৌকস এ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ হালে পানি পায়নি। তাই উল্টো অভিযোগকারীদের ধমক খেয়ে ব্যার্থ মনোরথে ফিরে আসতে হয়েছে। রিজভী আহমেদ অভিযোগকারিদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছর দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। এ মুহুর্তে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে রাজী নন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, গত ১৫ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের গ্র্যান্ড তাজ পার্টি সেন্টারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। সকাল দশটায় সেখানে জেলা বিএনপি সদস্য সচিব মামুন মাহমুদের সমর্থকদের একটি মিছিল এলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা গিয়াস সমর্থকরা মিছিলকারীদের উপর উপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
এ সময় দু’পক্ষ পরষ্পরের উপর চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে। দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও মারামারিতে এক পর্যায়ে সম্মেলন পন্ড হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার এ অভিযোগ নিয়ে যারা মামুন মাহমুদ ও মনিরুল ইসলাম রবির অনুগামী হয়েছিলেন তারা হরেন, নজরুল ইসলাম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন আহম্মদ, জাহিদ হোসেন রোজেল, এড. মাহবুবুর রহমান হুমায়ুন, রহিমা শরীফ মায়া, সাবেক যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাবেক যুবদল সেক্রেটারী আশরাফুল ইসলাম রিপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মাহবুব হোসেন প্রমুখ।
এ ব্যাপারে আলাপকালে গিয়াসউদ্দিন সমর্থকরা জানান, রাজনৈতিক দলের সম্মেলন হয় চারদিকে পোষ্টার লাগিয়ে, ব্যনার ফেস্টুন টানিয়ে, তোরণ নির্মাণ করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে। এর আগে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানা বিএনপি সম্মেলনও প্রকাশ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে হয়েছে। কিন্তু গ্র্যান্ড তাজ পার্টি সেন্টারে মনিরুল ইসলাম রবি ও মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে আয়োজিত বিএনপির সম্মেলন হচ্ছিল অত্যন্ত সঙ্গোপনে লুকোচুরির মাধ্যমে।
রবি ও মামুন মাহমুদের কর্মী বাদে আর কাউকে এ সম্মেলন সম্পর্কে জানানো হয়নি। সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও তার অনুসারীদের সম্মেলন সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের নয়টি ওয়ার্ড সম্মেলনও গোপনে করা হয়। এক পর্যায়ে প্রকাশ পায়, কমিটি ঠিক হয়ে আছে এবং এ সম্মেলনের মাধ্যমে তা শুধুই ঘোষনা দেয়া হবে এবং গিয়াস অনুসারীদের কমিটি থেকে মাইনাস করা হবে।
তখন গিয়াস অনুসারীরা সিদ্ধান্ত নেয়, যে করেই হোক দল বিরোধী এ সম্মেলন রুখতে হবে এবং সম্মেলন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় যে নেতৃবৃন্দ আসবেন তাদের কাছে জানতে হবে, কেন তাদের এ সম্মেলন সম্পর্কে জানানো হয়নি, কেন তাদেরকে কাউন্সিলর করা হয়নি?
এ ব্যাপারে আলাপকালে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন জানান, তার বিরুদ্ধে হামলা ও সম্মেলন পন্ড করার অভিযোগ নিছক একটি ষড়যন্ত্র। তিনি এ সম্মেলনের কথা আগে জানতেন না এবং তাকে দাওয়াতও করা হয়নি।


