মন্দিরের টাকা আত্মসাত মামলার আসামি ছিলেন শিপন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১০ পিএম
# শিপনকে নিয়ে বিব্রত হিন্দু সম্প্রদায়
নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনের বিষয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। শিপনের কর্মকান্ড নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। শিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মন্দিরের টাকা আত্মসাত মামলার আসামী ছিলেন বলে জানা যায়। সেই সাথে তার কর্মকান্ডে নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একাধিক ব্যক্তি জানান তাকে নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিব্রত বোধ করছে।
এদিকে খোজ নিয়ে জানাযায়, ২০১৭ সনে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফতুল্লার পাগলা বাজার পাগলনাত মন্দিরের প্রায় ৮ লক্ষ টাকা আত্মসাতের মামলার আসামি ছিলেন এই শিখন সরকার শিপন। যার মামলা নম্বর সিআর ৯৭১/১৭। পরবর্তিতে মহানগর আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালি নেতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে তার নাম এই মামলা থেকে কাটা হয়।
এছাড়াও তার বিরুধে অভিযোগ রয়েছে ফতুল্লার এই মন্দিরের পাশে শিপনের শেল্টারে কয়েকজন হিন্দু ব্যক্তি জায়গা দখল করে দোকান নির্মানের মাধ্যমে ব্যবসা করে যাচ্ছে। হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনালয় হচ্ছে মন্দির।
আর এই মন্দিরের টাকা আত্মসাতের মামলার আসা ছিলেন। সেই ব্যক্তি শহরের একটি প্রভাবশালি মহলের ছত্রছায়া গুটি কয়েক হিন্দু নেতাকে তৈল মর্দন করে এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা হয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মুখে যা আসে তাই বলে বেরান। অথচ তিনি নিজে কোথা থেকে উঠে এসেছে তা যেন ভূলে গেছেন।
জানাযায়, একটি পরিবারকে খুশি করার জন্য এই শিখন সরকার শিপন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎকে হুমকি দিয়ে কথা বলেন। অথচ তিনি নিজেই চলেন আরেকজনের ভরসায়। শনিবার ২৩ এপ্রিল এক মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পূূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন নাসিক মেয়র আইভীকে হুমকি দিয়ে বলেন,
আপনি কি করে ভাবলেন খোকন সাহার মতো একজন কর্মীবান্ধব নেতার নামে মিথ্যা মামলা দাায়ের করবেন আর নারাণগঞ্জের মানুুষ চুপ করে বসে থাকবে। আমরা মেয়রকে পরিস্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, অবিলম্বে খোকন সাহার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আমরা আন্দোলন করে আপনার মেয়র ভবনে ঢুকা বন্ধ করে দেবো।
তার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে আলোচনা হচ্ছে তিনি এই কথা বলার কে। তার কাছে কি এমন সুপার পাওয়া আছে যে সে মেয়রকে ভবনে প্রবেশ করতে দিবে না। তার পিছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা খুজে বের করা উচিৎ।
উল্লেখ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ২১ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত বছরের ৪ জানুয়ারি সাইবার ট্রাব্যুনালে মামলাটি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
মামলায় সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অভিযোগ করেন, ‘হিন্দু লাইভস ম্যাটার’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে তাকে জড়িয়ে হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন খোকন সাহা।
এ সংক্রান্ত দু’টি ভিডিওতে পরিকল্পিতভাবে তাকে জড়িয়ে আক্রমনাত্মক বক্তব্য দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন, অপমান অপদস্ত করা এবং রাজনৈতিকভাবে ফায়দা হাসিল করারও অভিযোগ করেছেন সিটি মেয়র আইভী। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩৫ ধারায় করা এই মামলা করা হয়। মামলার অপর আসামি ‘হিন্দু লাইভস ম্যাটার’ নামক ইউটিউব চ্যানেলটির প্রকাশক ও সঞ্চালক কানাডা প্রবাসী প্রদীপ দাস।


