# দাম বাড়ানোর পরেও সরবরাহে সংকট
করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আর্থিক অবস্থা যে শোচনীয় তা টিসিবির ট্রাকের পেছনে হাজারো মানুষের ভিড়ে সবাই টের পেয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানেও নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস জনসাধারণের। হাতটান নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আয়োজন হলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের ফুরসত দেয়নি।
জীবনধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে খরচের অঙ্ক বাড়লেও আয় বাড়েনি মোটেও। ঈদের ছুটিতে একদিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্য সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৩৮ টাকা। এই সংবাদে সারাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। দাম বাড়ার পরও ঈদের আগের পরিস্থিতির চেয়ে উন্নতি সামান্যই।
দাম লিটারে ৩৮ টাকা বাড়ানোর পরও দোকানে দোকানে সয়াবিন তেল মিলছে কমই। দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বোতলে নতুন দাম সাটিয়ে তেল এখনও আসেনি। যেসব দোকানে তেল আছে, তাতে আগের গায়ের দাম লেখা; কিন্তু তারা দাম নিচ্ছেন নতুন দরে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, শহরের দ্বিগুবাবুর বাজার,
বাবুরাইল বউ মাজার, মাসদাইর বাজার, ফতুল্লা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মুদি দোকান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। এই কয়েকদিনে বোতলের গায়ে লেখা বেশি দামের তেল আসতে শুরু করবে।
এক বছরের বেশি সময় ধরেই বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী আর বাংলাদেশ তার চাহিদার সিংহভাগ তেলই আমদানি করে থাকে। ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর সরবরাহ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। এর মধ্যে পাম তেলের বড় সরবরাহকাী ইন্দোনেশিয়া তেলা রফতানির সিদ্ধান্ত স্থগিতের কথা জানালে বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়।
ঈদের আগে আমদানিতে ৫ শতাংশ রেখে ভোজ্যতেলে সব ধরণের ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রত্যারারের পর তেলের দাম লিটারে কমানো হয়েছিল ৮ টাকা। তবে ঈদ শেষে প্রথম কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বোতলজাত তেল লিটারে ৩৮ টকা আর খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানোর কথা জানানো হয়। বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে মিলমালিকদের বৈঠকের পর এই বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৮ ও খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮৫ টাকা।
একই সঙ্গে প্রতি লিটার পাম ওয়েল বিক্রি হবে ১৭২ টকা। এরআগে গত ২১ মার্চ বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১৬০ টাকা আর খোলা তেল ১৩৬ টাকা ঠিক করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশনের অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৮০ টাকা। ২০২১ সালের ৫ মে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার প্রতি দাম ছিল ১১৮ টাকা।
ঈদের আগে তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়। তখন খুচরা বিক্রেতারা কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ করছেনা বলে অভিযোগ করছিলেন। আর তেল সরবরাহকাী প্রতিষ্ঠান বলেছিল, ঈদের পর তেলের দাম বাড়তে পাওে, এজন্য খুচরা বিক্রেতারা তেল মজুদ করছেন। কিন্তু দাম ঘোষণার পরও বাজারে তেলের সরবরাহ সংকট কাটেনি।
শুক্র ও শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি দোকান ঘুরে তেল পাওয়া যায়নি। সরিষার তেল থাকলেও দাম চড়া। প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। পাঠানটুলি এলাকার ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ডিলারদের কাছে গিয়ে তেল পাওয়া যায়না। ঈদের আগে থেকে তার দোকানে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে তেল কিনতে দোকানে দোকানে ঘুরতে থাকা মনির হোসেন বলেন, ঈদের আগে সমান্য তেল কিনতে পেরেছিলাম। সেটা দিয়ে ঈদ পার করেছি। দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর ভাবছিলাম তেল পাব। কিন্তু কোন দোকানে তেল পাইনি।


