Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বাবু হত্যাকাণ্ডে আশা’র সংশ্লিষ্টতা!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২২, ০৭:৩৬ পিএম

বাবু হত্যাকাণ্ডে আশা’র সংশ্লিষ্টতা!
Swapno

# আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার : কাউন্সিলর আশা
# এধরণের ঘটনা ঘটলে ভবিষ্যতে জনগণের ডাকে সাড়া দিতে সমস্যা হবে : কাউন্সিলর সুলতান

 

গত রমজানে চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দর থানায় হাসিনা বেগম নামের এক নারী বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলার আসামী মো. বাবু (২৫)কে ধরার জন্য বন্দর থানা থেকে পুলিশ প্রশাসনের লোক আসলে তাদের ধাওয়া খেয়ে এক তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয় বাবু। তার চারদিন পর বাবুর লাশ ভেসে উঠলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

 

যেই মামলায় আসামী করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশাকে। এর আগে গত ১৩ মার্চ নাসিক ২৩নং ওয়ার্ডের মোক্তার হোসেন মুক্তু (৬২) নামের এক বৃদ্ধের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছিল এ ধরণের নাটকীয়তার। সইে ঘটনার সাথেও কাউন্সিলর আবুল কাউছার আশাকে জড়িত হিসেব উল্লেখ করে একটি ভিডিও ভাইরাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

 

সেই ঘটনায় নিহতের ছেলে-মেয়ে স্ব-ইচ্ছায় কোন প্রকার চাপের স্বীকার না হয়ে বন্দর থানায় অপমৃত্যুর অভিযোগ করেছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানেও আশার কোন ভূমিকা ছিল না বলে প্রমাণ হয়েছে।

 

তাই সেই একই চেষ্টা বারবার করার কারণে এই ঘটনার মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক চরিতার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক সূত্র। বাবু ঘটনাসহ এধরণের ঘটনা বারবার ঘটানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণসহ নাসিক ২২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ ভূঁইয়া ও ২১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বন্দর থানা পুলিশ আয়োজিত ওপেন হাউজ-ডে অনুষ্ঠানে সেই মামলার বাবুর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী হাসিনা বেগম বক্তব্য রেখে বলেছিলেন, তার চুরির মামলাটি থানা নিতেছে না। সেখানে কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা উপস্থিত ছিলেন। এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে আশাকে বিষয়টা দেখার দায়িত্ব নিতে বলেন পুলিশ।

 

কাউন্সিলর আশা পঞ্চায়েতসহ পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে বিচার করতে রাজি হন। এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির আমিনুল ও আক্তারসহ (ড্রেজার আক্তার) পঞ্চায়েতের লোকজনকে জানানো হয়। একদিন সময় নিয়ে আমিনুলের বাড়িতে বিচারে বসার কথা থাকলেও সেদিন বসা হয়নি বলেও জানান স্থানীয় একাধিক সূত্র। এর পরবর্তীতে আরও কয়েকদিন বসার কথা থাকলেও বসেনি।

 

যাদের নিয়ে বিচারে বসার কথা তারা জানতে পেরেছে বিচারের সময় সেখানে কাউন্সিলর আশা উপস্থিত থাকবে, তাই তারা বিচারে বসা নিয়ে গড়িমসি করতে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পুলিশ উপস্থিত থেকে বিচারটি করে দেওয়ার কথা ছিল বলে জানা যায়। এরপর শুক্রবার কাউন্সিলরের অফিসে বিচারের জন্য বসা হবে বলে জানানো হয়।

 

কিন্তু তারা শুক্রবারও সেখানে আসেনি। এরপর বিচার না হওয়ার কারণে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে এবং পরের দিন আসামীকে ধরার জন্য অভিযান চালায়। তখন আসামী ছাদের উপর আড্ডা দিতে ছিল পুলিশের সংবাদ পেয়ে ছাদের উপর থেকে পুকুরে লাফ দিয়ে পড়ে নিখোঁজ হয়। এই অভিযান কিংবা বাবুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কাউন্সিলর আশা কিছুই জানে না বলে জানান কাউন্সিলর আশাসহ স্থানীয় একাধিক লোক।

 

এমনকি সেই নিখোঁজের ঘটনায় অভিযানকারি এসআই রওশন ফেরদৌসের উপর অভিযোগ আসলে তাকে প্রত্যাহার করাসহ তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশের পক্ষ হতে জানানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী সেই হাসিনা বেগমসহ দুইজনকে আটকও করা হয়। সেখানে কাউন্সিলর আশার কোন ধরণের উপস্থিতিই ছিল না।

 

অথচ লাশ পাওয়ার এখানে আবুল কাউসার আশাকে জড়ানো হয়। লাশ দাফন শেষে নিহতের মা রাতেই অদৃশ্য ইশারায় স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশাকে হুকুমের প্রধান আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ লাশ গুমের মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় কাউন্সিলর আশাকে আটক করার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

 

তবে আশা বরাবরের মতো এবারও এই ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। একটি পক্ষ তাকে ঘায়েল করার জন্য এধরণের হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ব্যপারে কাউন্সিলর আশা বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

 

আমাকে অহেতুক জড়িয়ে মিথ্যা মামলা করেছে। আমিও এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। যেখানে প্রকাশ্যে পুলিশের ধাওয়ায় একজন যুবক পুকুরে ডুবে মারা গেল সেখানে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা করা হলো। আমি প্রশাসন ও মিডিয়ার প্রতি আহবান জানাই তারা যেন সঠিক তদন্ত ও সঠিক সংবাদ প্রকাশ করেন।

 

এই বিষয়ে ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ ভূঁইয়া বলেন, আমরা হলাম দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জানপ্রতিনিধি। রাত তিনটায়ও যদি আমাদের জনগণ ডাকে তাহলে আমাদের গিয়ে হাজির হতে হয়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের ভালমন্দে পেছনে দাঁড়াতে হয়। জনগণের ডাকে সাড়া দিয়ে যদি মামলা খেতে হয় তাহলেতো সাড়া দিতে পারবো না। জনগণও আমাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

 

তিনি জানান, আবুল কাউসার আশার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানান, আশা যদি এর জড়িত না থাকে তাহলে তাকে যেন এই মামলায় জড়িয়ে দেওয়া না হয়। তা নাহলে আমরা তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রনিধিরা জনগণের কাছ থেকে দুরে সরে যেতে বাধ্য হবো। আমরা যে জনগণের ডাকে রাতের তিন বাজেও সাড়া দেই, এধরণের ঘটনা ঘটলে আমরাও আগামীতে সাড়া দিতে চিন্তা করব।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন