তিনি কী আইভীর কাছে ক্ষমা চাইবেন?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২৩ পিএম
এখন আর আইভীর বিরুদ্ধে গলা ফাঁটিয়ে কোনো লাভ হবে না। হুমকি-ধমকি কোনো কাজে আসবে না। কারন খোকন সাহা এবং তার রাজনৈতিক প্রভু শামীম ওসমানের হুমকি ধমকি মানুষ কম দেখেনি, কম শুনেনি। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে টানা পাঁচ বছর ধরে খোকন সাহা এবং তার তার গুরু শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত করতে এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেননি।
কিন্তু তাদের এই অপচেষ্ঠা বৃথা গেছে। মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জের এসব রাজনৈতিক আবর্জনাকে বেশ ভালো করেই মোকাবেলা করেছেন। এখন আইভী সমর্থক নেতাকর্মীরা এসব মন্তব্য করছেন। খোকন সাহার বিরুদ্ধে আইভীর মামলায় এরেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পর খোকন সাহার কিছু অনুসারী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গলা ফাঁটিয়ে মেয়র আইভীকে না না রকম হুমকি ধমকি দেয়ার পর তারা এমন মন্তব্য করেন।
খোকন সাহার অনুসারী মেয়র আইভীকে হুমকি দিয়ে বলেন খোকন সাহার কিছু হলে নাকি তারা মেয়রকে সিটি করপোরোশনে গিয়ে বসতে দেবেন না। সিটি করপোরেশনে ঢুকতে দেবেন না তারা আইভীকে। আইভী সমর্থক নেতারা বলেন, খোকন সাহা বিষয়টি কিভাবে আইনী মোকাবেলা করবেন সেটা তার নিজের ব্যাপার। কারন তিনি নিজেই আইনজীবী।
কিন্তু তিনি তার কিছু অনুসারীকে মাঠে নামিয়ে নতুন করে যে সকল হুমকি ধমকি দিলেন সেটা হাস্যকর। তারা গলা ফাঁটিয়ে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যেনো আইভী এই শহরে ভেসে এসেছেন। এছাড়া মেয়র আইভী এই মামলাটি নতুন দায়ের করেননি। এটা পূরনো মামলা। আরো এক বছর আগে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারী তিনি এই মামলা দায়ের করেন।
তখন মেয়রের এই মামলা করা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিলো না। কারন খোকন সাহা তখন একেবারে হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে এমন সব মিথ্যাচার শুরু করেছিলেন যে মেয়র যদি এই মামলা না করতেন তাহলে খোকন সাহার এসব অভিযোগ মেনে নেয়া হতো। খোকন সাহার অভিযোগ ছিলো আইভী নাকি হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করেছেন।
মন্দিরের জায়গা দখল করার অভিযোগ তুলে আইভীর বিরুদ্ধে টানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তখন খোকন সাহা আইভীর প্রয়াত পিতা আলী আহম্মদ চুনকাকে কটুক্তি করতেও ছাড়েননি। তিনি আইভীকে ডুবাতে আর তার প্রভু শামীম ওসমানকে খুশী করতে এমন সব আচরন করেছেন যা কিনা একেবারে পাগলামীর পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিলো।
তিনি তখন ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে আইভীর বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তুলে বিষোধগার করেছেন। তখন আইভী বাধ্য হয়েই ঢাকার সাইবার ট্রাব্যুনালে মামলা করে খোকন সাহার কাছে তার কথার প্রমান চেয়েছেন। এখন আদালতেই তাকে প্রমান করতে হবে মেয়রের বিরুদ্ধে তিনি যা বলেছেন তা সত্য বলেছেন।
যদি প্রমান করতে না পারেন তাহলে তিনি সাজা ভোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কারন আইনের চোখে সবাই সমান। তবে তিনি যদি মেয়র আইভীর কাছে ক্ষমা চেয়ে এ বিষয়ে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে চান তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। সেই সুযোগ আইনে আছে কিনা সেটাও একজন আইনজীবী হিসাবে খোকন সাহাই ভালো বুজবেন। এখানে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।


