# ২০১০ সালে একই সাথে পদ্মা সেতু ও ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর অনুমোদন হয়
# সৌদির সাথে সমন্বয় হীনতায় এগুচ্ছে না প্রকল্পের কাজ : প্রকৌশলী শাহীন
# জুলাইয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হতে পারে : প্রকল্প পরিচালক
ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর উদ্বোধনের সময়। প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রায় এক যুগ পোরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ করা এখনও সম্ভব হয়নি। অথচ একই সময় অনুমোদন হওয়া বাংলাদেশের বৃহৎ সেতু পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এর আগে ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পদ্মা সেতু ও নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।
সে সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল ২০১৩ সালের মধ্যে। সেখানে সৌদি কোম্পানীর সাথে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই প্রকল্পের কাজই শুরু হয় ২০১৭ সালে। এই মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা খরস্রোতা পদ্মার ওপর প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের (মূল অংশ) সেতুর নির্মাণ কাজ।
কিন্তু ছোট এই শীতলক্ষ্যা নদীর অনুকূল পরিবেশ থাকার পরও মাত্র ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের (মূল অংশ) সেতুর কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শীতলক্ষ্যার উপর নির্মিত কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটিও ছিল ৪০০মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং এর প্রশস্ত ১৮ মিটার। এই সেতুটির কাজ গত ২০১৬ সালে শুরু করে শেষ করা হয় ২০১৯ সালে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর পূর্ণ দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার, এরমধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ১২৯০ মিটার। এরমধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার (যার প্রস্থ ২২ মিটার)। ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটি যখন অনুমোদন দেওয়া হয় তখন এর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছিল ৩৭৭ কোটি টাকা।
যেখানে বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে দেওয়ার কথা ছিল ৬৫ কোটি টাকা। এরপর ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে যখন সৌদির উন্নয়ন তহবিল ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণের চুক্তি হয় তখন এর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছিল ৫শত ৯৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সে সময় ২০২০ সালে (করোনা মহামারী হানা দেওয়ার আগেই) এর নিমার্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
কিন্তু ২০২২ সালে এসেও বিভিন্ন অসুবিধার কারণে এখন সমাপ্ত করা যাচ্ছে না নির্মাণ কাজ। নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় ৩৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প এখন সোয় ছয়শত কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
খরচ বেড়েছে আড়াইশত কোটি টাকা। যা শুরুর ব্যয়ের চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি। নতুন ব্যয় কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি ব্যয়ের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে জোগান দিতে হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় এই প্রকল্পের মালামাল চুরিসহ চাঁদাবাজির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী শাহীন আলম জানান, আমাদের টার্গেট ছিল জুন মাসে উদ্বোধন করার। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ থেকে জুন মাসে কাজ শেষ করার জন্য বলা হচ্ছে কিন্তু আমাদের মেটারিয়ালস পাচ্ছি না। প্রয়োজনীয় মেটারিয়ালস না পাওয়া যাওয়ায় আমাদের কাজ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান সড়কের কাজে লেয়ার বাই লেয়াল কম্পিøট করে কাজ উঠাতে হয় তাই একটু সময় লাগে।
তিনি বলেন, আমাদের কাজ শুরু করতে হয়েছে ২০১৭ সালে তারপর করোনার কারণেও বেশ কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। এখন সৌদি ফান্ড কাজের অগ্রগতি না দেখে টাকা দিতে রাজি হচ্ছে না, অন্যদিকে আমাদের দেশও টাকা না পেলে কাজ করতে চাচ্ছে না। এখানে সমন্বয় হীনতার কারণেও কাজে একটু সমস্যা হচ্ছে। মূল সেতুর পিচ ঢালাইয়ের কাজ মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। এখন দুই সাইডের সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। দুই পাশের টোল প্লাজার কাজ প্রায় ৮০ ভাগের মতো শেষ হয়েছে।
৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ কাজের প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের খরচ হয়েছে প্রায় ৬শত ৮কোটি টাকা। তিনি জানান, আমরা আশা করতেছি জুলাইয়ের দিকে আমরা কাজ শেষ করতে পারব।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন জুন মাসেই এই সেতুটির উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু এখনো কাজ শেষ করতে না পারায় এখন আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান সেতুর পিচ ঢালাইয়ের আগে আমাদের কিছু কাজ বাকি আছে। সাইড রোড করতে গিয়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গাড়ি চলাচলের জন্য ৬টি লেন ছাড়াও দুই পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাত থাকবে বলে জানা গেছে। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য হলো ১২৯০ মিটার। এরমধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪০০মিটার এবং সেতুটির প্রস্থ হবে ২২ মিটার। ৩৮টি স্পেন ব্যবহার করা হয়েছে। এই সেতুটি সম্পন্ন হলে প্রত্যক্ষভাবে বন্দরবাসীর সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর যোগাযোগের তেমন প্রভাব না পড়লেও নারায়ণগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়
আমুল পরিবর্তন ঘটবে। পরিবর্তন ঘটবে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তর, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্বাংশের যোগাযোগে। বিশেষ করে ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোর সাথে বাইপাস সড়ক হয়ে উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোর সাথে সাথে ব্যপকহারে উন্নয়ন ঘটবে নরসিংদী, ভৈরব, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী,
ফেনীসহ চট্টগ্রাম এলাকার জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর-মদনপুর হয়ে যেসব যানবাহনগুলো যাতায়াত করে সেসব যানবাহনের পরিবহন দুরত্ব কমে যাবে প্রায় ৯ কিলোমিটারের মতো। আর এর ফলে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি-পাগলা ও ঢাকার যাত্রাবাড়ির যানজট অনেকটাই উপশম হবে। শহরের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত উড়াল সেতু নির্মিত হলে তা এই সেতুটির সৈয়দপুরের প্রান্ত যোগ করা হবে।


