Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বড় শাহজাহানের জুয়ার আসর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪৫ পিএম

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বড় শাহজাহানের জুয়ার আসর
Swapno

#  জুয়ার মামলায় দ্রুত ছাড়া পেয়ে তারা বারবার এই অপকর্ম করে : এসপি
# জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি জানা নেই : সদর ওসি

 

গত দেড় মাস ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় ঈদকে সামনে রেখে কুখ্যাত জুয়াড়ী বড় শাহজাহানের নেতৃত্বে ২৪ ঘন্টাব্যাপী জুয়ার আসর বসালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তারা বিষয়টি জানেননা। সদর মডেল থানার ওসি শাহ জামান যুগের চিন্তাকে বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি তার জানা নেই।

 

এদিকে এব্যাপারে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, এরকম জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান আছে। জুয়ারিরা গ্রেফতার হলেও দ্রুত ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাছে জড়িত হয়। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি আমি দেখবো, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বড় শাহজাহানের প্রকাশ্য জুয়ার আসর চালানোর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। গতকাল যুগের চিন্তায় এনিয়ে সবিস্তারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গতকাল ২৫ এপ্রিল সকালেও জুয়ারিদের অভয়ারন্য তৈরি হয় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বড় শাহজাহানের জুয়ার বোডে।

 

প্রতিদিনকার মতো গতকালও প্রকাশ্যে এই জুয়ায় সর্বশান্ত হয়েছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য, সাংবাদিক,  টার্মিনালের নেতৃবৃন্দসহ সকল জায়গা ম্যানেজ করেই ২৪ ঘন্টা ব্যাপী লাখ লাখ টাকার জুয়ার এই আসর বসানো হয়েছে। জুয়ারিদের জন্য রান্নাবান্না, খাবারদাবার, আরামের ব্যবস্থাও করেছে বড় শাহজাহান।

 

কিছুদিন আগে বড় শাহজাহানের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী সংগঠন ইয়ার্ন মার্চেন্টে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এসপি হারুন অর রশীদ থাকাকালীন বর্তমান এই জুয়ার আসর থেকেই বহু জুয়ারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু  এবার সবকিছু ম্যানেজ করে আটঘাট বেধেই জুয়ার আসর নিশ্চিন্তে চালাচ্ছে বড় শাহজাহান। শহরব্যাপী এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দেখেও না দেখার ভান করছে। এতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজ।

 

সূত্র জানিয়েছে, বড় শাহজাহান গত দেড় মাস ধরে বড় বড় জুয়ার বোর্ড বসিয়েছে। এসপি হারুনের সময় অভিযান চালানো ৩নং মাছ ঘাট ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মধ্যবর্তী জায়গাতেই এই জুয়ার আসর চালাচ্ছে বড় শাহহাজান। এতে ঈদের আগের সর্বশান্ত হচ্ছে প্রতিদিন শত শত মানুষ। বড় শাহহাজান জুয়ারীদের জন্য খাবার-দাবারসহ নানা আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করেছে।

 

সূত্র জানায়, এবার ২৪ ঘন্টা এই জুয়ার আসর চালানোর জন্য সদর মডেল থানার এক কর্মকর্তাকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা দেয়ার চুক্তিতে এই আসর বাসায় শাহজাহান। যদিও সদর মডেল থানার ওই অফিসের উপরের বড় কর্মকর্তা জুয়ার এই টাকার প্রতি আগ্রহ দেখাননি। পরে সেটি চলে যায় ওই কর্মকর্তার কাছে। তাকে ম্যানেজ করেই মূলত এই জুয়া ২৪ ঘন্টা ব্যাপী চালায় বড় শাহজাহান।

 

সূত্র জানিয়েছে, নির্বিঘ্নে এই জুয়ার আসর চালানোর জন্য পুলিশের টহলের গাড়ির উপরও নজরদারির ব্যবস্থা করেছে বড় শাহজাহান। পুলিশের গাড়ি চোখে চোখে রাখার জন্য মাউরা হোটেল, কালিবাজার, ১নং রেলগেট, বাসস্ট্যান্ড, ৫নং ঘাট, টার্মিনাল ঘাটে বেশ কিছু লোক মাসিক চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে বড় শাহজাহান। বিভিন্ন পয়েন্টে এমন চেকার সিস্টেম করে পুলিশের উপর নজরদারি রেখে সার্বক্ষণিক জুয়ার বোর্ড চালানোর ব্যবস্থা করেছে কুখ্যাত বড় শাহজাহান।

 

সূত্র জানিয়েছে, বড় শাহজাহানের সাথে লিটন নামের এক ব্যক্তিও এই মনিটরিং কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে। গত বছরের  ২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা সংলগ্ন ৫নং মাছঘাটের জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে  ১২ জুয়াড়িকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।  তখন র‌্যাব-১১’র কোম্পানী কমান্ডার জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়,

 

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল জুয়ার আসর। কখনো বাসের ভিতর আবার কখনো ২-৩ বাস রেখে মাঝে চলতো এই জুয়ার আসর। সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র ৫নং মাছ ঘাটের পাশে রেলওয়ের খালি জায়গা দখল করে বাঁশ ও টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে জুয়ার আস্তানা বানিয়ে জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে।

 

সেখানে প্রায় শতাধিক লোক নিয়মিত নিষিদ্ধ জুয়া খেলায় অংশ নিত এবং প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার খেলা হয়। এরআগে ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি জুয়ার আস্তানায় হানা দিয়ে ২৮ জুয়ারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মাদক ও নগদ টাকা। ৩ আগস্ট শনিবার রাত ৭টা হতে ৯টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা ওই অভিযান চলে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন