শামীম ও আজমেরী ওসমানের গ্রেপ্তার চায় ত্বকী মঞ্চ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২২, ০৬:৪৩ পিএম
# হত্যা করা হলে বিচার করতে এত দ্বিধা কেন : রফিউর রাব্বি
# আইন প্রনেতা হয়ে কী করে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখান : এড. মাসুম
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সর্বশেষ সিটি নির্বাচনের পর মুখ খুলেছিলেন শামীম ওসমান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান এবং ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান। এছাড়া শামীম ওসমান ও তার স্ত্রী লিপি ওসমান খসড়া চার্জশীট বলে কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন।
এনিয়ে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছিল সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখার রাতেই ত্বকী মঞ্চের অন্যতম সদস্য মাহবুবুর রহমান মাসুমের বাড়ির সামনে রাতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মামলাও দায়ের করা হয়। এনিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছিলেন শামীম ওসমানও। এবার শামীম ওসমান ও তার ভাতিজা আজমেরী ওসমানের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের নেতৃবৃন্দ।
তানভীর মুহাম্মতদ ত্বকী হত্যার ১১০ মাস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তারা এই দাবি তোলেন। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন,
ত্বকী হত্যার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অভিযোগপত্রটি আদালতে পেশ করা হয় নাই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, ত্বকীকে কী হত্যা করা হয়েছে, না হয় নাই? হত্যা করা হলে বিচার করতে এত দ্বিধা কেন? স্পষ্ট করে যদি বলে দেন দলীয় কেউ অপরাধ করলে, হত্যা করলে তার বিচার হবে না- তাহলে আমরা আর বিচার চাবো না, অন্য পথ ধরবো।
আপনি বলেন, শিশু হত্যাকারীরা ঘৃণ্যজীব- আবার ত্বকীর ঘাতকদের পুরস্কৃত করেন। সংবিধান বলছে, রাষ্ট্রের চোখে সকল নাগরিক সমান। তাদের নিরাপত্তা দেয়া, বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার শপথ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। তা হলে পদে পদে তা লঙ্ঘিত হবে কেন? তিনি বলেন, দেশে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন হলে একটি হত্যার বিচারের অভিযোগপত্র তৈরী হয়েও তা নয় বছর আটকে থাকে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারেন না- তাদের অপরাধটা কি। জনগণ কেন তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। আপনারা আয়নার সামনে দাঁড়াতে ভয় পান। আয়নার সামনে ঠিকই দাঁড়ালে বুঝতে পাতেন। নিজেদের ভয়ানক রূপটি দেখতে পেতেন। আমরা এ বৈষম্যমূলক, গণবিরোধী বিচার-ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। সংবিধানে উল্লেখিত জনগণের অধিকারগুলোর বাস্তবায়ন চাই। সাগর-রুনী, তনু সহ, নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সকল হত্যার বিচার চাই।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা প্রমূখ।
হালিম আজাদ বলেন, তদন্ত সংস্থা র্যাব বলেছে আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অথচ আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হয় নাই। আমরা দ্রুত আজমেরী ওসমানের গ্রেপ্তার চাই। এবং এ হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমানের গ্রেপ্তার চাই।
মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, শামীম ওসমান একজন আইন প্রনেতা হয়ে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে তার সহকর্মীকে আদালতে যেতে নিষেধ করেন। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর অপরাধে, ত্বকীকে হত্যার নির্দেশের অপরাধে আমি শামীম ওসমানের গ্রেপ্তার দাবি করছি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়,
আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো আদালতে পেশ করা হয় নাই।
ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।


