Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

দক্ষিণে দখিনা হাওয়া

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৪৪ পিএম

দক্ষিণে দখিনা হাওয়া
Swapno

# আইভীর পর আনোয়ার এফেক্ট
# ঈদের আগে উত্তরে হতাশা

 

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান। বাংলাদেশেও তোরজোর করে প্রস্তুতি চলছে ঈদ উদযাপনের। ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জের জন্যও একটি স্বস্তি উপহার দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেটি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের দক্ষিণ বলয় হিসেবে পরিচিতদের জন্য সুখবর হলেও উত্তর বলয়ে চলছে হতাশা।

 

উন্নয়নের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে সচল প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকেই প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই সংবাদটি অনেকক্ষেত্রেই গুরুত্ব বহন করে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গত একবছরের নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে অর্জনের খাতা স্বয়ংসম্পূর্ণ দক্ষিণ বলয়ে।

 

যেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, মহনগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ আরো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। উন্নয়নে মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জকে যেভাবে দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঠিক একইভাবে সারাদেশের জেলা পরিষদগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ আনোয়ার হোসেনের কল্যাণে একটি মাইলফলক অর্জন করেছে। তাছাড়া আনোয়ার হোসেনের মত ত্যাগী নেতার হাতেই যে আওয়ামী লীগ নির্ভার তাও প্রমাণিত হয়েছে।


সূত্র বলছে, এই ব্যাপারটি আবারো আলোচনায় আসার কারণ। গতবছর সৈয়দপুরে এমপি সেলিম ওসমানের একটি বক্তব্য। সেখানে ওসমান শিবির অর্থাৎ উত্তর বলয়ের বেশ কিছু নেতার নাম বলে সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছিলেন, তারা সকলেই যোগ্য। তিনি কাউকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, কাউকে জেলা পরিষদে আবার কাউকে অন্য কোন দপ্তরে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন।

 

প্রায় একই বক্তব্য তিনি বন্দরে গিয়েও দেন। এরপরের ঘটনা প্রবাহ সারাদেশের মানুষ জানেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীল এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ বাদলের নেতৃত্বে প্রথমে সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইভীর বিরুদ্ধে নানা সমালোচনার বক্তব্য ফলাও করে প্রচার হয়।

 

শুধু তারাই নন, তাদের সাথে যুক্ত ছিলেন আরো অনেকে। কিন্তু এরপরেও অতীতের মতো আইভীর উপরই আস্থা রাখেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে অনেকেই আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। কেন্দ্রীয় নেতাদের আহবান সত্ত্বেও অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

 

আনোয়ার হোসেনসহ আরো বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতার শক্ত অবস্থানের কারণে সিটি নির্বাচনে আবারো বিজয়ী হন আইভী। ব্যাকফুটে চলে যায় উত্তর বলয়। আইভীর পালা শেষ, জেলা পরিষদের পর্ষদের মেয়াদও শেষ। তখন উত্তর বলয়ের অনেকেই তীর্থের কাকের মতো চেয়ে ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ারের দিকে।

 

এমনকি প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পেতে অনেকে দৌঁড়ঝাপ করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী  ও প্রধানমন্ত্রী যে নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তা আবারো তার সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। উন্নয়নের দৌড়ে এগিয়ে আনোয়ার হোসেনের হাতেই জেলা পরিষদকে নিরাপদ মনে করছেন তিনি। তাই আবারো প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব আনোয়ার হোসেনের হাতে সপেছেন তিনি।  


রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, এটি শুধু জেলা পরিষদের দায়িত্বের বিষয় নয়। সিটি নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতারা সামনের রাজনীতির রুটম্যাপের আভাস দিয়েছিলেন। এবং তারা বলে গিয়েছিলেন দলের জন্য আশীর্বাদ ব্যক্তিরাই পুরস্কৃত হবেন। সিটি নির্বাচনের সময় কথার অবাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলে চারচারটি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল।

 

চারমাস পেরোতে থাকলেও সেগুলো আর করেনি কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে সিটি নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দলীয় শৃঙ্খলা যারা মেনে চলেছেন তাদের উপরেই সামনের দিনগুলোতে ভরসা করবে আওয়ামী লীগ এটি এখন পরিষ্কার হচ্ছে।

 

তাতে যে উত্তর বলয়ের নেতৃবৃন্দই মূল্যায়িত বেশি হবেন তা আর বুঝতে বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এই সিদ্ধান্ত যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে উত্তর বলয়ে এক রাশ হতাশা উপহার দিয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সামনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি দেয়া হবে। সেখানেও যে নাসিক নির্বাচন এফেক্ট পড়তে যাচ্ছে তাও সহজে অনুমেয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন