Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

স্টিল মিলের সুপারভাইজার থেকে কোটিপতি প্রতারক আতিকুর

Icon

স্টাফ রির্পোটার

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২, ০৪:২৪ পিএম

স্টিল মিলের সুপারভাইজার থেকে কোটিপতি প্রতারক আতিকুর
Swapno

শ্রমিকের দৈনিক রোজের টাকা ও স্টিল মিল এর গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ যাবতীয় খরচের টাকা চুরি ও প্রতারণা করে আজ কোটিপতি আতিকুর রহমান খান। আতিকুর রহমানের দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলা। বর্তমানে তার ঢাকা ধুলাই খাল এলাকায় একটি আলিশান বিশাল বাড়ি রয়েছে। আতিকুর রহমার খান ১৯৯৭ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কুতুব আইল এলাকায় মের্সাস জুয়েল স্টিল রি-রোলিং মিল এ সুপারভাইজার হিসেবে চাকুরী শুরু করেন।

 

পসই সময় তার মাসিক বেতন ছিল তিন হাজার পাঁচশত টাকা। পরবর্তী ২০০১ সালে সেই জুয়েল স্টিল রোলিং মিল এ তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই থেকেই শুরু হয় আতিকুর রহমানের নানা দুর্নীতি সহ সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও মিল মালিকদের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করা। এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও সমাজ সেবক মো.মজিবুর রহমান জানান,

 

আতিকুর রহমান আমার ছোট বোনের স্বামী, বিগত সময় ধরে তিনি নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। আমার বোন এর স্বামী দেখে এলাকার অনেকেই তাকে সম্মান করতেন। কিন্তু বর্তমানে তারা আমার ভাই ও আমার বিরুদ্ধে নানা রকমের মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এলাকায় আমার মান-সম্মান নষ্ট করার জন্য তারা এই সব প্রচারণা চালাচ্ছেন।

 

আমার বোন বলেছেন আমরা নাকি তাদের জায়গা আত্মসাৎ করে রেখেছি, তাদের কোন জায়গা আমরা দেইনাই। আমার চার বোন, চার বোনদের ৩ শতাংশ করে রেজিস্টার এর মাধ্যমে জায়গা তাদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান আমার বোন জামাই আতিকুর রহমান খান মের্সাস জুয়েল স্টিল রি-রোলিং মিল এ ম্যানেজার পদে থাকা কালীন শ্রমিকদের দৈনিক রোজের টাকা কম দিতেন।

 

মালিক শ্রমিকদের যে টাকা রোজ দিতেন, সেই টাকা থেকে আতিকুর রহমান প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ টাকা করে নিজের পকেটে রাখতেন। সেই সময় সেই স্টিল মেইলে ৪০০ জন্য এর উপড়ে শ্রমিক কাজ করত। সেই শ্রমিকদের কষ্টের হাজার হাজার টাকা প্রতিদিন সেই আতিকুর রহমান আত্মসাত করতেন। চাকুরীর ভয়ে প্রতিদিন দিন শ্রমিকরা তাকে চাঁদা হিসেবে সেই টাকা দিতেন।

 

এছাড়াও স্টিল মিলের গ্যাস বিলের টাকা, বিদ্যুৎ বিলের টাকা ও কাস্টম এর টাকা নাম বলে মালিক এর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা সে আত্মসাত করত। মিলরের মেশিন এর কাজ করার নামে নানা অজুহাতে টাকা গ্রহন করা ও রোলিং মিলের শ্রমিকদের পায়ের বুট ও হাতের মোজার নামে বেশি বেশি টাকা সে বিল করে আত্মসাৎ করেন।

 

পরবর্তীতে আতিকুর রহমান স্টিল মিলের চাকুরী ছেড়ে তার মামার সাথে ইট খোলার ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেও তিনি তার মামার সাথে প্রতারণা করে ইটের খোলা থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। ইট খোলার ব্যবসার পরে আতিকুর আবারও ঢাকা ডেমরা এলাকায় প্রভাতী রি-রোলিং মিল নামে একটি স্টিল মিল ভাড়ায় চালায়। সেখানেও তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

তারপর তিনি জালকুড়ি এলাকায় নাছির স্টিল রি-রোলিং মিলের পরিচালনা করেন, সেখানেও একই ভাবে নাছির স্টিল রি-রোলিং এর মালিক নাছির উদ্দিনের মোটা অংকের টাকা নিজের নামে হাতিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন প্রতারক আতিকুর। সেই আতিকুরের প্রতারণার কারণে টাকার শোকে স্টোক করে মারা যান নাছির স্টিল মিল এর মালিক নাছির উদ্দিন।

 

ফতুল্লা শিবু মার্কেট এলাকাস্থ কাঠের পুল এলাকায় আল-ফেরদৌস রি-রোলিং মিল এর ৯০ লক্ষ টাকা সে প্রতারণা করেন। তার এই প্রতারণা কারণে বর্তমানে আল ফেরদৌস স্টিল রি-রোলিং মিল এর জায়গা মেট্রো গার্মেন্টস এর কাছে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে আতিকুর কুতুব আইল এলাকায় খান স্টিল মিলের পার্টনাল হিসেবে ব্যবসা করেন মনির এর সাথে।সেখানেও মার্কেটিং এর কথা বলে ৭০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

এই ৭০ লক্ষ টাকা প্রতারণার কারণে চিন্তায় চিন্তায় মনির অসুস্থ হয়ে পরেন। বর্তমানে মনির এখন চিকিৎসাধিন অবস্থায় আছেন। এ বিষয়ে স্টিল রি-রোলিং মিল এর মালিক জুয়েল জানান, আতিকুর রহমান আমার মিলের ২ বছর আগে ব্যবসা করতেন। সে আমার কাছে ৮৭ লক্ষ টাকা পেতেন, তার এই টাকা আমি পরিশোধ করে দিছি, বর্তমানে সে আমার নামে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে বলছে সে এখনও আমার কাছে টাকা পাবেন। আমি এই প্রতারক আতিকুর এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা চাই।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন