দুঃসময়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে : আনোয়ার হোসেন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২২, ০৮:১৩ পিএম
# এখন বিএনপি, হেফাজত থেকে প্রার্থী এনে দাঁড় করাতে হয়
# খারাপ লোকেরা ঐক্যবদ্ধ, ভাল মানুষেরা বিভক্ত
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জে কোন শামীম, আইভী, আনোয়ারের স্লোগান চান না বরে মন্তব্য করেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সভায় কোন ভাই বা বোনের নামে স্লোগান না দেয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, কেননা স্লোগান হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। মঙ্গলবার ১৭ মে বাদ আসর মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন,
আগামী নির্বাচনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা দিবে আমরা তার পক্ষে থেকে কাজ করে যাবো। আমরা বিগত দিনে নৌকা ছেড়ে লাঙলের জন্য কাজ করেছি। ব্যালট ছিনতাই করে লাঙলের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছি। এটা যদি না থামানো যায় তাহলে সমস্যা হবে।
আজ যদি নির্বাচন হয় এ পরিস্থিতিতে আমাদের জয়লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই দলকে সংগঠিত করতে হবে। আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে এখন আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিতে পারে না। এখানে বিএনপি, হেফাজত থেকে প্রার্থী এনে দাঁড় করাতে হয়। আর তারা নির্বাচিত হয়ে বলে নৌকা না হলে আরও বেশি ভোট পেতাম।
বন্দরে আমাদের নেতারা মার খাচ্ছে। তাদের বাড়িঘর লুট করা হচ্ছে। আর সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতারা হাওয়া খায়। শেখ হাসিনা রাতদিন আওয়ামী লীগের জন্য দেশের জন্য কাজ করছে। তার সকল কাজ আমাদের মত কিছু নেতার জন্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আসুন নিজেদের শুধরাই। দল বাচলে আমরা বাচব। তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে শক্তিশালি করার মাধ্যমে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন আওয়ামীলীগের বিপর্যয় হয়েছিল তখন অনেককেই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। বিপর্যয় নামলে কী হবে তা চিন্তা করা মুশকিল। আমরাতো আর পালাতে পারব না। আমাদের এখানেই মার খেতে হবে। আজ একজন বিপদগ্রস্ত হলে আমরা তার পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করি। দলের নেতা হয়ে চাঁদাবাজি মাস্তানি করব এটা হবে না।
আজ খারাপ লোকেরা ঐক্যবদ্ধ, ভাল মানুষেরা বিভক্ত। সকলের মাঝে একতা সৃষ্টি করতে হবে। আসুন এ নির্বাচনে মোকাবিলা করার জন্য কাজ করি। সকলের কাছে অনুরোধ বিভ্রান্ত হবেন না। দল এগিয়ে আসলে আমরা এগুতে পারব। দলকে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়ার শপথ নেই।
দলীয় নানা ইস্যু টেনে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, আজ নেতায় নেতায় কর্মী কর্মীতে ঐক্য থাকতে হবে। আনোয়ার, আইভী, শামীমের স্লোগান চাই না। কারণ শেখ হাসিনা বাঁচলে আইভী, শামীম, আনোয়ার বাঁচবে। সংগঠনকে প্রাধন্য দিতে হবে। সংগঠন শক্তিশালি হলে নেত্রীর হাত শক্তিশালি হবে। আজ আমাদের নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। আজকের এ দিনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন।
এসে তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আপনারাই আমার মা আপনারাই আমার ভাই। আমি তখন ছাত্রলীগের সভাপতি। সেদিন শত শত ট্রাক নিয়ে নেত্রীকে সংবর্ধনা দিতে গিয়েছিলাম। নেত্রী আমাদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানালেন। নেত্রী দেশে ফিরে তখন বলেছিলেন জাতির জনক চলে গেছে। তার স্বপ্ন অসমাপ্ত। আমি তার স্বপ্ন পূরণে আপনাদের সহায়তা চাই।
আজ জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী না হলে বঙ্গবন্ধুর বিচার পেতাম কিনা জানি না, এ দেশ এত উন্নত হত কী না জানি না। তাই এই সরকারের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই বলি ৭৫ সালের আগে আমরা যখন ছাত্র নেতা তখন দেখতাম বঙ্গবন্ধু চতুর্দিক থেকে বেষ্টিত থেকে বলত এক নেতা এক দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। আমাদের মত সাধারণ কর্মীরা তাদের জন্য ঢুকতে পারিনি। আমরা ভয় পেতাম। বঙ্গবন্ধু বলতেন আমি চাল ডাল ভিক্ষা করে আনি তারা লুটেপুটে খায়। এক সামরিক কর্মকর্তা বলেছিলেন হায়েনারা দেশ লুটেপুটে খাচ্ছে।
আমি যদি আবার যুদ্ধের ডাক দেই তোমরা থাকবে না। তারা হ্যা বলেছিল। আমরা আজও সেই একই দৃশ্য দেখছি। জাতির জনকের কন্যা অনেক কাজ করছেন কিন্তু তা বৃথা হয়ে যাচ্ছে। কারণ আমরা তার উন্নয়ন প্রচার করতে পারছি না।
আমরা নিজেদের নিয়ে ব্যাস্ত। আমরা একজন আরেকজনকে পিছুটান দিয়ে রাখি। একজন আরেকজনকে নেতা হতে বাধা দেই। শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে চায়। কিছুদিন আগে মীর্জা আজম বললেন সৎ নেতৃত্বকে ঘর থেকে বের করে এনে নেতৃত্ব দিতে হবে।
তবে তার লক্ষন দেখছি না। শেখ হাসিনার কাছে সব মেসেজ যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে জয়ী করার জন্য আমাদের আট ঘাট বেধে মাঠে নামতে হবে। সেই সাথে শেখ হাসিনাকে জয়ী করার জন্য সকলে ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যাতে করে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ছোয়ায় দেশ আরও এগিয়ে যায়।


