Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কে এই শিখন সরকার শিপন?

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

কে এই শিখন সরকার শিপন?
Swapno

# পিয়ন থেকে হিন্দু নেতা
#  তৈল মর্দনে পটু তিনি

 

বাংলায় প্রবাদ আছে খালি কলস বাজে বেশি। অর্থাৎ যাদের ভিতরে মাল মশলা না থাকে তারা গলার জোরে চিল্লায় বেশি। নারায়ণগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

 

তার নিজের পায়ের নিচে মাটির জোর না থাকলেও অন্যের ভরসায় মুখে বড় বড় কথা বলেন তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে থেকে অভিযোগ উঠেছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সাধারন সম্পদক শিখন সরকার শিপন দুই বছরের বেশি দায়িত্বে থাকার পরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেন নাই।

 

সেই সাথে জেলার সবকটি থানাতে কমিটি গঠন করতে ব্যার্থ হয়েছে। সচেতন মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে ব্যক্তি কমিটির পদে থেকে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয় সে কি করে একজন জনপ্রতিনিধিকে হুমকি দিয়ে কথা বলেন।

 

জানা যায়, শনিবার ২৩ এপ্রিল মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পূূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন নাসিক মেয়র আইভীকে হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি কি করে ভাবলেন খোকন সাহার মতো একজন কর্মীবান্ধব নেতার নামে মিথ্যা মামলা দাায়ের করবেন আর নারাণগঞ্জের মানুুষ চুপ করে বসে থাকবে।

 

আমরা মেয়রকে পরিস্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, অবিলম্বে খোকন সাহার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আন্দোলন করে আপনার মেয়র ভবনে ঢুকা বন্ধ করে দেবো। তার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে আলোচনা হচ্ছে তিনি এই কথা বলার কে। তার কাছে কি এমন সুপার পাওয়া আছে যে সে মেয়রকে ভবনে প্রবেশ করতে দিবে না।

 

তার পিছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা খুজে বের করা উচিৎ।  এদিকে যুগের চিন্তার অনুসন্ধানে জেলা পূযা উদযাপন পরিষদের এই হিন্দু নেতার শিপনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীন নেতাদের সাথে আলাপকালে একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, শিখন সরকার শিপন কুমিল্লা থেকে এসে নারায়ণগঞ্জে ঘাটি বাধে। তার বাব দাদার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।

 

২০০১ সনের পরে বিএনপি সরকারের আমলে বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান বদুর পিয়ন হিসেবে কাজ করতেন শিখন সরকার শিপন। বিএনপি ক্ষতমা হারালে তখন তিনি জাতীয় পার্টির কিছু নেতার ছায়া নেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এই সরকার ক্ষমতা থাকা কালিন সময়ে ২০১২ সনের দিকে শিপন উকিল পাড়া বৈশাখি হোসিয়ারিতে ছাপার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেই ব্যক্তি এখন জেলার প্রভাশালি পরিবারের আশীবার্দে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বনে এসি রুমে থাকেন।

 

আলাপ কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীন কয়েকজন ব্যক্তি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠাল। আর এই কাঠাল খেতে হলে হাতে তৈল মাখতে হয়। তিনি এক সময় পুযা উদযাপনের নেতারদের পিছনে ঘুরে ঘুরে তৈল মর্দন করতেন। অনেককে তৈল মদর্ন করে তিনি এই জায়গায় এসেছে বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। এই নারায়ণগঞ্জে তার কোন অস্তিত্ব ছিলনা।

 

কিন্তু আজকে তিনি জেলার প্রভাবশালি পরিবারের আশীর্বাদে এসি রুমে ঘুমান। তাকে এখন আর পিছনে তাকাতে হয় না। তাই সচেতন মহল মনে করেন কাঠালের তৈল মর্দনকে কাজে লাগিয়ে আজ তিনি নিজেকে এই পর্যায় নিয়ে এসেছে। তবে সেই পিয়ন থেকে এই জায়গায় এসে তিনি আজকে নাসিক মেয়রকে হুমকি দিয়ে কথা বলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বিচার আচার করে তিনি টাকা নেন। তবে এবিষয়ে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নাই।


জানাযায়, নগরীর দেওভোগ জিউস পুকুরের আশ পাশের এলাকাতে যে জমি আছে তা সিএস পর্চায় ৭ একর জমি ছিল। অথচ এই জায়গার এখন ১ একর জায়গা নিয়ে এত ঢাকঢোল। তাই নগরবাসির মাঝে প্রশ্ন উঠেছে এখানকার বাকি জায়গা কোথায় গেল। ওই জায়গা নিয়ে হিন্দু নেতাদের মাঝে প্রতিবাদ নেই কেন। তারা কাকে খুশি করতে শহরের দাঙ্গা লাগানোর পায়তারা করছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিন্দু নেতা জানান, তৎকালিন রাজন্দ্র প্রসাদ যা সকল সম্পত্তি ওই সময় জেলা জ্বজ এর অনুমতিতে লক্ষি নারায়ণ মন্দিরের উন্নয়নের কথা বলে এই সম্পত্তি বিক্রি করে। পরে লক্ষী নারায়ণ মন্দিরের কমিটি এই সম্পত্তি ইসকনে বিক্রি করে। যার পূর্ব পাশে মন্দির বানানো হয়। অথচ বিক্রি হওয়া সম্পত্তি নিয়ে হিন্দু নেতাদের কোন রা শব্দ নেই। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন