Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

এখানেই আইভী-শামীমে তফাৎ

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৩:০০ পিএম

এখানেই আইভী-শামীমে তফাৎ
Swapno

# উপহার সামগ্রীর তালিকায় ছিল সোনাই ঘোষের ৫০ কেজি মিষ্টি
# শামীম ওসমান যেখানে প্রচারে উদগ্রীব, আইভী সেখানে প্রচার বিমুখ

 

‘যত গর্জে তত বর্ষে না’ প্রবাদটি যেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের কয়েকজন রাজনীতিকের ক্ষেত্রে বারবার প্রযোজ্য। আবার অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মিশনপাড়ায় রামকৃষ্ণ মিশনের দেয়ালে বড় করে লেখা সাধুনাগ মহাশয়ের একটি উক্তি। সেখানে লেখা ‘যত থাকে গুপ্ত, তত হয় পোক্ত, যত হয় ব্যক্ত তত হয় ত্যক্ত’। নারায়ণগঞ্জের দুই প্রসিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে যেন এখানেই তফাৎ।


বোদ্ধা মহল এসব মন্তব্য করার কারণ হচ্ছে, তারা দুইজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তবে গত কয়েকবছর ধরে রাজনীতিতে নিজের প্রভাব তলানীতে ঠেকে যাওয়া শামীম ওসমান প্রায়শই তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি বারবার টেনে আনেন। যখনই রাজনীতিতে তার কোন বড় ধরণের সংকট তৈরি হয়,

 

তখন সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা নিয়ে আসেন।যেমনটি এবার হয়েছিল, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে। গত দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতোই আগে থেকে শামীম ওসমান চেয়েছিলেন যাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মনোনয়ন না পান। এনিয়ে নানা ধরণের ঘটনাবহুল চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। সব প্রতিকূলতা এড়িয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দেন।

 

শুধু তাই নয়, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের ঢাকায় ডেকে নিয়ে আইভীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেন। এখানেই শেষ নয়, সেই সভায় ভিডিওতে যুক্ত হন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। কিন্তু এতো কিছুর পরও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা আইভীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে রাজি হননি এবং নামেননি।

 

শেষে বিরক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা নানা প্রকার হুঁশিয়ারি দেন। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেচে থাকতে নৌকা পাবেননা। এরপরপরই কেন্দ্রীয় চাপে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেন শামীম ওসমান। তবে কেন্দ্রও তার অনুসারীদের রাখে সন্দেহের চোখে।

 

ভেঙে দেয়া হয় শামীম ওসমানের অনুগত চার চারটি কমিটি। নির্বাচনে আইভী ঠিকই বিজয়ী হন। এরপর শামীম ওসমান  যেন মিইয়ে যেতে শুরু করেন। বেশ কিছু গণমাধ্যমে হঠাৎ সংবাদ প্রচার হয়, প্রধানমন্ত্রী নাকি শামীম ওসমানকে সংসদে বলেছেন, ‘অল থ্যাংকস টু ইউ শামীম ওসমান’। এরপর চলে নানা প্রচারণা।

 

নির্বাচনে আগে যেখানে শামীম ওসমানই ছিল আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বির সাথে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে প্রধানমন্ত্রী কেন সকল কৃতিত্ব দিয়ে দিলেন এনিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মাঝে আইভী নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ গ্রহণের পর মিষ্টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দোয়া নিতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে যান।

 

সেখানে মুঠোফোনে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে দোয়া নেয়ার আরজি জানান। প্রধানমন্ত্রীও তাকে নানা দিকনির্দেশনা জানান। করেনার কারণে যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করার ব্যাপারে কিছু কঠোরতা রয়েছে সেটি সকলেরই জানা। কিন্তু যেখানে ব্যক্তিটি মেয়র আইভী। সেখানে তো বিশেষ কিছু থাকবেই।

 

প্রধানমন্ত্রীও আইভীকে অনেক স্নেহ করেন। সূত্র জানিয়েছে, আইভীর সেই আবদার (যেমনটি গত দুই সিটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করে দোয়া নিয়েছেন) এবারও রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র জানিয়েছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের যে কোন দিন গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করেছেন মেয়র আইভী।

 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে মিষ্টি ও উপহার সামগ্রী নিয়ে গণভবনে যান আইভী। সেখানে আইভীর সাথে নারায়ণগঞ্জের নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আইভী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন বলে জানায় সূত্র। স্বশরীরে দেখা করে সবিস্তারে গতবছরের সকল ঘটনবলী,

 

উৎস এবং নেপথ্যের ব্যক্তিদের সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে মেয়র আইভীর এমনটি জানায় সূত্র। স্নেহভাজন আইভী নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে পরম মমতায় তার হাতে নানা উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।  সূত্র জানিয়েছে, প্রধামন্ত্রীর জন্য আইভীর নেয়া উপহারগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সোনাই ঘোষের ৫০ কেজি মিষ্টি তালিকায় ছিল বলে জানা গেছে।

 

অন্যান্য উপহার সামগ্রীর মধ্যে জামদানিও থাকতে পারে বলে জানায় সূত্র। তবে প্রধানমন্ত্রী মেয়র আইভীকে কী কী উপহার দিয়েছেন তা জানা না গেলেও সূত্র জানায়, আগামীতে পথ চলতে মেয়র আইভীকে পরম মমতায় নানা উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শামীম ওসমান যেখানে প্রধানমন্ত্রীর রেফারেন্স দিয়ে নানা প্রচারণায় ব্যস্ত।

 

শামীম ওসমান যতখানি প্রচারণায় ব্যস্ত তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি তার সমর্থকরা। কিন্তু সেখানে মেয়র আইভী তো একেবারেই প্রচার বিমুখ।আর প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাতের বিষয়টি তিনি ও তার একান্ত অনুগত কর্মীরাও একেবারে প্রচারনায় নিয়ে আসেননি। এতে প্রমাণিত হয়, রাজনীতিতে আরো অনেক বেশি পরিপক্কতা অর্জন করেছেন মেয়র আইভী।

 

এমনিতেই উন্নয়নে আইভীর ধারেকাছেও নেই শামীম ওসমান। ইতিমধ্যে রাজনীতিতেও শক্ত অবস্থানে আইভী। আইভীর সবকিছু যেখানে খুব দৃঢ় হচ্ছে সেখানে শামীম ওসমান তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। আর একারণেই আইভীর চেয়ে শামীম ওসমান প্রচারণার দিকে বেশি ঝোঁকেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন