# জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে
# বিভিন্ন মন্দিরে কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ
#এক আইনজীবীর চেম্বারে চেয়ার নিয়ে মারামারি
কথায় আছে, কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ যেন বেরিয়ে না আসে। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতার বিষয়ে অনুসন্ধানে সেই ঘটনাই ঘটেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার সহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিষয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সেই সাথে তাদের অপকর্ম নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন একের পর এক অভিযোগ করতে শুরু করেছে। তাদের কাছে হিন্দুদের একটি গোষ্ঠি জিম্মি হয়ে আছে। ভয়ে তাদের অপকর্ম নিয়ে এতোদিন মুখ খোলে নাই। তবে এখন খুলতে শুরু করেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার হিন্দু সম্প্রদায়কে কিছু ব্যক্তি মিলে এই সম্প্রদায়ের মানুষকে কুক্ষিগত করে রাখছে। জেলার প্রভাবশালী মহলকে খুশি করার জন্য তারা এই কাজ করে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে এই প্রভাবশালী পরিবারের আশীর্বাদে শিখন সরকার শিপনসহ তার সাথের সাঙ্গপাঙ্গরা একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে যেন পাহাড় সমান অভিযোগ।
তার মাঝে শিখন সরকার শিপন মন্দিরের টাকা আত্মসাতের মামলার আসামি ছিলেন। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে জায়গা দখলসহ আরও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তাই বলা চলে এবার হিন্দু নেতা শিখনের বিরুদ্ধে কেচো খুড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসছে। অর্থাৎ তার অপকর্ম আর গোপন থাকছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের একাধিক ব্যক্তি জানান, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দিপক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, এবং হিন্দু নেতা উত্তম কুমার সাহা, অরুন দাস মিলে চারজনের সিন্ডেকেট তৈরী করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাথার উপর কাঠাল ভেঙে খাচ্ছে। জেলার মন্দিরগুলোতে যে কমিটি আছে তা ভেঙ্গে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মন্দিরের কমিটির নেতাদের থেকে কমিটি বাণিজ্য করে যাচ্ছে এই চারজনের সিন্ডেকেট। তাদের বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরীর টানবাজার গোপীনাথ জিউর আখড়া মন্দিরে ৭ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। ওই খানকার মন্দিরের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এই টাকা আত্মসাত করার জন্য নতুন কমিটি করে শিখন সিন্ডেকেটের সাঙ্গপাঙ্গরা। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীন ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তারা সফল হতে পারে নাই। কিন্তু জেলার অন্যান্য মন্দিরের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের এই কর্মকান্ড সফলতার সাথে চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে নিতাইগঞ্জে কাচারি গলি গোপাল জিউর আখড়া মন্দিরের সামনে অবৈধ দোকান রয়েছে কিন্ত মানুষের সুবিধার্থে তা চলাচলের জন্য মন্দির কমিটি এই দোকান উচ্ছেদ করতে চাইলে শিখন সিন্ডেকেটের লোকজন বাধা প্রদান করে। তারা মন্দির কমিটির বিপক্ষে গিয়ে অবৈধ দোকানদারদের সাথে মিলে তা উচ্ছেদ করতে দেয় না। এনিয়ে সেখানে বিরোধ বাধিয়ে দিয়েছে তারা।
নগরীর কয়েকজন সনাতন ধর্মের ব্যক্তি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের ভুল বুঝিয়ে নগরীর দেওবোগ জিউস পুকুর ইস্যুতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা তৈরীর পায়তারা করেছিল তারা। অনশন কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি করা হয়। কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ হয়ে এই গত পূজার সময় মন্দির গুলোতে আইভীর নামে কুৎসা রটিয়ে ব্যানার টানানো হয়।
সেখানে সরোজ কুমার সাহা নামে এক ব্যক্তি শিখনের মাধ্যমে অর্থায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া মাস চারেক আগে বন্দর দাসেরগাও এলাকায় এক প্রতিবন্ধি মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় আপোষ মিমাংসা করতে গিয়ে অর্থ হাসিলের অভিযোগ আছে শিখনের বিরুদ্ধে।
জানাযায়, বন্দরের লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসবে ৪০ বছর যাবৎ রাজঘাটে পরিতোষ কুমার সাহার নেতৃত্বে বাসন্তি পূজা উৎসব আয়োজন করা হয়। কিন্তু গত বছর এই পূজা কে কেন্দ্র করে তার কাছে চাদাঁ দাবী করা হয় বলে জানান একটি সূত্র। এছাড়া ওই খানে অবৈধ দোকান বসিয়ে মেলার আয়োজন করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে এই হিন্দু নেতার বিরুদ্ধে।
সেই সাথে গোয়ালপাড়া, কুড়িপাড়া জনৈক এক ব্যক্তির জায়গা দখলে পায়তারা করেনন তিনি । যা এখনো অব্যাহত আছে। উকিলপাড়া নববন্ধু হোসিয়ারিকে শিখনের অলিখিত আড্ডাখানা বলা হয়। এদিকে হিন্দু নেতা শিখনের শেল্টারে উকিলপাড়ার বিখ্যাত পূজার ফুলের দোকান গুলোতে থেকে বিরু হালদার ও শুভ বর্মন চাদাঁবাজি করে যাচ্ছে। যার ভাগের একটি অংশ শিখনের পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিখনের এই অপকর্মকে জায়েজ করার জন্য তার সাথে থাকা সাঙ্গপাঙ্গরা প্রতিবাদ না করে তাকে সহযোগিতা করেন। তাই হিন্দু সম্প্রদায় মহলে এবার তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরী হয়েছে। আর এতে করে তাদের সম্প্রদায়ের লোকজন এই হিন্দু নেতাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
তাদের বিরুদ্ধে যে এত অভিযোগ রয়েছে তা অনেকে আন্দাজ করতে পারেন নাই। তাই তারা তাদের মত অপকর্মকারী ব্যক্তিরা যেন সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠন গুলোর নেতৃত্বে না আসতে পারে সেই দাবী উঠেছে। কেননা তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন করতে না পারলেও তাদের নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
এদিকে জানা যায়, পূজাউদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি শিখন সরকার শিপন এক সময় পিয়নের কাজ করতো বলে জানান একাধিক সূত্র। অথচ সেই ব্যক্তি শহরের একটি পরিবারকে খুশি করার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হুমকি প্রদান করে মন্তব্য করেন। তাকে নগর ভবনে প্রবেশ করতে দিবে না বলে হুমকি দেন শিখন।
অথচ তার নিজের পায়ের নিচের মাটি ঠিক আছে কিনা তা সে নিজেও ভালোভাবে জানে না। তাই এবার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেছেন। তারা যেন আর অপকর্ম করতে না পারেন তার জন্য সচেতন হওয়ার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে কমিটিতে থাকা ব্যক্তিদের আহবান জানান। এবিষয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপনের মোবাইল ফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যাস্ত পাওয়া যায়।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, গত মঙ্গলবার এক আইনজীবীর চেম্বারে শিখনের সাথে তার কমিটির সভাপতির মারামারি ঘটনা কোর্টে চেয়ার নিয়ে মারামারির ঘটনাও চাউর হয়েছে।


