# কথা না শুনলেই ঘটে হত্যার ঘটনা
নারায়ণগঞ্জসহ নগরীরর আশ পাশের এলাকা গুলোতে একাধিক অটো ইজিবাইক ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে। যাদের কাজ হলো অসহায় পরিবারের অটোরিক্সা চালকদের টার্গেট করে যাত্রীবেসে দূরে নিয়ে কিছু খাওয়াইয়া অজ্ঞান করে অটো ছিনতাই করে নেয়া। আবার অনেক ক্ষেত্রে অল্পবয়সী অটো চালকদের যাত্রী সেজে দূরে নিয়ে তাকে অস্ত্র দেখিয়ে অটো বা ইজিবাইক ছিনতাই করে নেয়।
এই অপকর্মের হোতারা বেশি বয়সের না। আলীরটেক সহ নগরীর পার্শবর্তী এলাকাতে এমন একাধিক চক্র রয়েছে। যাদের কাছের অনেক অটো বা ইজিবাইক চালক নিঃস্ব হয়েছে। কিছ ক্ষেত্রে প্রশাসন কয়েকটি উদ্ধার করলেও বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এছাড়া গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকজন ইজিবাইক চালক ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে গত কয়েক দিন আগে জেলার সদর উপজেলার আলীরটেক ইউপিতে সিয়াম সরদার নামে এক অটো মিশুক চালক চাঞ্চল্যকর “সিয়াম” হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।এ সময় তাদের কাছ থেকে নিহত সিয়ামের অটো উদ্ধার করা হয়। এই অটোর জন্য সিয়ামকে জীবন দিতে হয়। তার মত একই ভাবে যাত্রী বেসে সজীব নামে এক অটো চালককে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়।
পথে মধ্যে যাত্রীরা অটো চালককে বিস্কুট খাওয়া অজ্ঞান করে তার অটো ছিন্তাই করে নিয়ে যায়। ভূক্তভোগি সজিব হুশ ফিরে দেখে সে একটি রাস্তায় বসে আছে এবং তার সাথে থাকা অটো নেই। তখন আর বুঝতে বাকি নাই যাত্রী বেসে থাকা অটো ছিন্তাইকারীর তার অটো নিয়ে গেছে। সিয়াম হত্যাকারীরার ধরা পরলেও অন্যারা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যায়।
তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন কঠোর নজর দারি রাখে সেই দাবী উঠেছে। গ্রেফতাররা হলো- জুম্মান (১৮) ও মো. হাসান (১৯)। রবিবার (২২ মে) মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী আলদি বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক সিয়াম হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামীকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১’র সদস্যরা।
শুক্রবার (২০ মে) র্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আলীরটেক এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আলীরটেক এলাকার মো: ইয়ামিন (১৯) ও মো: নবী হোসেন।
সোমবার (২৩ মে) র্যাব-১১’র উপ-পরিচালক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে।
তাদের দেওয়া তথ্য মতে এ আসামীরা পরষ্পর যোগসাজসে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে সিয়ামকে খুন করে অটোরিক্সাটি নিজেদের দখলে নেয় এবং গ্রেপ্তার এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। আসামী জুম্মানের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো মোতাবেক মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী আলদি বাজার থেকে অটোরিক্সাটি উদ্ধার করা হয়। এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়।


