Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বিচারে দীর্ঘসূত্রিতায় হতাশায় পরিবার

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২২, ০৭:০২ পিএম

বিচারে দীর্ঘসূত্রিতায় হতাশায় পরিবার
Swapno

# মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখে আসামিরা
# নানামুখী চাপে ভুক্তভোগীর পরিবার

 

দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি প্রতি মাসে মোমবাতি প্রজ¦জলন করে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত ত্বকী হত্যার পূর্ণাঙ্গ চার্জশীট জমা হয় নাই। কবে নাগাদ জমা হবে ভুক্তভোগী পরিবারও জানেন না। অভিযোগ রয়েছে এই হত্যা মামলার সাথে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক পরিবার জড়িত থাকায় এখনো বিচারকার্য শ্লথ।

 

তবে ভুক্তভোগী পরিবার বিচারের আশা ছেড়ে দেন নাই। যতদিন বিচার না হবে ততো দিন বিচারের দাবী জানিয়ে যাবেন। এরকম আরও নারায়ণগঞ্জে অনেক হত্যা মামলা আছে যেগুলোর বিচার দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো বিচার শেষ হয়নি। ভুক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ অনেক হত্যা মামলার  ক্ষেত্রে চার্জশীট জমা পড়তেও দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে।


হত্যা মামলা গুলোর পরিবার থেকে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদী বিচারিক কার্যক্রম চলায় অনেকের অর্থাভাবে মামলা চালাতে কষ্ট হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে মামলার রায় হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না।

 

হয়ে আটকে থাকে। তবে গুটি কয়েক হত্যার বিচারে সন্তুষ্ট থাকলেও বেশিরভাগ বিচার কার্যক্রম দীর্ঘ মেয়াদি হওয়ায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। বিষেশ করে বিভিন্ন হত্যায় নিহত পরিবারের মাঝে বিচার না হওয়া পর্যন্ত কষ্ট থাকে। যা তাদের চোখের পানি দিয়েও বুজাতে পারে না। হত্যা মামলা গুলোতে প্রথম দিকে প্রশাসন তৎপর হলেও মাঝপথে গিয়ে মামলার ধীর গতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তার মাঝে আবার অনেক হত্যায় প্রভাবশালি মহল জড়িত থাকলে তা নিয়ে বিভিন্ন রঙের খেলা চলে।

 

অনেকন সময় মামলার এজহার কপিতে নামেরও পরিবর্তনেওে অভিযোগ পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে আসামীদের খুঁজে পাওয়া যায় না বলে দায় সারেন। তার মাঝে প্রভাশালীদের ক্ষেত্রে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকিতো আছেই। এছাড়া গুটি কয়েক মামলায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আপোষও হয়ে যায়। সব মিলিয়ে হত্যা হওয়া নিহত পরিবারের মাঝে বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ জমে থাকে।


সম্প্রতি  ঢাকার সন্তান হারা এক পিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কার শাস্তি চাইব? বিচার নাই, বিচার কার কাছে চাই ব— কথাগুলো দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত সামিয়া আফনান জামাল প্রীতির বাবা জামাল উদ্দিনের। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে গত ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন কলেজছাত্রী প্রীতি (২২)। তখন সন্তান হারানোর শোকে কাতর সামিয়ার মাও বলেছিলেন, 'বিচার চাই না। শুধু মেয়ের লাশ আমাকে পৌঁছে দিলেই হলো।


সন্তান হত্যার বিচার না চাওয়ার এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর। সেদিন রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে খুন হন প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন (৪৩)। নিহত দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ছেলে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ, হতাশ এই বাবাও সেদিন বলেছিলেন, 'আমি কোনো বিচার চাই না।

 

আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে কতটা কষ্ট ও হতাশা বুকে চাপা দিয়ে কোন পরিস্থিতিতে কোনো বাবা-মা সন্তান হত্যার বিচার চাইতে অপারগতা প্রকাশ করেন?


কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যার ক্ষেত্রে ভিন্ন ঘটনা দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ অপহরণের ২ দিন পর রফিউর রাব্বির ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা-খাল থেকে।

 

এর এক বছর পর সংবাদ সম্মেলন করে কোথায়, কার নির্দেশে, কীভাবে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছিল তার বিস্তারিত জানিয়েছিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। কিন্তু আজও এই আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। তবু ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি প্রতি মাসের ৮ তারিখে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আজও মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেই যাচ্ছেন। ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিচারের দাবী জানিয়ে জাবেন বলে জানান ত্বকীর পিতা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।

 

সম্প্রতি নগরীরর দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা ২০২০ সালের ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পশ্চিম দেওভোগ আদর্শ নগর এলাকার শ্যামলের গ্যারেজে শরীফ মাদবরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। চাঞ্চল্যকর শরীফ মাদবর হত্যা মামলার ইতোমধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দুটি চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে। গত বছরের ২২ জুন আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ইন্সপেক্টর মো. শাহজাজান মিয়া।

 

যার নং ৩৭২ ও ৩৭২ (ক)। এখানে সাক্ষী দেখানো হয়েছে ৩৬ জনকে। আদালতে চার্জশিটটি গৃহিত হয়েছে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে আলমগীরতে এলোপাথারি পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় বক্তাবলী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফারুকে আসামী করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ্য করে মামলা হয়।

 

এই ঘটনায় ফারুক মেম্বার গ্রেপ্তার হয়েও বর্তমানে জামিনে আছেন। ১৩ আসামি গ্রেপ্তার হয়ে রিমাণ্ড শেষে কারাগারে আছেন। নিহত আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগ তাদের জামিনের জন্য ফারুক মেম্বার মোটা অঙ্কে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। আর এজন্য নিহতের পরিবারের বুকের মাঝে কষ্টের চাপা জমে আছে। সেই সাথে আলমগীরের স্ত্রী জানান এই ভাবে যদি টাকার জোরে আসামীরা জামিন পেয়ে জান তাহলে আমার স্বামীর বিচার পাওয়ার আশা কিভাবে করবো। গ্রেপ্তারকৃত ১৩ আসামী যেন কোন ভাবে জামিন না পান আমি তার দাবী জানাই।


নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে চারটির বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এই হত্যাকান্ড কিশোরগ্যাং ধারা হয়েছে। সদর উপজেলার  আলীরটেকে ইটভাটা থেকে ডিক্রিরচর এলাকার সিয়াম সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসন। এই হত্যায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। এছাড়া নগরীর দেওভোগ শুব্রত ২২ নামে এক কিশোরকে নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

তার আগে ইসদাইর এলাকায় ধ্রুব নামে দশম শ্রেনীর ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একের পর এক হত্যা নিয়ে আতঙ্কে নগরবাসী। এই সকল হত্যার বিচার নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার হতাশা প্রকাশ করেন। সব কিছু মিলিয়ে সচেতন মহল মনে করেন হত্যা মামলা গুলোর বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত হলে ভুক্তভোগি পরিবারের বিচার না পাওয়ার হতাশা থাকবে 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন