Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কাজীর ‘নিকাহনামা’ জাল

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪৭ পিএম

কাজীর ‘নিকাহনামা’ জাল
Swapno

# কাজী ভলিয়মে লিবিবদ্ধ না করেই দেন জাল নিকাহনামা
# কাজীর প্রতারণায় দুই পরিবারের জীবন অতিষ্ঠ

 

কাছের বন্ধু-বান্ধব আর ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বিয়ে করতে যান নিবন্ধনভুক্ত কাজীর অফিসে এক যুবক। কাজীও সব নিয়মনীতি মেনে বিয়েও পড়েন। ভালোবাসার মানুষকে স্ত্রী হিসেবে পেয়ে সুখে শান্তিতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন তারা। প্রেমের বিয়ে বিধায় তিন বছর পরেও মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি এই বিয়ে। মেয়ের খোঁজ পেয়ে থানায় দায়ের করেন অপহরণ মামলা।

 

এরপর পুলিশ এসে সেই যুবককে গ্রেফতার করেন। এই অপহরণ মামলার কারণেই তিনি জানতে পারেন এতোদিন তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাস করলেও কাজীর চালাকি আর প্রতারণায় তাদের বিয়েই রেজিষ্ট্রি হয়নি। এমনকি নিকাহনামাও সঠিক নয়। কাজীর এই প্রতারণায় এখন ভেঙে গেছে সেই যুবকের পরিবার।

 

এমনই এক প্রতারণার শিকার হয়েছেন দেওভোগ এলাকার মৃত মো. ফজলুল হকের ছেলে মো.আরিফুল হক শ্যামল (৪০)। নারায়ণগঞ্জের বিবাহ নিবন্ধক ও কাজী দেলোয়ার ও কবির হোসেনের খপ্পরে পড়ে তারা এই প্রতারণার শিকার হন।

 

এঘটনায় ভুক্তভোগী শ্যামল বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘ক’ অঞ্চলে বিবাহ নিবন্ধক ও কাজী বন্দর ধামগড় এলাকার মো.  কবির হোসেন (৪৫), মৃত আবদুল মন্নাফ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৬০), মো. দুলাল মিয়ার ছেলে মো. আতিকুর রহমান হৃদয় (২৪) এর নামে মামলা দায়ের করেছেন (সিআর মামলা ১৪৪/২০১৯)। আদালত এই ঘটনায় পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

 

মামলার বাদী ভুক্তভোগী মো.আরিফুল হক শ্যামল (৪০) জানান, তিনি ও তার সাথে পরিচিত লামিয়া আক্তার দোলন দীর্ঘদিনের পরিচিত। তারা প্রেমের সম্পর্ক ধরে বিয়ে করার জন্য বিবাহ নিবন্ধক ও কাজী দেলোয়ারের স্মরণাপন্ন হন।  দেলোয়ার তাদের বিবাহ নিবন্ধক ও কাজী বন্দর ধামগড় এলাকার মো.কবির হোসেনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন (৪৫)।

 

২০১৬ সালে ২ জুলাই বাদী নিজে, বন্দরের বুরন্দি এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে আলী হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে দুলাল ফরাজী, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকার বাবুল প্রধানের ছেলে অপু প্রধান, কিল্লারপুরল এলাকার মৃত ইরাকুর রহমানের ছেলে খলিলুর রহমান,

 

আরামবাগ এলাকার মৃত সামসুল হক মুন্সীর ছেলে হাজী সিরাজ ও লামিয়া আক্তার দোলনের মামা আসমাউল হোসেনা ও ভাই আতিকুর রহমানের সম্মুখে দুলাল মিয়ার মেয়ে লামিয়া আক্তার দোলনকে ইসলামের শরিয়ত মোতাবেক ১ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য্য করে  চাষাড়া ব্যাংকোয়িট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বিবাহ নিবন্ধক ও কাজী দেলোয়ারের মাধ্যমে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করেন।

 

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১ জুলাই তারিখে কাজী মো. কবির হোসেনের কাছ থেকে তার স্বাক্ষরিত ও তার সলি সম্বলিত নিকাহ নামা গ্রহণ করে লামিয়া আক্তার দোলনের সাথে সুখে শান্তিতে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রীর সাতে তার এই বিবাহ তার শ্বশুর দুলাল মিয়া মেনে নেননি। এর জের ধরে ২০১৯ সালের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৩৮(৫)১৯ নম্বরের একটি অপহরণ মামলা করেন।

 

এই মামলায় লামিয়অ আক্তার দোলন ২২ ধরায় জবানবন্দি করে। এসময় দোলন বিবাহের সময় স্বাক্ষর দেওয়ার কথা বর্ণনা করে। এই মামলায় আরিফুল হক শ্যামল তাদের বিবাহের প্রমাণ স্বরূপ কাজী কবির হোসেনের দেয়া কাবিননামা বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করলে আসামী দুলাল মিয়া আদালতে কাবিননামা জ্বাল বলে দাবি করলে বিবাহের কাবিনের কাজী অত্র মামলার ১নং আসামী কাজী কবির হোসেন ও বাকি আসামীরা যোগসাজসে অবৈধভাবে লাভবান হয়ে

 

কাজী কবির হোসেন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তার সরবরাহকৃত কাবিন নামাটি অর্র্থাৎ ২০১৭ সালে ওই তারিখের নিকাহনামার হুবহু স্বাক্ষর ও সীল সম্বলিত একটি প্রত্যয়নপত্র ২০১৯ সালের ২০ মে প্রদান করেন। তাতে তার অফিসে ওই নামে কোন রেজিষ্ট্রিভুক্ত কাবিননামা নাই এবং অফিসে রক্ষিত কোন রেজিষ্ট্রি নাই।

 

এই রূপ প্রত্যয়নপত্র কাজী বাকির আসামীদের সাথে মিলে নিজের স্বাক্ষর অস্বীকার করেন এবং অন্য আসামীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গেও আশ্রয় নিয়ে এই দুষ্কর্ম করেন। পরবর্তীতে কাজী কবির হোসেনের দেয়া প্রত্যয়নপত্রটি পর্যালোচনা করে দেখায় যায়, নিকাহ নামায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের স্বাক্ষীর নাম লিপিবদ্ধ আছে।

 

এরপর তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে বাদী হতভম্ব হয়ে যায়। কাজী তখন জানায় এই কাবিনের বিষয়ে উপর মহলেল চাপ আছে এর বেশি কিছু সে বলতে পারবেনা এবং নিকাহ নামার সীল ও স্বাক্ষর তার নয় বলে অস্বীকার করে।পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কাজী কবিরকে এই জাল জালিয়াতি, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের ও দুষ্কর্মের কারণ জিজ্ঞাসা করে নিকাহ নামা যথাযথভাবে কাজীর ভলিয়মে লিপিবদ্ধ না করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে কাজী কবির হোসেন

 

বলে যা সে করে ফেলেছে তা আর সোধরানো সম্ভবনা। এবং এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় কাজী দেলোয়ার। এদিকে কাজীর প্রতারণায় দুই পরিবারে এখন ধ্বংসের মুখে। ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি শুধু ন্যায় বিচার চাই। কাজীর প্রতারণায় আমাদের জীবন এখন ধ্বংসের মুখে। এব্যাপারে কাজী দেলোয়অর ও কবির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন