খেয়াল রাখতে হবে তিতাসের টাকা পয়সা কোথায় যায় : কাজিম প্রধান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৫৬ পিএম
তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)’র সভাপতি ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেছেন, ১৯৬৪ সালে তিতাস গ্যাস কোম্পানী নির্মাণের পর এই শ্রমিকদের মাধ্যমে তিল তিল করে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত হিসেবে এখন তার দেখভালের দায়িত্ব আমাদের।
আমাদের চোখ-কান খোলা রেখে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের (তিতাসের) টাকা পয়সা কোথায় যায়। ঈদের পরে আমাদের শ্রমিক নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব নিব আমাদের তিতাস গ্যাসের টাকা কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে; কিভাবে যাচ্ছে সম্পুর্ণ আমাদেরকে জানাতে হবে। বাইরে থেকে এসে বসবেন আর কিছুদিন থেকে তিতাসকে লুটেপুটে খেয়ে যাবেন, আর আমরা বসে বসে তা দেখব, এটা হতে দেওয়া যাবে না।
গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এর হল রুমে তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের পূর্বে এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে সাধারণ ছুটির সময় বাণিজ্যিক গ্রাহক ও আবাসিক গ্রাহকগণ ৪ মাস কোন বিল দেননি। কিন্তু আমাদের বিদেশ থেকে এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) আনতে হয়েছিল। সেই এলএনজি’র দাম হিসেবে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়েছে।
তখন আমাদের ফান্ডে টাকা না থাকায় মন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের যে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল তা ভেঙ্গে দাম দিতে হয়েছে। এখন তিতাসের অবস্থা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এমন এক সময় আসবে যখন আমাদের ব্যাংক থেকে লোন নিতে হবে। যেই ব্যাংকে আমরা কোটি কোটি টাকা লোন দিয়েছি সেই ব্যাংক থেকে এখন আমাদের লোন নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
যে ওভারটাইম নিয়ে আমাদের শ্রমিকদের বেকায়দায় পড়তে হয় আমরা সেই ওভারটাইম চাই না। আপনারা বারবার তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছেন অথচ কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেন না। যেখানে আমার ১০জন কর্মচারী থাকার কথা সেখানে আমাদের ৫জন কর্মচারী আছে। ৫জন লোক যখন ১০ জনের কাজ করবে তখন অতিরিক্ত সময়ের জন্য ওভার টাইম করতে হয়।
আপনি তাদের ওভার টাইম দিবেন না সেটা হতে পারে না। তিনি বলেন, সেই ১৯৬৪ সাল থেকে যেভাবে আপনারা তিতাসের দায়িত্ব পালন করে, কাজ করে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন, সেভাবেই ২০২২ সাল থেকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যত অবৈধ গ্যাস আছে তাদের সব বীজ শেষ করতে হবে। আমি ২০২০ সালে মন্ত্রী মহোদয়কে বলেছিলাম,
আমরা অবৈধ গ্যাসের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছি। আপনি ১৩ বছর যাবত গ্যাস বিভাগের মন্ত্রী, আপনি এখন গ্যাস অফিসে বসতে চেয়েছেন আমরা আপনাকে স্বাগতম জানিয়ে বলেছি, আমার সিবিএ নেতৃবৃন্দ যদি কোন অন্যায় করে থাকে, দোষ ত্রুটি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশান নিবেন।
কিন্তু অবৈধ উচ্ছেদ করতে হবে। আর তা নাহলে গ্যাস লাইন ছেড়ে দিন, যারা এখন অবৈধভাবে গ্যাস চালাচ্ছে, তাদেরকে বৈধতা দিন। এ সময় তিনি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন তাহলে সমর্থন করব, কিন্তু অন্যায় করে কিছু করেন তাহলে কিন্তু আমরা আপনাকেও ছাড়বো না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান, কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন মিয়া,
সহসভাপতি এডভোকেট হুমায়ুন কবির ও সাহাবুদ্দিন, তিতাস গ্যাস টিএন্ডটি কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ মোল্লাহ, তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ)’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আয়েজ উদ্দিন আহাম্মদ, তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন ডিভিশন এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. ইমাম উদ্দিন শেখসহ জাতীয় শ্রমিক লীগ ও তিতাস কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) নেতৃবৃন্দ।


