Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অর্জনের চেয়ে বিতর্ক বেশি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:১৬ পিএম

অর্জনের চেয়ে বিতর্ক বেশি
Swapno

# নয়া কমিটিতে বাদ পড়তে পারেন তারা

 # কমিটির অন্যদের চেয়ে অভিযোগের মাত্রা বেশি

 

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। জেলা আওয়ামীলীগ কমিটি মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। সেই সাথে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আছে ৮ বছর হয়ে গেছে। এতে করে এই মেয়াদহীন কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যক্রম।

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র ক্ষমতাসীন দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিভিন্ন জেলার মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করে দলকে শক্তিশালি করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে কেন্দ্র থেকে চিঠির মাধ্যমে যে সকল জেলা উপজেলায় আওয়ামীলীগের কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে আছে অথবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় নাই তা করার জন্য বলা হয়েছে। তারই আলোকে জেলার ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক মহলের মাঝে কারা বাতিল হতে পারে আর কারা নতুন নেতৃত্বে আসবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।  


এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের অবস্থা ভালো ভাবে পর্যালোচনা করেগেলেন নির্বাচন পরিচলনার দায়িত্বরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। তারা নারায়ণগঞ্জে এসে থাকার মাধ্যমে দলের ভিতর বাহির মিলিয়ে অনেক কিছু জেনে গেছেন।

 

সেই সাথে এখানে যে উত্তর দক্ষিণ ব্যক্তি কেন্দ্রিক বলয় গড়ে উঠেছে তা বুঝতে ক্ষমতাসীন দলের নাসিক নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বরত কেন্দ্রীয় নেতাদের কোন অসুবিধা হয় নাই। সারা শহরময় রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মাঝে আলোচনা উঠেছে এবার নারায়গঞ্জ আওয়ামীলীগকে ব্যক্তি কেন্দ্রিক থেকে সরিয়ে দলীয় করণ করে ঢেলে সাজানো হবে।

 

সেই সাথে যারা দীর্ঘ দিন যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছে তাদের মাঝ থেকে নতুন পুরাতন মিলিয়ে যুবক এবং তরুনদের প্রধান্য দিয়ে দলকে শক্তিশালি হিসেবে গড়ে  তোলা হবে বলে জানান দলীয় একটি সূত্র।


এদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ জানান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এড. খোকন সাহা। এক কর্মী সভায় তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন আগে পরে মিলিয়ে প্রায় ২৫ বছর যাবৎ এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই নেতা। তিনি উত্তর বলয়ের সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেও পরিচিত।

 

সেই সাথে তিনি নিজ বলয় কেন্দিক্র কোন নেতা তৈরী করতে না পারলেও তিনি ওসমানদের অনুগত হয়ে কাজ করে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওসমান পরিবারের নির্দেশের বাহিরে এই নেতা যান না। অপর দিকে ওসমান পরিবারের আর্শীবাদ পেয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ পদ ভাগিয়ে কোটি পতে বনে যান এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।

 

তার বিরুদ্ধে কমিটি বানিজ্য থেকে শুরু করে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের পদ দেয়ার অভিযোগ উঠলেও তাতে তার পদে থাকা নিয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহন নেয়া হয় নাই। তবে এবার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মনে করেন দলীয় নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি এড. খোকান সাহার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর থেকে ৫ লাখ টাকা চাদাঁ দাবী করে,

 

যা বিভিন্ন গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পরে। সেই সাথে এই ঘটনা কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে হাই কমান্ড পর্যন্ত পৌছায়। নির্বাচনের কারনে তাৎখনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলেও তা খতিয়ে ভালো ভাবে পর্যালোচনা করে এবার কমিটি গঠনের সময় ঠিকই ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।  

 
দলীয় একাধিক নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ। এখন জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি নতুন করে গঠন করা হবে। ইতি মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ওই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে কমিটিতে পদ দেয়া হবে। সেই সাথে তারা যে ওসমান পরিবারের অনুসারি তা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা জেনে গেছেন।

 

তারা দলীয় সিদ্ধান্তর চেয়ে ওসমানদের নির্দেশকে প্রধান্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা তারা নিজেরাও অস্বীকার করতে পারবে না। তাদের কার্মকান্ডের জন্য দলীয় নেতা কর্মীর কাছে তারা বিতর্কিত হয়ে গেছে। আর এজন্য নতুন কমিটিতে তারা এবার থাকতে নাও পারে। এমনিতে এই দুই নেতা অনেকটা বয়সের ভাড়ে নজু হয়ে আসছে, তার মাঝে আবার কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।

 

সব কিছু মিলিয়ে তাদের সময় এখন শেষ হয়ে আসছে। রাজনীতিবিদদের মতে তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারনে তারা এবার কমিটি থেকে বাদ পরতে পাড়েন। যা নিয়ে তারাও অনেকটা আতঙ্কে আছেন। আর দলীয় কমিটিতে পদ পদবী না থাকলে তখন তাদের মূল্যায়নও কমে যায়। যা এর আগে বহুবার তা প্রমান হয়েছে।

 

সচেতন মহলের মতে ওসমান বলয়ের এই দুই ব্যক্তির সময় এবার ফুরিয়ে এসেছে। সামনে যতদিন আসবে ততো তাদের মূল্যায়ন কমতে থাকবে। এটা দলীয় এবং ওসমান বলয়ের মাঝেও হতে পারে। তাই এখন যারা নতুন কমিটিতে আসবে তাদের উচিৎ হবে ব্যক্তি কেন্দ্রিক থেকে দলীয় কেন্দ্রিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দলকে শক্তিশালি হিসেবে গড়ে তোলা। তাহলে হয়ত তারা কেন্দ্রীয় নেতাতের নজর কারতে পারবেন।


প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আরে আগে বিলুপ্ত শহর আওয়ামী লীগের কমিটিতেও সভাপতি ও সেক্রেটারী পদে ছিলেন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা।

 

অন্য দিকে ২০১৬ সনে ৩ জনের নাম ঘোষনা করে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়। এখানে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে রাখা হয় আবদুল হাইকে, একই সাথে এই কমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ঘোষনা করা হয়, এবং সেক্রেটারি হিসেবে রাখা হয় আবু হাসনাত মো.শহিদ বাদলকে। পরবর্তিতে তা ৭২ জনের নাম ঘোষনা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন