Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষার্থীদের রোদে বসিয়ে আয়োজকরা লাপাত্তা!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২২, ০৯:১৪ পিএম

ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষার্থীদের রোদে বসিয়ে আয়োজকরা লাপাত্তা!
Swapno

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগীতা-২০২১ অনুষ্ঠান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হয় জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগীতা-২০২১।

 

শিক্ষা ও সাংষ্কৃতি বিষয়ক এবং ক্রীড়া এই দুইটি বিভাগে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি উপজেলা থেকে যাচাই বাছাই শেষে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহনের জন্য চুড়ান্ত হয় ৩৭০ জন শিক্ষার্থী।

 

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে যথা সময়ে প্রতিযোগীতা শুরু হলেও ক্রীড়া বিভাগে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা পড়েছে ভোগান্তিতে।  মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল ১০ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কাউকেই মাঠে আসতে দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অনেকে বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিযোগীতায় অংশ না নিয়েই হতাশ হয়ে চলে গেছেন। দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পৌর ওসমানী স্টেডিয়ামে জেলা শিশু একাডেমি ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগে পেক্ষিতে সেখানে গেলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।


তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগীতা-২০২১ এর আয়োজন করা হয়। প্রথমে এই প্রতিযোগীতা জেলার উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়। ১৭ মে উপজেলা পর্যায়ের সকল কার্যক্রম শেষ হয়। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত ও প্রতিযোগীদের তালিকা পাঠানো হয় জেলা পর্যায়ে। তবে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে উপজেলা পর্যায়েও একই তালে, এমন অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শিক্ষক ও অভিভাবকদের।


এর আগে গত রোববার (২২ মে) শহরের চাষাঢ়া এলাকার শিশু কল্যান আদর্শ প্রথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামেও সকাল ১০টার কথা বলে দুপুর ১ টায় শুরু করেন তারা। গতকালও একই অবস্থা। সকাল ১০টায় সময় দিয়ে দুপুর ১২ টার মধ্যেও মাঠে আসেননি কেউই। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিযোগীতার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুই জন রেফারী আসলেও মাঠ প্রশাসন,

 

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা কিংবা জেলা শিশু একাডেমির কেউই আসেননি মাঠে। অবশেষে আগত শিক্ষক ও অভিভাবকদের চাপে পড়ে বিভিন্ন স্কুল থেকে আগত শিক্ষকদের সহযোগীতায় দুপুর ২টায় প্রতিযোগীতা শুরু করেন তারা। পরে ক্রীড়া বিভাগের ৬টি ইভেন্ট বেলা তিনটায় শেষ করেন। এদিকে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতা প্রসংঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক।

 

নারায়ণগঞ্জের কালিরবাজার এলাকার সরকারি আইইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাবু সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমরা বাচ্চাদের নিয়ে এই গরমের মধ্যে সকাল থেকে বসে আছি। এখন দুপুর ১টা বাজে তাদের কোন খবর নাই। থাকবে কি করে? তারাতো এসিতে (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) বসে অফিস করেন।

 

এখানে বাচ্চারা গরমে কি কষ্ট করছে তাদেরতো আর এইসব ভাবার সময় নাই। এই পর্যন্ত পাঁচবার টেলিফোন করেও তাদের দেখা পেলাম না। আর অপেক্ষা করবো না বাচ্চা খুব বিরক্ত করছে চলে যাব। আমাদের এনে এইভাবে হয়রানি করার কোন মানে হয় না। তবে আমি জেলা প্রশাসনে এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিব।

 

নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকার ৬৮নং হরিহরপাড়া স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, আমরা সেই সকাল থেকে বসে আছি। সকাল গড়িয়ে এখন দুপুর হয়েছে, অথচ আয়োজকদের কোন দেখা নাই। তারা বড় পোষ্টে আছেন বলে তাদেরকে কিছু বলাও যায় না। শিশুদের এই গরমে এত সময় অপেক্ষা করানোর কোন অর্থ নেই।

 

রূপগঞ্জ থেকে আসা বেশ কয়েকজন প্রতিযোগী বিরক্ত হয়ে চলে গেছেন ইতোমধ্যে। আমরা যারা আছি কি করবো বুঝতে পারছি না। অপেক্ষা করতে করতে তিন ঘন্টা পার হল। আর তাছাড়া এখানে বসারও কোন ব্যবস্থা নেই। আর অজকের গরমটাও খুব অসহনীয়। বেলা ২টায় ও কেন প্রতিযোগীতা শুরু করা গেল না জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন ভুইয়া জানান, তিনি এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

 

জেলা শিশু কর্মকর্তা ইশরাত জাহান সকাল সোড়ে ১১টায় তার অফিসে গিয়ে অবগত করেন। তবে তিনি সে সময় অফিসে ছিলেন না। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ-২০২২ এর ফাইনাল খেলা ও পুলষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বিষয়ে জেলা প্রশাসনের মিটিং এ ছিলেন।

 

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকতা বলেন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসনে মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় কিছুটি দেরি হয়েছে বলে দুঃক্ষ প্রকাশ করছি। আমি নিজে সেখানে যেয়ে তার পিয়নের কাছে কাগজপত্র ও খরচের টাকা দিয়ে আসছি। তিনি আমার কাছে দু’জন সহযোগী চেয়েছেন, আমি তারও ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উনি রূপগঞ্জ গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ডিসি অফিসে মিটিং শেষ করতে কিছুটা সময় চলে যাওয়ায় দেরি হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন