# একবিংশ শতাব্দী শামীম ওসমানের জন্য অপয়া
আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান এমপির জীবণের সবচেয়ে পয়মন্ত সময় হচ্ছে বিগত শতাব্দীর ৯০ এর দশকটি। এই দশ বছরে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করেন। নিজে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গদ দখল করেন এবং নিজ দোসর, সহযোগী ও চেলা চামুন্ডাদের জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্মপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত করেন।
এ সময়ই (১৯৯৬ সালে) তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় শুধু রাজনৈতিক নয়, এ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এমন কি বিচার আচারও পরিচালিত হতো শামীম ওসমানের অঙ্গুলী ইশারায়। শামীম ওসমানের সহযোগী শহরের তারকা সন্ত্রাসী সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, এস এম সায়েম ওরফে অগা মিঠু, টাওয়ার সেলিম প্রমুখকে নানা পদে পদায়ন করে তাদের মাধ্যমেই তিনি তখন শহর নিয়ন্ত্রন করতেন।
গর্বভরে বলতেন, এ শহরে কাউকে বাড়ি থেকে ধরে আনতে আমার পুলিশের প্রয়োজন হয় না। এজন্য আমার ছাত্রলীগের ছেলেরাই যথেষ্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধু সড়কে নির্মিত মঞ্চে বসিয়ে তখন শামীম ওসমান পুলিশকে বলেছেন, তার কোন কর্ম-সহযোগীকে গ্রেফতার করা যাবে না। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তাকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজন মনে করলে তিনিই অভিযুক্তকে পুলিশে তুলে দেবেন।
সে সময় গার্মেন্টস্ জুট, চোরাই তেল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেছে তার সহযোগীরাই। তখন শামীম ওসমান বা তার সহযোগীদের কিছু বলা যেত না। বিরোধী দলীয় নেতাদের হামলা ও মামলার মাধ্যমে তখন শহরছাড়া করা হয়েছিল। তবে, বিগত শতকের শেষ দশক শেষে নতুন শতকের আগমন শামীম ওসমানের জন্য অপয়া ছিল।
কারণ, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে শামীম ওসমান বিএনপির মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। আর এ পরাজয়ের সঙ্গেই খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে ওসমানিয়া সাম্রাজ্য। দলবল নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শমিীম ওসমান। আট বছর দেশে দেশে বেদুঈন জীবণ যাপনের পর ২০০৯ সালে শামীম ওসমান যখন দেশে ফিরে আসেন তখন তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন।
সারাহ বেগম কবরী তখন তার আসনে এমপি এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পৌর মেয়র। দেশে ফিরেই তিনি এ দুজনের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হন। তবে আগেই বলেছি, নতুন সহস্রাব্দীর আগমন ঘটে শামীম ওসমানের পরাজয়ের বার্তা হয়ে। গিয়াসউদ্দিন যার সূচনা। এরপর বিভিন্ন লড়াইয়ে তিনি একের পর এক পরাজিত হতে থাকেন।
২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আইভীর সঙ্গে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনোযার হোসেনকে নিয়ে মাঠে নেমে আবার পরাজিত হন তিনি। আনোয়ার মনোনয়ন পেতে ব্যার্থ হন। ২০০২২ সালের নাসিক নির্বাচনে আইভীকে হারাতে তিনি তৈমূমের পক্ষে নেমেও ব্যার্থ হন। এবারও আইভী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আইভী বিরোধিতা করতে গিয়ে এভাবে একের পর এক পরাজয়ের পরও ক্ষান্ত হননি শামীম ওসমান। আবারও তিনি আইভী বিরোধিতায় নেমেছেন। আইভী চান, গোগনগর, কাশীপুর, এনায়েতনগর, ফতুল্লা ও কুতুবপুর এই পাঁচটি ইউনিয়নকে অন্তর্ভূক্ত করে সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারন ঘটাতে। কিন্তু শামীম ওসমান তা চান না।
তাই তিনি গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বরাবর এক চিঠি দিয়ে উল্লেখিত ৫টি ইউনিয়ন নাসিক অন্তর্ভূক্ত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে, উন্নয়নের স্বার্থে উল্লিখিত ৫টি ইউনিয়ন অধিবাসীরা নাসিক অন্তভ’ক্ত হতে আগ্রহী। এদিকে, রাজনৈতিক মহল মনে করেন, শামীম ওসমান আবারও একটি পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।


