Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

লড়াই সেয়ানে সেয়ানে

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২, ০৩:৫০ পিএম

লড়াই সেয়ানে সেয়ানে
Swapno

# দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও ব্যাপক জনপ্রিয় বাবু
# সোহাগ রনির কপালে চিন্তার ভাঁজ

 

আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য সারাদেশের ৩১টি জেলার ৬১টি উপজেলার ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ম ধাপের নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নও পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গতকাল সোমবার পর্যন্ত মোট পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

 

তবে এদের মধ্যে বেশ কিছু দিন যাবতই সর্বত্র আলোচনা চলছিল আওয়ামী লীগ পরিবারের দুই সদস্য আরিফ মাসুদ বাবু ও শাহ মো. সোহাগ রনির নাম। এর মধ্যে আরিফ মাসুদ বাবু সাবেক এমপি মোবারক হোসেন ও আবুল হাসনাত এর ছোট ভাই এবং আরেক সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের চাচা। তিনি এই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

 

অন্যদিকে শাহ মো. সোহাগ রনি সোনারগাঁ উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শাহজামাল তোতার ছেলে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে নির্বাচনে দলীয় মনোয়নের জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবুর নাম এককভাবে পাঠানো হয়। পরে শাহ মো. সোহাগ রনির নাম সংযুক্তি করে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।

 

তবে নাটকীয়ভাবে গত ১৩ মে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা থেকে সোহাগ রনিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে রাতেই সোহাগ রনি তার নিজের ফেসবুক লাইভে এসে ওই মনোনয়ন প্রাপ্তির খবর জানালে তার অনুগামীরা আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় সেজদা প্রদান করেন সোহাগ রনি।

 

অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিষন্ন হয়ে পড়েন আরিফ মাসুদ বাবু। সেই থেকে এবার নির্বাচন সোহাগ রনির কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং একতরফা নির্বাচন হবে বলে এলাকায় আলোচনা হওয়া শুরু হয়। তবে গতকাল আরিফ মাসুদ বাবুর দল থেকে পদত্যাগসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলে পুরো মোগরাপাড়া বাসী নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। কারণ এখন আর একতরফা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নাই। নির্বাচন হবে সেয়ানে সেয়ানে।

 

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার একটি রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন আরিফ মাসুদ বাবু। এরপর বিকেলে উপজেলার মোগড়াপাড়া বাজারে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

 

এ সময় তিনি বলেন, আমাদের আত্মীয়স্বজনকে যেভাবে আপনারা অনুরোধ করেছেন, আপনাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করার জন্য আমি আজকে দল থেকে পদত্যাগ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর সম্মান রেখে আমি দল থেকে পদত্যাগ করলেও আমি একজন বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর সৈনিক। আমি একজন কর্মী এবং সমর্থক হিসেবে এতবছর হিসেবে যেভাবে ছিল আমি সেভাবেই থাকবো।

 

কিন্তু আপনাদের প্রতি আমার একটি দায়বদ্ধতা আছে। আপনাদের এই ভালবাসা এবং আপনারা আমাকে যে সম্মানটা দিয়েছেন, একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমি ইউনিয়ন পরিষদ চালিয়েছি, সেই হিসেবে আপনাদের অনুরোধ রক্ষা করার জন্য আগামী নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করব।

 

তবে আমি খুব সহজ সরল মানুষ। আপনাদের কাছে আমার একটি অনুরোধ, আপনারা যদি এখন আমাকে বলে দেন যে, আপনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না, তাহলে আমি একটা কথাও বলব না। তাহলে আমি আমার দায়িত্ব শেষ করে চলে যাব।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে যখন মনোনয়ন পেলাম না তখন স্বাভাবিকভাবেই আমার একটু কষ্ট হয়েছে। সারা সোনারগাঁবাসী কষ্ট পেয়েছে। কারণ আজ থেকে ৬৫ বছর আগে আমার বাবা এই আওয়ামী লীগে যোগদান করে। আমার বড় ভাই মোবারক সর্বকনিষ্ঠ এমপি নির্বাচিত হয়।

 

আমার আরেক বড় ভাই আবুল হাসনাত সাহেবকে ২০ বছর এই আওয়ামী লীগ সন্তানের মতো লালন পালন করেছে। কোন দুর্যোগ বা নির্যাতনে আমরা কোনদিনই এলাকা ছেড়ে যাইনি। আপনাদের সাথে আমরা ছিলাম। তারপর আমার ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল কায়সার ওনাকে আপনারা বিশাল ভোটের ব্যবধানে আপনারাই পাশ করিয়েছেন। আমরা মানুষের ভালবাসার টানেই আসি এবং আমরা চেষ্টা করি মানুষ যেন শান্তিতে থাকে।

 

এর আগে সোহাগ রনি জানিয়েছেন, অতীতে হাসনাত পরিবারের হয়ে তিনি রাজনীতি করেছেন, ভবিষতেও হাসনাত পরিবারের হয়েই রাজনীতি করবেন এবং হাসনাত পরিবারেই থাকবেন। তিনি আরও জানান, আমি আমার নেতা প্রয়াত মোশারফ হোসেন ভাইয়ের হাত ধরে রাজনীতি করেছি। তাই এই পরিবারের অবদান আমি ভুলে যাইনি, ভুলবোওনা।

 

উল্লেখ্য এবারের নির্বাচন সম্পূর্ণ ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ২৬ মে। আর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২৭ মে। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণ কার পক্ষে রায় দেয় তা দেখার জন্য আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে মোগরাপাড়াবাসীসহ নারায়ণগঞ্জবাসিকে।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন