কুতুবপুরে জনসাধারণ ভাসছে পানিতে, মেম্বার রোকন বিলাসবহুল গাড়িতে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১২ মে ২০২২, ০৮:৪৮ পিএম
কুতুবপুর ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমের আগেই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার মানুষ যখন ঘরবন্দী, ঠিক তখনি এই ওয়ার্ডের মেম্বার রোকন উদ্দিন রোকন একটি বিলাসবহুল গাড়িতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খাগড়াছড়ি গিয়েছেন। এই নিয়ে ওয়ার্ডবাসীর মাঝে চলছে ব্যপক আলোচনা সমালোচনার ঝড়।
অনেকে আবার বলছেন, ওয়ার্ডবাসী যেখানে পানির নিচে থেকে জীবন বাচাতে প্রতিটি মুহুর্ত যুদ্ধ করছেন। ঠিক তখনি কিভাবে একজন জনপ্রতিনিধি বিলাসবহুল গাড়ি দিয়ে খাগড়াছড়ি ঘুরতে যান। রোকন উদ্দিন গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরথেকেই নিজের গা-ঢাকা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজের ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করেন বলেও জানাযায়।
একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সমাজ উন্নয়ন কাজেও তাকে পাশে পাওয়া যায়নি। তিনি নিজের ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রাখতেই নির্বাচন করেছেন বলেও জানাযায়। সরজমিন গিয়ে জানাযায়, ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ নয়ামাটি ভাবির বাজার এলাকার হাজী আমির আলী রোডে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সারা বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকে।
তাকে বার বার অবগত করার পরেও তিনি কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। রোকন মেম্বারের এমন মনমানসিকতার কারণেই ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষের এখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নয়ামাটির বেশকিছু স্থানে শুকনা মৌসুমেও জমে থাকে পানি। যেমন, পাগলা জালকুড়ি রোডের মাঝখানে মডানের মোড়, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে,
নয়ামাটি মন্দিরে সামনে, রসুলপুর গুটা এলাকার অবস্থা জলাবদ্ধতায় নাজেহাল। এইসব এলাকার মানুষ এখন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভোগান্তির কথাগুলো শুনার মত সময় নেই এই মেম্বারের কাছে। তিনি এই ওয়ার্ড থেকে তিনবার নির্বাচিত মেম্বার হওয়ার পরেও তেমন কোনো উন্নয়ন চোখে পরে না। এই ওয়ার্ডে আসলে অনেকের মনে হয়,
এখানের উন্নয়নের নমুনা, এ যেন পদ্মা মেঘনা যমুনা। রোকন মেম্বার হওয়ার পরথেকে তার বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগ থাকা সত্যেও তার কিছুই হচ্ছে না। যেমন কিছুদিন আগে তাজু গ্রুপের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সংঘর্ষের ঘটনা। রয়েছে তার বাতিজা ছাত্রলীগ নেতা সজিবের বিরুদ্ধে ভিক্ষুকের বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের ঘটনাও।
যেখানে মানুষ জলাবদ্ধতায় নাকাল, এখন আবার তিনি খাগড়াছড়ি ঘুরতে গিয়েছেন। নয়ামাটি এলাকার বাসিন্দা সজল বলেন, ‘আমি মিলে কাজ করি। পানি আইয়া আমার মিলে হাঁটু পানি। কাম-কাজ বন্ধ। আমরার কেউ এখনো খোঁজ-খবর নিছে না, আমরা ভালা আছি না মন্দ আছি। আমার ঘরের মেজো ভাইয়ের বাসার ভেতরে হাঁটুপানি।
আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি।’ এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তিনি নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন শুধু তার নিজের আখের গুছানোর জন্য। তিনি একজন মেম্বার হয়ে কিভাবে ৩ কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি কিনে। তার সম্পদের হিসাব নিলেই সবকিছু বেড়িয়ে আসবে। এমন জনপ্রতিনিধি আমাদের কি দরকার। তারা এইসব জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। তাহলেই কিছুটা সুফল পাবে সাধারণ মানুষ।


