শপিংমলে বাড়ছে বেচাকেনা হকার্স মার্কেট শূন্য
লতিফ রানা
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২২, ০২:১৫ পিএম
# ঈদকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরেছে শপিং মলে
# পণ্যের দাম বেশি নিচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ
করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর ছিল না দেশে কোন উৎসব। গত বছর মানুষজন কিছুটা বের হলেও এর আগের বছর একেবারে ঘরবন্দি ছিল সবাই। বিপনী বিতানগুলো সারা বছর ব্যবসা করলেও তাদের মূল টার্গেট থাকে ঈদ উৎসব, বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিত্রের ব্যবসার জন্য তারা বছর জুড়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে।
কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে ঈদের আগে ও পরে কোন দোকানপাটই খোলার সুযোগ ছিল না। এর পরের বছর ২০২১ সালেও দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের বিশেষ অনুরোধে হাতে-গোনা কয়েকদিন বিশেষ নজরদারির মধ্যে দোকানপাট খোল ছিল বটে, কিন্তু করোনার প্রভাবের কারণে ব্যবসার তেমন কোন সুযোগ ছিল না।
ফলে দোকান ভাড়া ও স্টাফদের বেতন দিতে গিয়েই হিমসিম খেতে হয় ব্যবসায়ীদের। তাই দুই বছর বিরতির পর এই বছর করোনার প্রভাব সহনীয় পর্যায় চলে আসায় দোকানদার ও ব্যবসায়ী মালিকরা প্রস্ততি নিয়ে রেখেছিল নতুন উদ্যোমে। আশা, গত দুই বছরের ব্যবসায়ীক লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া। ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এমনিতেই একটি আলাদা আমেজ থাকে।
সেই আমেজকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকটি পরিবারেই আলাদা একটি বাজেট থাকে। তবে সেই বাজেট তৈরি করতে অনেক পরিবারকেই দীর্ঘ কয়েকমাসের বাজেট থেকে ভর্তুকি দিতে হয়। মুসলমানদের বছরে প্রধানত দুটি ধর্মীয় উৎসব হয়। এর একটি ঈদ-উল-ফিত্রে বা রোজার ঈদ এবং অন্যটি ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানীর ঈদ। এই দুই ঈদের গুরুত্ব আবার আলাদা।
এর মধ্যে ঈদ-উল-ফিত্রে এক মাস সিয়াম সাধনার পর পালন করা হয়, তাই পুরো রমজান মাস জুড়েই থাকে এই ঈদের প্রস্তুতি। তবে করোনার ধাক্কা শেষে এবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর পকেটের অবস্থা তেমন একটা ভাল নেই। তাই এ ধরণের পরিবারগুলো শুধু ছেলেমেয়েদের পোশাক সামগ্রী কেনার প্রতিই আগ্রহ ছিল বেশি।
ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কেনাকাটা শুরু হয়েছে দেরি করে। ১৫ রোজা পর্যন্ত কেনাকাটার পরিমান ছিল স্বাভাবিক পর্যয়ের। বর্তমানে শপিংমল গুলোতে কিছুটা ভিড় বেড়েছে। তবে হকার্স মার্কেটের দোকানগুলো একেবারেই ফাঁকা। অন্যদিকে দোকানগুলোতে পণ্য সামগ্রীর দাম আগের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।
শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত সমবায় মার্কেটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দেখা যায় দোকানগুলোতে গ্রাহকদের ভিড়। প্রায় প্রতিটি দোকানেই গ্রাহকরা তাদের নিজেদের পছন্দের পোশাক সামগ্রীর যাচাই বাছাই করছেন। গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ায় দোকানদার মুখেও হতাশারভাব দুর হয়ে সেখানে স্থান পেয়েছে হাসির।
ফতুল্লা থেকে আসা গৃহিনী আছমা আক্তার জানান, তিনি তার দুই ছেলে ও এক মেয়েকে সাথে নিয়ে ঈদের জামা কিনতে এসছেন। জামা মোটামুটি পছন্দ হলেও এখন দাম নিয়ে চলছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। অর্থাৎ তাদের বাজেটের তুলনায় অনেক বেশি। দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। এই বিষয়ে দোকানদার আমিনুল জানান, দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসা বন্ধ ছিল।
তখন যে দরদাম ছিল এখন সবকিছুর দামই বৃদ্ধি পেয়েছে তাই আগের চেয়ে দাম একটু বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও জানান, আমরাও চেষ্টা করছি অল্প লাভেই পণ্য ছেড়ে দিতে। সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আসা আরেফীন জানান, ছোট বাচ্চাদের পোশাকের দাম এবার অনেকটাই বেশি। একটু ভাল মানের এক সেট জামা কিনতেই হাজারের উপরে চলে যাচ্ছে। জুতোর দামও আগের তুলনায় অনেক বেশি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে চাষাঢ়া সংলগ্ন আমলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত হকার্স মার্কেটে দেখা যায় সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে ক্রেতা শূন্য দোকানগুলোতে হতাশ দৃষ্টিতে বসে আছেন বিক্রেতারা। দাম জিজ্ঞেস করার জন্যও আসছে না ক্রেতারা। সেখানকার তৈরি পোশাক, জুতার দোকানসহ সবধরণের দোকানই ছিল ক্রেতা শূন্য। বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়,
বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। তারা আশা করছিল অন্তত ১৫ রোজার পর থেকে ব্যবসা ভাল হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে না। গত দুই বছর করোনার কারণে কোন ব্যবসা করতে না পারায় এবছর তাদের মনে হয়েছিল অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু তাদের সে আশায় গুড়েবালি। এখন আরও দুই চারদিন গেলে বুঝা যাবে। এর মধ্যে ব্যবসা না বাড়লে সামনে তাদের কঠিন সময় পারি


