মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় স্টিল মিলে হামলা, আহত ৮
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২২, ০৫:২১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটির ১৮নং ওয়ার্ডস্থ মুসলিম নগর (পাওয়ার হাউজ) এলাকায় বিসমিল্লাহ স্টিল মিলস এর মালিক মোঃ হাসিবুর রহমান হাসিবসহ ৮ শ্রমিকের উপর চাঁদার দাবীতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদার সালাউদ্দিন চৌধুরী বিটু'র নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং অতর্কিত হামলা করে গুরুত্বর রক্তাক্ত আহত করে। রবিবার ১৫ই মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৯ টার সময় এ মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনার বিষয় প্রত্যক্ষদর্শী বিসমিল্লাহ স্টিল মিলস এর শ্রমিক মোঃ আল আমিন সাংবাদিকদের কাছে জানান, আমাদের কারখানায় শ্রমিকরা রাতে যখন নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলো তখন হঠাৎ ১৮নং ওয়ার্ডের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদার সালাউদ্দিন চৌধুরী বিটু'র নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং অতর্কিত হামলা করে।
এসময় আমাদের কারখানার মালিক মোঃ হাসিবুর রহমান হাসিব তাদের আসার কারন জানতে চাইলে প্রথমে তার উপর বিটু'র হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রধারা অতর্কিত হামলা করে। এ সময় আমাদের কারখানার শ্রমিকেরা মালিক মোঃ হাসিবকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসী বিটুর কিশোর গ্যাং বাহিনী শ্রমিকের উপর পূনরায় দেশীয় অস্ত্র, চাকু,
চাপাতি, লাঠি নিয়ে হামলা করে প্রায় ৭-৮ জন শ্রমিক কে রক্তাক্ত আহত করে। হামলায় শ্রমিক লিমন (২৫) পিতা মো. শাহজাহান, আশিক (২০) পিতা আনিসুর, আরাফাত (২২) পিতা, মো. আসলাম, সোহেল পিতা হাবিব, সেন্টু পিতা আব্দুল কাদির, মনির, পিতা জামাল হোসেন, আমজাদ পিতা মোহাম্মদ আলীসহ অনেকেই গুরুত্বর রক্তাক্ত আহত হয়।
পরে স্থানীয় বাসবাসকারীদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় বিটুসহ সন্ত্রাসী বাহিনী সেখান থেকে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন।
বিসমিল্লাহ স্টিল এর স্বতাধিকারী হাজী মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, চাঁদার দাবীতে এ হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। আমরা এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করি হামলাকারী সন্ত্রাসী বিটু সহ কিশোর গ্যাং কে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হউক।
তবে এবিষয়ে পারহাউজ স্টিল মিলের এর মালিক হাসিবুর রহমান জানান, বেশ অনেক দিন ধরে আমাদের মেইলের সামনে বিটুর নেতৃত্বে কিছু লোক মাদক বিক্রি করে। আমরা প্রায় সময় তাদের বাধা দিতাম যাতে এখানে মাদক বিক্রি না করে। কিন্তু রবিবার রাত ৯টায় আমার মেইলের সামনে বিটু ও কাউন্সিলর মুন্নার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রন নিয়ে মারামারি করে।
সেই মারামারি কে কেন্দ্র করে তারা আমার লোহার মেইলে হামলা চালায়। আমি বিটু ও মুন্নার বাহিনীদের বাধা দিলে তারা আমাকে সহ আমার মেইলের ৭-৮ কর্মচারীদের ও মারধর করে। আমার মেইলের কর্মচারী সোহেল, রিমন, সোহাগ, সাইদুল কে তারা এলোপাঠালি দেশীও অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলা ৪থেকে ৫ জন্য গুরুত্ত আহত হয়।
পরে আহতদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ বিষয়ে লোহার মেইলের মালিক আহত হাসিবুর রহমান জানান, আমি চাই প্রশাসন যাতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা নেন। প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।


