Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কালো অধ্যায়ের ৮ বছর ফাঁসির রায় কার্যকর চান স্বজনরা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:০৪ পিএম

কালো অধ্যায়ের ৮ বছর ফাঁসির রায় কার্যকর চান স্বজনরা
Swapno

# এখনও আতঙ্কে নিহতের পরিবারের সদস্যরা
# রায় কার্যকর হলে সেটি হবে যুগান্তকারী

 

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনার আট বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ ২৭ এপ্রিল। এই দীর্ঘ সময়ে নিম্ন আদালতের সন্তোষ জনক রায় উচ্চ আদালতে বহাল রেখে অবিলম্বে কার্যকর করার দাবী নিহতদের পরিবার সহ সাধারণ মানুষের। প্রত্যাশা আপীল আদালতেও নিম্ম আদালতের রায় বহাল থাকবে। ধীরগতির কারণে এখনো নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভয় আতংকে আছেন বলে জানান।

 

এ রায় কার্যকর হলে তা যুগান্তকারী হয়ে থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্টিত হবে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জেলা জজ আদালতে ৩৫ আসামীর মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিলেও হাই কোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদন্ড বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল রাখেন।

 

নৃশংস ও লোমহর্ষক ওই সাত হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় হয়েছিল সারাদেশ। যা বিশ্ব গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়িত হয়। এছাড়া  দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আদালতের নির্দেশে র‌্যাবে কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এলিট ফোর্স র‌্যাব সদস্যদের সম্পৃক্ততায় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে তো বটেই,

 

দেশের ইতিহাসেও ন্যক্কারজনক ঘটনার একটিতে পরিণত হয়েছিলো ওই ৭ খুনের ঘটনাটি। তবে আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের আট বছর পূর্ণ হলেও অদ্যাবধি হত্যাকাণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হয়নি। নিম্ন আদালতের পরে হাইকোর্টেও দ্রুত রায় ঘোষণা করা হলেও আপিল বিভাগে রায়টি নিষ্পত্তি হতে ধীরগতির অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

 

চার বছর আগে উচ্চ আদালত ওই মামলার রায় প্রদান করলেও এখনও তা কার্যকর না হওয়ায় নিহতদের স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তা ও আতংকের মধ্যে রয়েছেন । নিহতদের মধ্যে ২/১ জন স্বচ্ছল হলেও অনেকেই অস্বচ্ছল। বিভিন্ন সময়ে সাহায্য-সহযোগিতার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে তা না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে নিহতের পরিবারগুলো।

 

তারপরেও সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি উচ্চ আদালতের রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।  জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজিরা শেষে প্রাইভেটকারযোগে ফিরছিলেন নাসিকের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, সহযোগী তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম।

 

একইসময়ে আদালতের কার্যক্রম শেষে অপর একটি প্রাইভেটকারে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম। পথিমধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে সাদা পোশাক পরিহিত র‌্যাব সদস্যরা তাদের সাত জনকেই অপহরণ করেন।

 

তখন সাত জনকে অপহরণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ। দফায় দফায় চলতে থাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ। অপহরণের ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

 

এ ছাড়া আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালও একই থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন। শুরুতেই নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান গণমাধ্যমের মাধ্যমে দাবী করে আসছিল যে নুর হোসেনই র‌্যাবকে দিয়ে এই অপহরণের ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর চর ধলেশ্বরী এলাকা থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

সাত জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই পন্থা ও কায়দা অবলম্বন করা হয়। নিহতদের মধ্যে সবাইকে একই স্টাইলে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। যাতে করে মরদেহ ভেসে উঠতে না পারে। উদ্ধার করা মরদেহগুলো হাত-পা বাঁধা ছিল, পেটে ছিল ফাঁড়া। ১২টি করে ইট ভর্তি সিমেন্টের বস্তার দুটি বস্তা বেঁধে দেওয়া হয় প্রতিটি মরদেহগুলোর সঙ্গে। মরদেহগুলোর মুখ ছিলো ডাবল পলিথিন দিয়ে মোড়ানো।

 

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমগুলোতে শিরোনাম হয়ে ওঠে। আর এই সমালোচনার ঝড় তোলার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই সময় এ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা (লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ, লে. কমান্ডার এমএম রানা ও মেজর আরিফ)

 

ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর হোসেনের জড়িত থাকার ব্যাপারটি। এ ঘটনায় সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে হাইকোর্ট র‌্যাব ১১-এর তিন শীর্ষ কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

 

মামলা চলাকালে প্রধান আসামিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামিদের চোখ রাঙানি, নরঘাতকদের পক্ষে আদালতপাড়ায় শোডাউনসহ নানা ঘটনায় গেলো পৌনে তিন বছর ধরেই আলোচিত ছিল ৭ খুনের মামলাটি। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন,

 

র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। দু’টি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছে।

 

২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দু’টি মামলায় নূর হোসেনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দু’টি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী ১২৭ জন। এর মধ্যে দু’টি মামলার বাদী, দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ ১০৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনানো ও তাদের বক্তব্য গ্রহণের কার্যক্রম।

 

২১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। ৩০ নভেম্বর শেষ হয় আলোচিত ৭ খুন মামলার আইনি কার্যক্রম। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা ৪মিনিট থেকে ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করেন।

 

আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নাসিকের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত অধিনায়ক লে. কর্ণেল (অব) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, উপ-অধিনায়ক মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও ক্যাম্প ইনচার্জ লে. কমান্ডার (অব.) এম এম রানাসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। বাকি ৯ জনের মধ্যে অপহরণ ও মরদেহ গুমের সঙ্গে জড়িত থাকায় এক আসামিকে ১৭ বছর,

 

অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকায় ৬ জনকে ১০ বছর এবং মরদেহ গুমে জড়িত থাকায় ২ জনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পরে  আসামিপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট সাত খুন মামলায় সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন,

 

র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে আসামিপক্ষ আবারও এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে।

 

ফাঁসির ১৫ জন আসামি :
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা (এমএম রানা),

 

হাবিলদার এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব, কনস্টেবল মো: শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্নেন্দ বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী (পলাতক), সৈনিক আলামিন শরিফ (পলাতক) ও সৈনিক তাজুল ইসলাম (পলাতক)।

 

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত ১১ জন আসামি:
১১ জনকে ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেও ২২ আগস্ট হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। তারা হলো, র‌্যাবের সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী, আবুল বাশার, নূর হোসেনের বডিগার্ড মোর্তুজা জামান চার্চিল, নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম, জামালউদ্দিন, এনামুল কবীর, সানাউল্লাহ সানা (পলাতক), শাহজাহান (পলাতক)।

 

কারাদণ্ড প্রাপ্ত ৯ জন আসামি :

 

এর আগে ১৬ জানুয়ারি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে, যাদের রায় ২২ আগস্ট হাইকোর্ট বহাল রেখেছে। অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে করপোরাল রুহুল আমিনের ১০ বছর, এএসআই বজলুর রহমানের ৭ বছর,

 

হাবিলদার নাসির উদ্দিনের ৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদের ১০ বছর, সৈনিক নুরুজ্জামানের ১০ বছর, কনস্টেবল বাবুল হাসানের ১০ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। পলাতক আসামিদের মধ্যে হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, কামাল হোসেনের ১০ বছর ও মোখলেসুর রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। হাইকোর্ট তাদের নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে।

 

রায় দ্রুত কার্যকর চান স্বজনেরা

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : হত্যাকাণ্ডের পর এই দীর্ঘ সাত বছরে চরম হতাশার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন নিহত সাত পরিবারের স্বজনরা। নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের সাড়ে ৭ বছরের কন্যা রোজা, দিনের অধিকাংশ সময় খুঁজে বেড়ায় তার বাবাকে। জন্মের আগেই বাবাকে হারানো এই অবুঝ শিশুটি অপেক্ষায় আছে তার বাবাকে দেখবে বলে।

 

বাসার সামনে ছোট্ট একটা ওয়েল্ডিং কারখানার আয়ের ওপর চলে তার ভাই, মা ও নিজের সংসার। জাহাঙ্গীরের বিধবা স্ত্রী নূপুর শিশুসন্তানটিকে দাদির কাছে রেখে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নিম্ন বেতনের চাকরি করেন সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হলেও পরে কেউ খোঁজ না নেয়ায় অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় দিন কাটছে অধিকাংশ পরিবারের স্বজনদের জীবন। নানা বঞ্ছনার মধ্যেও তারা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন রায় কার্যকরের সেই কাঙ্খিত দিনটির। এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদকের কথা হয় নিহতদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে। যুগের চিন্তার কাছে তারা তাদের বর্তমান জীবনযাত্রার চিত্র ও নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

 

জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূপুর বলেন, কি আর বলবো ভাই, আপনারাতো সবই জানেন। মেয়েটা বড় হইছে, সে তার বাবাকে খুঁজে। আমি সিটি কর্পোরেশনে মাষ্টাররুলে ছয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি। এ বেতন দিয়ে তো আর সংসার চলে না।

 

চাকরিটি নিয়মিত হবে, তাও হচ্ছে না। এর মধ্যে চলছে করোনা। আমাদের পাশে তো কেউ দাঁড়ায় না, সরকার সহযোগিতার কথা বলেছে, তাও পাচ্ছি না। আমার স্বামীকে তো মেরে ফেলেছে, সে তো আর ফিরে আসবে না জানি। তারপরেও আশায় বেঁচে আছি যদি আমার স্বামীর বিচারের রায় টা কার্যকর হয় তাহলে মরেও শান্তি পাব। আমরা চাই যেন এই সরকারের আমলেই এই বিচারটা শেষ হয়।

 

নজরুলের বন্ধু নিহত স্বপনের ভাই নাসিক ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান রিপন বলেন, সরকারের কাছে পূর্বে আমাদের যেই চাওয়া-পাওয়া ছিল, এখনো সেই চাওয়াটাই আছে। হাইকোর্ট থেকে যে রায়টা পেয়েছি তা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। বিচার কার্যক্রমটা দীর্ঘসূত্রিতা হওয়ায় আমরা একটু হতাশ।

 

তিনি বলেন, যদি বিচার প্রক্রিয়াটা একটু দীর্ঘ হয় তাহলে যারা এসব কর্ম করে, সন্ত্রাসী করে, তাদের সাহস আরো বেড়ে যায়। যদি দ্রুত রায়টা বাস্তবায়ন হয়, তাহলে কেউ আর এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না। মামলাটির বিচার কাজ দেরী হওয়ার কারণে কিন্তু খুনীরা জেল খানায় বসে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই আমরা হতাশ। সরকারের কাছে দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তির দাবী জানাচ্ছি।

 

নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের বলেন, তাজুল আমার বড় ছেলে। প্রত্যেকটা বড় ছেলে বাবা-মায়ের এসেট। যদি বড় ছেলে চলে যায় তাহলে ওই সংসারের কিছু থাকে না। সাতটা বছর তো দেখতে দেখতে চলে গেছে। শুধু নিরবে চোখের জল ফেলেছি। এখন আর চোখে পানি নাই। দেহটা নিয়ে বেঁচে আছি। আমরা খুনীদের বিচার চাই। শেখ হাসিনাই আমাদের শেষ ভরসা। সে চাইলেই দ্রুত বিচারটি সম্পন্ন হবে।

 

তিনি আরো বলেন, সাত খুনে নিহতদের মধ্যে দুই একজন স্বচ্ছল। আর বাকিরা নুন আনতে পানতা ফুরায়। আমরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবী, আমাদের মধ্যে যারা খুবই অস্বচ্ছল তাদের জন্য যেন একটা ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করেন।

 

নিহত লিটনের ছোটভাই সাইফুল ইসলাম মিন্টু বলেন, সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া যেন এই বিচারটি দ্রুত সম্পন্ন করে রায়টি কার্যকর করা হয়।

 

উচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও রায় কার্যকরের ব্যাপারটি বিলম্ব হওয়ায় সংশয় প্রকাশ করেন মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, আমাদের চাওয়া যে রায়টি হয়েছে, তা যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। এটাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী। আমরা তো সারা জীবন আওয়ামীলীগেরই সন্তান, তাই আওয়ামীলীগের আমলেই আমরা ন্যায় বিচারটি চাই।

 

নজরুল সাহেব এই আওয়ামীলীগের জন্য অনেক মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামীলীগের দূর্দিনে সে অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন। শেষ পর্যন্ত তার জীবনটাই গেছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারটা আমি শেখ হাসিনার কাছে চাই। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই যেন এই বিচারটি তিনি করে দিয়ে যান এটাই তাঁর কাছে আমাদের দাবী।

 

নিহত নজরুলের শ্যালক শফিক বলেন, হাইকোর্টে আমরা যে রায়টা পাইছি, তাতে আমরা অনেক সন্তুষ্ট আছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ তিনি যেন সাতটা শহীদ পরিবারের কথা বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে একটু খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত শুনানীর ব্যবস্থা করেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন