# প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় নেতৃবৃন্দ
# বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো গ্রেফতার হয়নি কেউ
# এগুলো বিক্ষিপ্ত ঘটনা : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যকার সম্পর্কে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। গণতন্ত্র, রাষ্ট্রশাসন, ক্ষমতার ব্যবহার, আইন প্রয়োগ, সরকারের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয়সহ জগণের রাজনৈতিক, মানবিক, মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শুধু তা-ই নয়, একটি দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মূল্যায়ণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই সাংবাদিকরা। তাই এই পেশাকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। তবে এই পেশায় যারা জড়িত আছেন তাদেরকেও সর্বোচ্চ ডেডিকেটেড হতে হবে। পেশার মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যেক সাংবাদিককেও সর্বোচ্চ সৎ হওয়া এবং নিজেকে উৎসর্গ করার চেষ্টায় মনব্রত হতে হবে।
পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে খুব সহজভাবে নেওয়ার কোন উপায় নেই। প্রচণ্ড সম্মানের এই পেশাতে প্রচন্ড ঝুঁকিও আছে। শুধু সাংবাদিক নয় তাদের পরিবারও থাকে ঝুঁকিতে। আর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকির পরিমান যেন আরও বেড়ে গেছে। এখানকার দুর্বৃত্ত ও অপরাধীরা যেন তাদের টার্গেট করেই মনবাসনা চরিতার্থ করতে চাইছেন।
এর উল্টোটি যে ঘটে না তা-ও নয়। কিছু কিছু সাংবাদিকও আছেন যারা পেশাটাকেই নিয়েছেন নিজেদের টার্গেট পূরণের জন্য। তাই যখন কোন সাংবাদিক কোন নির্দোষ মানুষকে টার্গেট তাদের নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তা যেমন খুবই লজ্জাজনক তেমনি যখন কোন অপরাধী এবং দুর্বৃত্ত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে টার্গেট করে নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য আক্রমণ করেন সেটাও খুব দুঃখজনক হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ এর সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের ওপর হামলা, খুন হওয়া বা খুন করার চেষ্টা করা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টার পরিমান বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। যা দেশ ও জাতির জন্য খুবই হতাশাজনক। এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং নিরপেক্ষ ফলাফল না আসলে পেশাটি খুবই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়বে মনে করেন সচেতন মহল।
সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের উপর হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত ৩ এপ্রিল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ এলাকায় হামলার শিকার হন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজের বড় ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্ত।
কিশোর গ্যাংয়ের একটি দল তার পিঠে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তার পিঠের ক্ষতস্থানে ১৮টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় পরের দিন ৪ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ১৫-২০ জনকে আসামী করে শরীফ উদ্দিন সবুজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে গত ১২ মার্চ ভোর তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এ্যডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমের বাড়ির দড়জার সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় হুডি ও মাস্ক পড়া এক যুবক সেখানে গিয়ে বোমাটি রেখে আসে। এই ঘটনায় কোন প্রকার হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মাহবুবুর রহমানকে হুমকি দিয়ে তার মুখ বন্ধ করার জন্য এধরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। গত ১৩ মে শুক্রবার নাসিক ১৩নং ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া খাল সড়কে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত হন দৈনিক অগ্রবানীর নির্বাহী সম্পাদক মো. রাশিদ চৌধুরী।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিউজ করাকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রাশিদ। গত ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধরা চৌরাস্তায় প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় সাংবাদিক ইলিয়াসকে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই বিষয়ে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেইন স্মিথ বলেন, আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি, তাদেরকে সঠিকভাবে আইনের আওতায় আনা হয় না। যাদেরকে আনা হচ্ছে তাদেরকে দুর্বল মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় ফলে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে আসছে।
জামিনে বের এসে তারাই আবার একই অপরাধে জড়াচ্ছে। অর্থাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতা, আই-ওয়াশ গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়া, সারা দেশে কিশোর অপরাধের দৌড়াত্ম, একই সাথে কিশোর অপরাধের নেপথ্যে যারা নায়ক আছে যারা পেছন থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে তাদের যেমন দৌরাত্ম্য কমবে না,
পাশাপাশি এ ধরণের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এই বিষয়ে সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন। আমাদের দাবি হলো প্রশাসন যেন এই বিষয়গুলোতে ঠিকভাবে নজর দেয় এবং দ্রুত সময়ে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর হস্তে তাদেরকে দমন করা হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে সাংবাদিকদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। কিছু অপেশাদার লোক অপরাধ সংঘটিত করার জন্য এই পেশায় আসে।
তারা একদিকে সমাজের পেশাদার প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম নষ্ট করছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যারা ভাল সাংবাদিকতা করে তাদেরকে তাদের সাথে গুলিয়ে ফেলছে। এ কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের সাথে অপরাধ সাংবাদিকদের একসাথে মাপা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে কিছু পত্রিকা আছে যারা শুধুমাত্র কার্ড বিক্রি করে সাংবাদিক বানাচ্ছে।
তারা এটাকে টাকা কামানোর হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং করে চাঁদাবাজি করছে। এগুলোও রোধ করা উচিৎ। যারা প্রকৃত সাংবাদিক আছে তাদের উচিৎ সেসব অপরাধ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ করা।
দুর্বৃত্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) মোহাম্মদ আমির খসরু জানান, এগুলো বিক্ষিপ্ত ঘটনা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
উদ্দিন সবুজ এর ছেলের ঘটনাটি বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এগুলো কোন সন্ত্রাসী হামলা না। এগুলো পরিকল্পিত হামলা না, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। এগুলো অবশ্যই অপরাধ তবে কোনো রাজনৈতিক, সন্ত্রাসী বা পরিকল্পিত হামলা নয়।
স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে। নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে এগুলো ঘটেছে। অন্যান্য ঘটনায় যে ধরনের ক্রিমিনাল কেস হয় এঘটনায় সেই ধরনেরই কেস হয়। সবগুলো মামলাকে এই সমান ভাবে দেখা হয়। কোন মামলাকেই কম বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। এই ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে এগুলো সত্য নয়।


