নগরীর সায়েম প্লাজা মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৩৪ পিএম
# মার্কেটের সামনে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো : সভাপতি আলহাজ্ব হাসান ইমাম
মুসলমানদের পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের বাকী আর মাত্র নয় দিন। এরই মাঝে নগরীর মার্কেটগুলোতে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি মার্কেটেই কেনাকাটা করার জন্য ভিড় করছেন ক্রেতারা। এমনকি যারা দিনের বেলা যানজট ও মানুষের ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলিতে কেনাকাটা করতে চান, তারাও মার্কেটগুলোতে আসছেন ইফতারের পর।
অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে মার্কেটগুলোতে পছন্দের জামা-কাপড় কেনাকাটা করছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি মার্কেট রয়েছে। এরই মাঝে ক্রেতাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেট হচ্ছে সায়েম প্লাজা। নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া এলাকায় অবস্থিত এই জনপ্রিয় মার্কেটটি। সব ধরণের তাঁতবস্ত্র পাওয়া যায় এই মার্কেটে।
নগরীর এই সায়েম প্লাজা মার্কেটটি ঘুরে দেখা যায়, এবার ঈদে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নতুন ডিজাইনের নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মেয়েদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিস, টু-পিস, কাজ করা জর্জেট কামিজ, ভিসকস কামিজ, বিভিন্ন রংয়ের প্রিন্টের লং শার্ট, টপস, টিউনিকস, কামিজের জন্য রয়েছে এমব্রয়ডারি স্ক্যান্টস, পালাজ্জো,
লেগিংস, ওড়না ও বিভিন্ন রকমের কসমেটিকস। নারীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি-কাপড়। ছেলেদের জন্য রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, জিন্স, গ্যাবাডিনের প্যান্ট ও বিভিন্ন রকমের টি-শার্ট। এছাড়াও ছোট ছোট বাচ্চা ও ছেলে শিশুদের জন্য রয়েছে শার্ট, ফতুয়া, লং প্যান্ট, কোয়ার্টার প্যান্ট ও বিভিন্ন ডিজাইনের টি-শাট ও পাঞ্জাবি।
মেয়ে শিশুদের জন্য রয়েছে- ফ্রক, পার্টি ফ্রক, ফ্যাশন টপস, থ্রি-পিস, নিমা সেট, টপ বটম সেট, পলো টি-শার্ট ও কার্গো। এছাড়াও সায়েম প্লাজা মার্কেটটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনে ব্যাগের দোকান, মেলা-মাইনের দোকান। আরও রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের হাত ঘড়ি, দেওয়াল ঘড়ি, সানগ্লাস ও চশমার এর দোকান। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন বেন্ডের জুতা।
এদিকে সায়েম প্লাজায় হাইমুন কসমেটিকস ও ব্রাদার্স কালেকশন এর দোকানরা বলেন , আমাদের এখানে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস রয়েছে। সব কসমেটিকস দেশের বাহিরে। আমাদের এখানে ইন্ডিয়া, দুবাই, থাইলেন্ড, মালেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে কসমেটিকস পাওয়া যায়। বেবি জুন হাউজের মালিক হারুন-উর-রশিদ বলেন, আমরা এবারের ঈদে ক্রেতাদের কথা বিবেচনায় রেখে বাহারি ও নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক এনেছি।
বিভিন্ন দামের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে আমাদের এখানে। খুব কম দামের মধ্যেই আমরা দিচ্ছি আমরা। ওপেন কালেকশন হাউজে রয়েছে মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের পাকিস্তানি কটোন। তাদের দোকানে সর্বনিম্ন ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকার পর্যন্ত দামের পাকিস্তানি কটোন রয়েছে। ডালাস ফেশন এ রয়েছে ছেলে-মেয়ে ও ছোটদের জন্য বিভিন্ন রকমের জুতা।
দুলহান শাড়ির দোকানের মালিক শাহ-আলম জানান, এখানে বিভিন্ন ধরনের সুতি শাড়ি রয়েছে। দেশি তাঁতারে শাড়ি মান বুঝে সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও রয়েছে কাতান, জামদানি, হাফসি, বেনারশি ও রেহেনঙ্গা। টাইস ওর্য়াল্ড এন্ড অপটিক্যাল এর দোকানের মালিক আলমগীর হোসন জানান, এবার চশমা ও ঘড়ি মোটামুটি ভালো বিক্রি হচ্ছে।
অনেকেই আসছে কিনতে। কয়েকদিন পর আরও বাড়বে মনে আশা করছি। আমার দোকানে ছেলে-মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের হাত ঘুড়ি ও চশমা রয়েছে। এখানে আমরা ক্রেতাদের ভাল মানের পণ্য দিচ্ছি ও দামও কম রাখছি। এদিকে সায়েম প্লাজায় মেয়েকে নিয়ে শপিং করতে এসে আয়েশা নামে একজন জানান, করোনার জন্য গেল দুই বছর বাইরে বের হয়ে কেনাকাটা করতে পারি নাই।
এবার পরিবারের জন্য ঈদ শপিং করতে বের হয়েছি। আমি সব সময় এই মার্কেটটি (সায়েম প্লাজা) থেকে কেনাকাটা করি, এখানে আসলে সব কিছুই পাওয়া যায়, দামও মোটামুটি আছে। এ বিষয়ে জেলা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও সায়েম প্লাজা মার্কেট কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব হাসান ইমাম জানান, অন্যান মার্কেট থেকে আমাদের মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা একটু বেশি।
আমরা ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা চেয়ে পণ্য বিক্রি করিনা। আমি আমার মার্কেট এর প্রতিটি দোকানে বলে দিয়েছি তারা যাতে ক্রেতাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন এবং কোন মালামাল কেনার পর যদি ক্রেতা ফেরত দিতে চায় তাহলে তা রেখে যাতে টাকা ফেরত দিয়ে দেয়।
এছাড়াও ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের মার্কেটে কড়া সিকিউরিটি রয়েছে এবং আমাদের প্রতিটি দোকানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে দাবী জানায় ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য শহরের প্রতিটি মার্কেট এর সামনে যাতে পুলিশের টহল রাখা হয়।


