Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পুরনো ইস্যু নিয়ে ওসমান অনুসারীরা মাঠে

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২, ০৩:০৫ পিএম

পুরনো ইস্যু নিয়ে ওসমান অনুসারীরা মাঠে
Swapno

# ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ২১ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত এই আদেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোকন সাহার ঘনিষ্ঠ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা। তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। এই খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া মনিবার সকালে দুপুরে একাধিক প্রতিবাদ সভা করেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা উঠেছে আবারও নারায়ণগঞ্জের শান্তি অশান্তিতে পরিণত হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি এই পরিবেশ সৃষ্টি করছে।


গতকাল সকালে মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ব্যানারে আয়োজিত হিন্দু নেতারা নাসিক মেয়রকে হুমকি দিয়ে মন্তব্য করেন। হিন্দু নেতা শিখন সরকার শিপন নাসিক মেয়র আইভীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি কি করে ভাবলেন খোকন সাহার মতো একেজন কর্মীবান্ধব নেতার নামে মিথ্যা মামলা দাায়ের করবেন আর নারাণগঞ্জের মানুুষ চুপ করে বসে থাকবে।

 

আমরা আপনাকে পরিস্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আন্দোলন করে আপনার মেয়র ভবনে প্রবেশ বন্ধ করে দেবো। আপনি জোর করে দখল করে নেবেন আর সবাই বসে থাকবে তা হবে না।


নগরীর সচেতন মহল বলছেন, নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন মেয়র আইভীর প্রতি জিউস পুকুর নিয়ে যে অভিযোগ তা অনেক আগের পুরোন অভিযোগ। একই অভিযোগ ১৯৮৪ সনে মেয়রের পিতা আলী আহম্মেদ চুনকাকেও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই জিউস পুকুরে জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। কিন্তু আদালতে না দাড়িয়ে শহরে এক শ্রেনীর লোক তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মেয়র আইভীকে নিয়ে কুৎসা রটিয়ে মন্তব্য করছেন।

 

নাসিক নির্বাচনের এক বছর আগের থেকে একই ঘটনা নিয়ে হিন্দু সংগঠন, হেফাজত ইসলাম সহ শামীম ওসমান অনসারীরা প্রতিবাদ সভা করে। কিন্তু তাদের প্রতিবাদ সভা শহরের মানুষ আমলে নেন নাই। তাই সচেতন মহল মনে করেন শামীম ওসমান অনুসারিরা পুরোন ইস্যুকে নিয়ে গোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে। যা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ার মত।

 

যার জন্য সকল ষড়যন্ত্রকে ভেদ করে আবারও মেয়র আইভী নৌকা মনোনয়ন নিয়ে নাসিকের মেয়র হন। দলীয় সূত্রে জানাযায়, তার এই মনোনয়ন আটকানোর জন্য একটি পক্ষ অনেক ভাবে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়। আইনবিদদের মতে খোকন সাহা মেয়রকে নিয়ে যেন মন্তব্য করেছে তা মোটেও একটা রাজনীতিবীদ হিসেবে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। তার মন্তব্যের কারনে মেয়র আইভী মামলা করেছে। একজন সম্মানিত ব্যক্তি তার সম্মানহানি হলে তিনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মামলা করতে পারেন। এটা তার আইনি অধিকার।


এদিকে গতবছরের জানুয়ারি থেকেই হঠাৎ নানা বিষয়ে আইভীকে ইশারা ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন খোকন সাহা। সেটির মাত্রা এতোই বেশি ছিল যে কিছু বিষয়ে খোকন সাহা মাত্রাতিরিক্ত বলে ফেলেন।

 

গতবছর মোটেও ভালো যায়নি খোকন সাহার। বিশেষ করে সিটি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আইভীর পক্ষে মাঠে নামার কয়েকদিনের মাথায় সোনারগাঁয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সারাদেশে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরে কোন মতে রক্ষে পেয়েছেন। কিন্তু নতুন বছরেও খোকন সাহার জন্য সুখবর নেই।

 

ইতিমধ্যে আইভীর করা মামলায় খোকন সাহা ডেমকেয়ার করেছিলেন। যেটিকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে গেল। এই মামলার পর এক অনুষ্ঠানে খোকন সাহা বলেছিলেন, তিনি এই মামলায় জামিন নেবেন না। সাংসদ শামীম ওসমানও একই কথা বলেছিলেন। ২৯ জানুয়ারি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘খোকন সাহার নামে মামলা হয়েছে।

 

আমরা চাই মামলার চার্জশীট হোক। খোকন সাহা যদি জেলে যায়, যাক। এরপর আমরা দেখবো নারায়ণগঞ্জ কেমন হয়। আপনারা সাংবাদিকেরা তখন লাখ লাখ ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। খোকন সাহা জেলে গেলে তখন হয়তো আমরা আবার একটু আগের বয়সে ফিরে যেতে পারবো।


২৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আছে খোকন সাহা। এই ছোট-খাটো মামলাতে জামিন নেওয়ার জন্যে এখানে বইসা নাই।’ এখন দেখার বিষয় খোকন সাহা শামীম ওসমানের কথা ঠিক রাখবেন নাকি ভিন্ন পথ ধরবেন। কিন্তু এদিকে চির বৈরি সম্পর্ক থাকা শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীকে দুইদিনের ব্যবধানে দুই বার এক টেবিলে বসে ইফতার করতে দেখা গেছে। এখন খোকন সাহার এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি কি ভিন্ন দিকে মোড় নেবে নাকি একাই লড়বেন খোকন সাহা সেটিই এখন দেখার বিষয়।


উল্লেখ্য গত বছরের ৪ জানুয়ারি সাইবার ট্রাব্যুনালে মামলাটি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মামলাটি তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলায় সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অভিযোগ করেন,

 

‘হিন্দু লাইভস ম্যাটার’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে তাকে জড়িয়ে হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন খোকন সাহা। এ সংক্রান্ত দু’টি ভিডিও ওই ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিও দু’টির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড এবং ১২ মিনিট ৪২ সেকেন্ড।

 

ওই ভিডিওগুলোতে পরিকল্পিতভাবে তাকে জড়িয়ে আক্রমনাত্মক বক্তব্য দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন, অপমান অপদস্ত করা এবং রাজনৈতিকভাবে ফায়দা হাসিল করারও অভিযোগ করেছেন সিটি মেয়র আইভী। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩৫ ধারায় করা এই মামলা করা হয়। মামলার অপর আসামি ‘হিন্দু লাইভস ম্যাটার’ নামক ইউটিউব চ্যানেলটির প্রকাশক ও সঞ্চালক কানাডা প্রবাসী প্রদীপ দাস।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন