বেড়েছে মশার উপদ্রব, অতিষ্ঠ সিদ্ধিরগঞ্জবাসী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১০ মে ২০২২, ০৭:০২ পিএম
মশা যেনো নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দাদের।এখন মশা থেকে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। মশার উপদ্রবে আতঙ্কিত সিদ্ধিরগঞ্জবাসী। সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে মানুষ। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। মশা নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা নেই সিটি করপোরেশনের। নিয়মিত ছিটানো হয় না মশা নিরোধক ওষুধ। সিটি করপোরেশন থেকে পর্যাপ্ত ঔষধ না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর।
তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, এলাকাবাসীর শান্তির জন্য মশার ঔষধ ছিটানো আগের থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি করপোরেশন সময়মতো ড্রেন ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করায় সেগুলো মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া মশার উপদ্রব বাড়লেও মশা নিধনের ঔষধ ছিটানোর কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখা যায়নি সিদ্ধিরগঞ্জে।
শেষ কবে ঔষধ ছিটানো হয়েছে তাও ভুলে গিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দারা। এছাড়া মশক নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। নতুন মহল্লার হোটেল মালিক হানিফ বলেন, সন্ধ্যা হইলে মশার যন্ত্রণায় দোকানে বসে থাকতে পারিনা। পাশের ফ্যাক্টরি থেকে কিছু টুকরা কাপড় নিয়ে এসে ধোয়া দেই দোকানে তাতে কিছুক্ষণ কমলে আবার সেই আগের মতন হয়ে যায়।
কাউন্সিলররা যদি নিয়মিত ঔষধ দিতো তাহলে যদি একটু কমতো। সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাইফ বলেন, দিনের বেলা মশার উপদ্রব কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। সন্ধ্যা নামলেই মশার কয়েল জ্বালাতে হয় বাসায় তাতেও কোন কাজ হয় না। নাসিক ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদল মিয়া জানান,
আমাদের এলাকার ড্রেন গুলো তৈরি করার পর থেকে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করা হয় নাই এই ড্রেন গুলো পরিষ্কার করা দরকার, এখান থেকে মশা ফুলো জন্ম নেয় বেশি। আমাদের কমিশনার সাহেব যদি ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করে ড্রেনের ভিতর ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে নিয়মিত মশার ঔষধ দিতেন তাহলে যদি মশা কিছুটা কম হইতো।
শাপলা চত্তর এলাকার এনামুল হক জানান, মশার যন্ত্রণায় যেন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। ঘরে বাহিরে কোথাও শান্তি নেই। কোথাও দুই মিনিট দাঁড়ানো যায় না মশার কারণে। আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধিরা একটু লক্ষ্য করলেই হয়তো আমরা রক্ষা পাবো মশার অত্যাচার থেকে। মিজমিজি বাতান পাড়ার বাসিন্দা সিয়ামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,
মশার উপদ্রব এতোটাই বেশি যে শুধু রাত দিনরাত সারাক্ষণই মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। তাও মশা তাদের কাজ চালিয়ে যায় আরামে। আগে দেখতাম মাঝে-মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের লোক মশা নিধনের ঔষধ ছিটাতেন এখন তো তাও দেখা যায় না। এবিষয়ে নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম বলেন,
মশার উপদ্রব বাড়লেও আমরা এখন আগের থেকে ঔষধ তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছি। আগে পর্যাপ্ত ঔষধ ছিলো না যার কারণে আমরা ঠিকমতো ঔষধ দিতে পারিনি। তবে সরকার আমাদের ঈদুল ফিতরের দুইদিন আগে মশা নিধনের ঔষধ দিয়েছে। আমরা এখন ছক অনুযায়ী কাজ করছি। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিনকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।


